শাহবাগের সমাবেশে জোনায়েদ সাকি বলেন, মুশতাককে কেবল ফেসবুকে একটি কার্টুন শেয়ার করার জন্য ধরে নিয়ে ক্রমাগত অত্যাচার করে কারা হেফাজতে হত্যা করা হয়েছে। ছয়বার জামিনের জন্য আবেদন করা সত্ত্বেও তাঁকে জামিন দেওয়া হয়নি। পরে মুশতাককে জীবন দিয়ে কার্টুনিস্ট কিশোরের জামিন নিশ্চিত করতে হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, যে মামলায় কিশোর পরে জামিন পেয়েছেন, একই মামলায় মুশতাক কেন জামিন পাননি?

default-image

সরকার আদালতকে প্রভাবিত করছে দাবি করে সাকি বলেন, সাংবিধানিকভাবে জনগণের অধিকার রক্ষা করা আদালতের কর্তব্য।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করে গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষায় ডিজিটাল নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরির দাবি জানান জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বলে মুশতাককে হত্যা করা হয়েছে। এই আইন করা হয়েছিল ডিজিটাল মাধ্যমের নিরাপত্তার কথা বলে। কিন্তু এই আইন এখন সবার গলার ফাঁস। এই আইনে মানুষের অধিকার হরণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।’

টিসিবির ট্রাক সরকারের ‘উন্নয়নের জারিজুরি’ ফাঁস করে দিয়েছে দাবি করে সাকি বলেন, এই সরকারের পতনে জনগণের বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ভোটাধিকারের লক্ষ্যে সব মানুষের ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

র‍্যাবের পদস্থ ছয় কর্মকর্তার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে জোনায়েদ সাকি বলেন, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা শুধু আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদাই ক্ষুণ্ণ করেনি, দেশের ভবিষ্যৎকেও বিপদের মধ্যে ফেলবে। আমাদের দেশের রপ্তানি খাত, অভিবাসী, শ্রমজীবী মানুষ ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতির পরিপ্রেক্ষিতে দেশের নিরাপত্তা—সবকিছুকেই আজকে বিপদের মুখে ফেলছে ভোটারবিহীন এই সরকার। তারা দেশকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। নিষেধাজ্ঞায় সরকারের নার্ভাস অবস্থা। কিন্তু কোনো হুঁশ নেই।

মুশতাক হত্যার বিচার, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল এবং গুম-খুন-ক্রসফায়ারের ঘটনার তদন্ত না করে তারা ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করেছে। তার মানে, দেশের নানা স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে তারা বিদেশকে খুশি করার চেষ্টা করবে আর বাংলাদেশে স্টিমরোলার চালাবে।

সমাবেশে গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান বলেন, মুশতাক আহমেদ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রথম শহীদ। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে যা করা হয়েছে, তা করা হয়েছে সরকারের গদির নিরাপত্তার জন্য। এই আইন দিয়ে মানুষের জান ও জবানের ক্রসফায়ার করা হচ্ছে। একমাত্র খুনের সাজার সঙ্গেই এই আইনের সাজাগুলো মেলে।

default-image

গণসংহতি আন্দোলনের নেতা জুলহাসনাইন বাবুর সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ, তাসলিমা আখতার ও মনিরউদ্দিন প্রমুখ বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে শাহবাগ থেকে হাতিরপুল পর্যন্ত মিছিল করেন গণসংহতির নেতা-কর্মীরা।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন