default-image

দুনিয়া জুড়ে চলছে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণের কাল। সারাবিশ্বেই ছড়িয়ে পড়েছে এই মহামারি। মৃত্যুর তাণ্ডব চলছে দেশে দেশে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী আট লাখেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এই ভাইরাসে। লাশের সারি সাড়ে তিন লাখের বেশি। 

চীনে শুরু হলেও ইউরোপ আর উত্তর আমেরিকায় মৃত্যুর মিছিল ডেকে এনেছে করোনাভাইরাস। অন্য অনেক দেশের তুলনায় শুরুতে বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি অনেকখানিই নিয়ন্ত্রনে থাকলেও এটা এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। দিনে দিনে বেড়েই চলেছে আক্রান্তদের সংখ্যা, সঙ্গে বেড়ে চলেছে মৃত্যুর মিছিল। দেশের সঙ্গে সঙ্গে ছোট বড় শহর লকডাউনের পথে বাদ যাচ্ছে না গ্রামগুলোও। কিন্তু আমরা কি আদৌও এই লকডাউন মেনে চলছি? একটুও কি সতর্ক হচ্ছি? নাহ, আমরা এ সবের ধার ধারি না। কারন আমরা মনে করি আল্লাহ যারে দিবে তারই হবে তাহলে সতর্কতার কি প্রয়োজন-এই হলো আমাদের মতো সো-কলড বাঙালীর কথা। আল্লাহর উপর ভরসা তো আমাদের রাখতেই হবে সঙ্গে সতর্কতা ও প্রয়োজন।
জাতিসংঘ তথ্য কেন্দ্র জানিয়েছিল, সারা বিশ্বের মতোই বাংলাদেশে এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়া রোধ করার জন্য জলদি কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। জনগণের প্রতি প্রতিরোধমূলক সব ব্যবস্থা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়। এতে বলা হয়, সরকার, জাতিসংঘের সংস্থা, নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দেশব্যাপী স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও জোরদার করার জন্য কিছুটা সময় পাবে। আর তার ফলে বাংলাদেশ এই মহামারি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে পারবে বলেও প্রতিবেদনে আশা প্রকাশ করা হয়েছিলো।
এদিকে দিন দিন বেড়েই চলছে লকডাউনের দিন। গণপরিবহণ বন্ধ। মাসকে মাস ঘরে আটকে গেছে হাজারো মানুষ। ঈদ থাকলেও বাড়িতে আসতে পারতেছে না কেউই। তাও দেখা যায় সচেতনতার বেড়জাল ভেঙে মাঝ রাতে বাড়ির পথে ফিরছে মানুষ দলে দলে, কেউ মাইক্রোবাসে কেউ সব্জির ট্রাকে কেউবা মোটরযানে। গ্রামাঞ্চলেও ঢুকছে এই মোটরযানের মাধ্যমে। সরকার সঠিক পদক্ষেপ নিলেও নিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় এতোদিন করোনা মুক্ত থাকলেও গত ২৩ মে স্থানীয় এক মাছ ব্যবসায়ীর শরীরে পাওয়া গেছে করোনাভাইরাস। এদিকে আবার শোনা যাচ্ছে কলাপাড়ার মহিপুরের এক গ্রাম্য ডাক্তার মারা গেছে করোনা নিয়ে। এমন ক্রান্তিলগ্নে মোটরযানের মাধ্যমে গ্রাম থেকে গ্রামে শহর থেকে শহরে লোক ঢুকছে এমনকি তারা এসেই সবার সাথে মিশছে। প্রশাসন ও কিছু করছে না।
দেশের অনেক এলাকায় করোনায় শনাক্ত হওয়ার সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে। এর পরও মানুষের মধ্য অসচেতনতা ততই বাড়ছে। ঈদের দিনেও ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর কত অসচেতন হবো আমরা? কবে বুঝবো আমরা? এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজারের বেশি। মৃত্যু সংখ্যা ৫৫৯ জন। আর এর মধ্যও গ্রামে লোক ঢুকছে রাত-বিরেতে। কেউ মানতে চাইছেন না কোয়ারেন্টিন। গ্রামের প্রশাসন ও কঠোর হচ্ছে না।
সরকারের কাছে অনুরোধ, গ্রামগুলোর দিকে একটু দৃষ্টি দিন। সেনাবাহিনীর, পুলিশ ইত্যাদি শহরে নয় আমার মতে গ্রামে দরকার, গ্রামের মানুষই বেশি অসচেতন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0