default-image

ব্যবসায়ী অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় করা মামলার চার সপ্তাহ পরও পলাতক দুই সদস্যকে শনাক্ত করতে পারেনি র‌্যাব। তবে মামলা তদন্তের সঙ্গে যুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, ওই দুই সদস্যকে শনাক্ত করা গেছে। তাঁদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে র‌্যাব সদর দপ্তরেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। র‌্যাব থেকে তথ্য পাওয়ার পর ওই দুজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


এদিকে অপহরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া র‌্যাবের তিন সদস্যের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর তাঁদের নিজ বাহিনীতে (যে বাহিনী থেকে র‌্যাবে পদায়ন করা হয়েছিল) পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়ে র‌্যাব কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে চাননি।


রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকার বাসিন্দা তামজিদ হোসেনকে অপহরণের পর ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি আদায় করতে গিয়ে ১ এপ্রিল ধরা পড়েন র‌্যাবের তিন সদস্য, বিমানবাহিনীর এক করপোরাল এবং এক নারী। এ ঘটনায় করা মামলার আসামিরা হলেন র‌্যাব সদর দপ্তরের অপারেশন উইংয়ে কর্মরত ল্যান্স করপোরাল দুলাল মৃধা, ইন্টেলিজেন্স উইংয়ে কর্মরত সৈনিক মো. রোকন মিয়া, তদন্ত ও ফরেনসিক বিভাগে কর্মরত সৈনিক মো. সাগর, বিমানবাহিনীর ল্যান্স করপোরাল মো. রনি এবং বাগেরহাটের শরণখোলার বাসিন্দা রানু বেগম। র‌্যাবের ওই তিন সদস্য এসেছিলেন সেনাবাহিনী থেকে।

বিজ্ঞাপন


পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে, অপহরণে জড়িত ছিলেন র‌্যাবের আরও দুই সদস্য। তাঁদের ঘটনার সময় গ্রেপ্তার করা যায়নি।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুব্রত দেবনাথ প্রথম আলোকে বলেন, অপহরণের ঘটনায় র‌্যাব সদর দপ্তরের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের সৈনিক রাকিব ও অপারেশন উইংয়ের মোবারকও ছিলেন বলে তদন্তে শনাক্ত করা গেছে। দুজনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে গত মঙ্গলবার র‌্যাব সদর দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।


তবে যে দুজনকে পলাতক বলা হচ্ছে, তাঁরা র‌্যাবের সদস্য কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে গতকাল প্রথম আলোর প্রশ্নের জবাবে জানান র‌্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তিনি বলেন, তানজিম নামের যে ব্যক্তি অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তাঁকে এখনো র‌্যাব জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেনি। ঘটনা সম্পর্কে কথা বলার জন্য বাসায় গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি।


খন্দকার আল মঈন বলেন, অভিযুক্ত তিন র‌্যাব সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে নিজ বাহিনীতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাহিনীতে চূড়ান্ত অনুসন্ধান শেষে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপহরণের শিকার তামজিদ হোসেন আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, র‌্যাবের সদস্যরা তাঁকে ক্রসফায়ারের হুমকিও দিয়েছিলেন। তাঁর পরিবারের কাছে মুক্তিপণ বাবদ প্রথমে দুই কোটি টাকা চাওয়া হয়। পরে ১২ লাখ টাকা দিতে তাঁর পরিবার সম্মত হয়েছিল।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন