মানিকগঞ্জের শিবালয়ের পাটুরিয়া ফেরিঘাটের অদূরে পদ্মায় লঞ্চডুবির ঘটনায় শিবালয় থানায় মামলা হয়েছে। দুর্ঘটনার জন্য প্রধানত দায়ী কার্গো নারগিস-১-এর মাস্টার ও তিন লস্কর এবং দুর্ঘটনার শিকার লঞ্চের মাস্টার, সারেং, সুকানি ও সহযোগীদের আসামি করা হয়েছে এ মামলায়। কিন্তু বাদ দেওয়া হয়েছে নৌযান দুটির মালিকদের।
পাটুরিয়া নৌ-ফাঁড়ি পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মোকতাদের গত সোমবার এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় মৃত্যুর ঘটনার জন্য বেপরোয়া গতিতে জাহাজ ও লঞ্চ চালানোকে দায়ী করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, এ ঘটনায় কার্গো ও লঞ্চের মাস্টার ও তাঁদের সহযোগীরা সমানভাবে অপরাধী।
যাঁদের আসামি করা হয়েছে: মামলায় কার্গোর মাস্টার ইকবাল হোসেন এবং লস্কর শাহিনুর রহমান, শহিদুল ইসলাম ও জহিরুল ইসলামের নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে। পরে মামলাটিতে গ্রেপ্তার দেখিয়ে এই তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এদিকে মামলায় লঞ্চমাস্টার, সারেং, সুকানি ও সহযোগীদের আসামি করা হলেও তাঁদের কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি।
মামলায় লঞ্চের আসামিদের নাম উল্লেখ না করা প্রসঙ্গে শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান বলেন, লঞ্চে কর্মরত অনেকেই মারা গেছেন। অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। এ কারণে তাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
তবে পাটুরিয়া লঞ্চঘাটে কর্মরত কাউন্টার মাস্টার আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনার সময় লঞ্চটির মাস্টারের দায়িত্বে ছিলেন আফজাল হোসেন। তিনি জীবিত উদ্ধার হয়ে পর বিশ্রামে আছেন।’
আসামি করা হয়নি মালিকদের: মামলায় লঞ্চের মালিক আবদুর রহিম খান ও কার্গো নারগিস-১-এর মালিককে আসামি করা হয়নি। তাঁদের আসামি না করায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণেই পুলিশ তাঁদের আসামি করেনি।
এ ব্যাপারে এসআই আবদুল মোকতাদের বলেন, তদন্তে প্রমাণিত হলে লঞ্চ ও কার্গোর মালিককে পরবর্তী সময়ে আসামি করা হবে।
যাঁদের সন্ধান মেলেনি: বগুড়ার গাবতলী উপজেলার গাবতলী এলাকার আবদুস সামাদের ছেলে মোস্তফা মেহফুজ (৩৫), ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার দলিলপুর গ্রামের নাজমুল হোসাইনের মেয়ে মারুফা আক্তার (৫), মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার দক্ষিণ তেওতা গ্রামের আবুল হাসেম (৬০), একই উপজেলার এলাচিপুর গ্রামের সোহরাব হোসেন (৬০), ঘিওর উপজেলার চর দুশন্দ গ্রামের হাবিব মোল্লার ছেলে মান্নু পাগলা (৬৫), রাজবাড়ীর পাংশ উপজেলার নাচনা মুরাদপুর গ্রামের মৃত সেকেন আলীর স্ত্রী অজিরুন্নেছা (৩৮), নড়াইলের লোহাগাতি উপজেলার লঙ্কার চর গ্রামের মৃত হাসেম শেখের স্ত্রী সাহেদ বেগম (৪৫), একই উপজেলার লম্বার চর গ্রামের হামিদা বেগম (৫০), মরাগাতি উপজেলার আইয়ুব আলীর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৬৫), কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার যাদবপুর গ্রামের লিপি খাতুন (৬৫) ও ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নূর ইসলামের ছেলে জুয়েল রানা (২৭)।
গতকাল দুপুরে নিখোঁজ মোস্তফা মেহফুজের সন্ধানে পাটুরিয়ায় আসেন তাঁর খালাতো ভাই তানভীর আহমেদ। তিনি জানান, মোস্তফার সন্ধান না মিললেও ডুবে যাওয়া লঞ্চ থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যাগের ভেতর তাঁর পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে।
এক নারীর পরিচয় এখনো মেলেনি: লঞ্চডুবির ঘটনায় ৭১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তাঁদের মধ্যে প্রায় ৪০ বছরের এক নারীর পরিচয় মেলেনি। গতকাল স্বজনদের না পাওয়ায় তাঁর লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ব্যাপারে ওসি রকিবুজ্জামান বলেন, লাশের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের জন্য ওই নারীর লাশ ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। স্বজনদের দেখা না মিললে সেখান থেকে লাশের সৎকারের জন্য আঞ্জুমান মুফিদুলে পাঠানো হবে।
নরেন্দ্র মোদির শোক: জি নিউজ জানায়, লঞ্চডুবির ঘটনায় শোক ও হতাহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত সোমবার দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দাপ্তরিক টুইটার অ্যাকাউন্টে এ কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন