বিএনপির ডাকা হরতাল-অবরোধে গতকাল বুধবার ফেনীতে প্রায় সবকিছুই সচল ছিল। জনজীবনও ছিল স্বাভাবিক। দূরপাল্লার গাড়ি চলেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশেও ছিল দূরপাল্লার বাস, পণ্যবোঝাই ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করতে দেখা গেছে।
তবে যাত্রীবাহী বাস ছিল স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কিছুটা কম। জেলার একাধিক বাসমালিক ও পরিবহনশ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, অবরোধের শুরু থেকে এ জেলায় নগর বাসসেবা বা টাউন সার্ভিস এবং ফেনী-পরশুরাম সড়কে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ কারণে শহরের অভ্যন্তরে অবস্থিত একাধিক পেট্রলপাম্পও প্রায় দুই মাস ধরে বন্ধ।
গত দুই দিন ফেনীতে অবস্থানকালে এবং জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দিনে-রাতে প্রায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখা গেছে। গত মঙ্গলবার নোয়াখালী থেকে ফেনী আসার পথেও নোয়াখালী-ফেনী সড়কে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। রাত ১০টা পর্যন্ত এ সড়কে যান চলাচল করে। ওই দিন যাত্রাপথে ওই সড়কের দাগনভূঞা এলাকার তুলাতলি বাজারের সামনে যানজটও চোখে পড়ে।
ফেনী-ঢাকা ও চট্টগ্রাম পথে চলাচলকারী এ জেলার একমাত্র বিলাসী পরিবহন সংস্থা স্টার লাইন পরিবহন। যোগাযোগ করা হলে সংস্থাটির পরিচালক জাফর আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, হরতাল-অবরোধের মধ্যেও গতকাল তাঁদের পরিবহনের গাড়ি দূরপাল্লার বিভিন্ন গন্তব্যে¯যাতায়াত করেছে। তবে সংখ্যায় কম। স্বাভাবিক সময়ে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ও সাধারণ মিলিয়ে প্রতিদিন ফেনী-ঢাকা ও ঢাকা-ফেনী পথে স্টার লাইনের গড়ে প্রায় ১৫০টি গাড়ি যাতায়াত করত। টানা হরতাল অবরোধের কারণে এখন এ সংখ্যা কমে নেমে এসেছে গড়ে ২৫টিতে।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে যে ধারণা পাওয়া গেছে, তাতে বর্তমানে জীবনযাত্রা প্রায় স্বাভাবিক থাকলেও মানুষের মনে অজানা এক শঙ্কা রয়েছে। দেশের পরিস্থিতি নিয়ে এখানকার মানুষের মধ্যেও রয়েছে উদ্বেগ, আলোচনা। সবার মুখেই এক প্রশ্ন—চলমান পরিস্থিতির শেষ কোথায়?
জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, শহরের ও ফেনী-পরশুরাম সড়কের কয়েকটি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নগর পরিবহন ও ফেনী-পরশুরাম সড়কে অবরোধের শুরু থেকে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে অন্যান্য পথে বাস চলছে। এসব স্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে নগর পরিবহন ও পরশুরাম পথে বাস চালাতে প্রস্তুত রয়েছেন পরিবহনমালিক, চালকসহ সংশ্লিষ্ট সবাই।
গত দুই দিনে হরতাল-অবরোধে জেলার কোথাও বিএনপির কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের খবর পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন সূত্রে খবর নিয়ে জানা গেছে, এ জেলার বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন এবং জামায়াত-শিবিরের অধিকাংশ নেতা-কর্মী এলাকা ছেড়েছেন। জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু তাহের, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিনসহ অনেক নেতা-কর্মী বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। কারাগারের বাইরে থাকা নেতা-কর্মীদের বেশির ভাগই পলাতক থাকায় এলাকার লোকজন ও দলীয় কর্মীদের সঙ্গেও যোগাযোগ নেই।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন