default-image

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য ২২ আগস্ট বাংলাদেশ ও মিয়ানমার নতুন সময়সীমা ঠিক করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স মিয়ানমারের একজন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। বিষয়টি অস্বীকার করেনি বাংলাদেশ। তবে গতকাল রোববার রাজধানীতে এক আলোচনায় পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হক এই সময়সীমা নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।

পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘প্রত্যাবাসন যেকোনো সময় শুরু হতে পারে। পর্দার অন্তরালে অনেক কিছু হচ্ছে, চেষ্টা হচ্ছে। তবে সব চেষ্টা সফল হবে এমন নয়। আগামী কয়েক সপ্তাহ আমরা রোহিঙ্গাদের নিজেদের দেশে ফিরে যেতে উৎসাহিত করতে থাকব। এটা শুধু বাংলাদেশের না, এটা রোহিঙ্গাদেরও প্রধান উদ্দেশ্য। যদি তারা ফিরে না যায়, তবে শুধু জমির অধিকার নয়, তারা তাদের সব অধিকার হারাবে।’ 

রাজধানীর ইস্কাটনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস-বিস) মিলনায়তনে রোহিঙ্গাদের নিয়ে লেখা একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রসচিব। 

শহীদুল হক বলেন, প্রত্যাবাসন বাংলাদেশের কাছে সব সময় একটি অগ্রাধিকার এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে। অনেকে রোহিঙ্গা সমস্যাকে বাংলাদেশ বনাম মিয়ানমারের সমস্যা বলে বর্ণনা করে। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। এটি প্রকৃতপক্ষে মিয়ানমার এবং তাদের লোকজনের মধ্যে সমস্যা। 

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান তিনটি। প্রথমটি প্রত্যাবাসন; পরেরটি পুনর্বাসন এবং সর্বশেষটি সমাজে আত্মস্থ করে নেওয়া (রিইন্টিগ্রেশন)। তবে বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে তাদের (রোহিঙ্গা) আত্মস্থ করার সুযোগ নেই।

চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ বলেন, পুরো ঘটনায় কয়েকজন জেনারেল, কয়েকজন বৌদ্ধ নেতা ও কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা সুবিধা নিচ্ছেন এবং গোটা মিয়ানমারকে বিপদে ফেলছেন। 

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সন্ত্রাস দমন ও সহিংস উগ্রপন্থা দমনবিষয়ক দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জন গডফ্রে গতকাল বিকেলে পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক সূত্র জানায়, আলোচনার ফাঁকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সর্বশেষ অবস্থান জানতে চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল। এ সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২২ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য যা যা করা দরকার, সবকিছুই বাংলাদেশ করছে। নিজেদের দিক থেকে প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে জাতিসংঘের সহায়তাও চাওয়া হয়েছে। মূল বিষয়টি হচ্ছে বাংলাদেশ প্রত্যাবাসনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিলেও রোহিঙ্গাদের ফেরাটা যাতে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে হয়, সে বিষয়টিতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। 

মিয়ানমার সরকার গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিশনের একটি প্রতিনিধিদল গতকাল সকালে পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে তাঁর দপ্তরে আলোচনা করেন। এ সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানতে প্রতিনিধিদলের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তদন্ত প্রতিবেদন কোথায় উপস্থাপন করা হবে। প্রতিবেদনের তথ্য কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে, যেসব রোহিঙ্গার বক্তব্য কমিশন নেবে তাদের সুরক্ষা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক কোনো উত্তর ওই প্রতিনিধিদল দিতে পারেনি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন