কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে গত বুধবার রাতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে কার্যালয়ের কম্পিউটার, টেলিভিশন ও আসবাবপত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে পুলিশ ও প্রশাসন দাবি করেছে।
একই ভবনে ইউএনও কার্যালয়ের পাশে নির্বাচন কার্যালয়। সেখানেই অনেক দিন ধরে নিয়মিত পাহারা দিচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। পুলিশের পাহারার মধ্যে এমন নাশকতায় উদ্বিগ্ন স্থানীয় প্রশাসন। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক কর্মকর্তাসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
ইউএনও কার্যালয়ের নৈশপ্রহরী মোফাজ্জল হোসেন জানান, তিনি রাত তিনটা থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে ওই কার্যালয়ের বারান্দায় টহল শেষে একই ভবনের উত্তর পাশে একটি কক্ষে ঘুমাতে যান। ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে তিনি ইউএনওর কার্যালয়ে ধোঁয়া দেখতে পান। পরে অন্যদের সহায়তায় আগুন নেভান। সংবাদ পেয়ে ইউএনও ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
ইউএনও মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, কার্যালয়ের পেছনের দিকে একটি জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে পেট্রল ছিটিয়ে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভবনের বাইরে জানালা বরাবর মাটিতে এক জোড়া জুতা ও দেশলাইয়ের কাঠি পাওয়া গেছে। বিষয়টি তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। দেশব্যাপী জামায়াত-শিবিরের নাশকতারই অংশ বলে এটিকে তিনি মনে করছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের বলেন, এটি জামায়াত-শিবিরের দেশব্যাপী নাশকতার অংশ। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলী আশরাফ ভূঁইয়া জানান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে লাকসাম থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ইকবাল হোসেন ও পুলিশের তিন কনস্টেবলকে সাময়িকভাবে বরখাস্তসহ কুমিল্লা পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন