default-image

৫০ বছর পর বাংলাদেশের স্বাধীনতার শতবর্ষ উদযাপনের সময় দুই প্রতিবেশী দেশই উন্নত দেশের মর্যাদা পেয়ে যাবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে বুধবার সন্ধ্যায় এই আশার কথা জানান ভারতের রেলমন্ত্রী পীযূষ গয়াল। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি বলেন, মাত্র ৫০ বছরে বাংলাদেশ যে উচ্চতায় পৌঁছেছে, তা অনেক দেশের কাছে ঈর্ষণীয়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের জন্য দিল্লির হাইকমিশনে সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বুধবার আলোয় আলোময় বাংলাদেশ হাইকমিশনে দেশ-বিদেশের বহু অতিথি সমাগমে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে রেলমন্ত্রী দুই দেশের উত্তরোত্তর সম্পর্কে অবিশ্বাস্য উন্নতির কথা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত সব দিক থেকে অবিচ্ছেদ্য। দুই দেশ একে অন্যের হাত ধরে উন্নয়ন ও প্রগতির পথে এগিয়ে চলেছে। তিনি বলেন, ‘আজ থেকে ৫০ বছর পর যখন আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার শতবর্ষ উদযাপন করব, তখন নিশ্চিতভাবেই তা হবে উন্নত দেশ হিসেবে। বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশই তত দিনে উন্নত দেশের মর্যাদা পেয়ে যাবে।’

রেলমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে চমৎকারভাবে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। তাঁর শেষ ভারত সফরের উল্লেখ করে পীযূষ গয়াল বলেন, ‘সে সময় তাঁর সঙ্গে আলাপচারিতায় বুঝেছিলাম, দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য তিনি কতটা সচেষ্ট। সাধারণ মানুষের কথা কতখানি ভাবেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে তিনি নিজেকে যোগ্য প্রতিপন্ন করেছেন।’

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানের শুরু হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যান্ডে দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানোর মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুহাম্মদ ইমরান তাঁর ভাষণে দুই দেশের চিরন্তন অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক প্রসঙ্গে বলেন, গত এক দশকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সর্বক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়ে চলেছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সবদিকেই দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক সফরের উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশ সর্বাত্মক সংযুক্তির ওপর জোর দিয়েছে। পুরোনো সংযুক্তি ছাড়াও জোর দেওয়া হচ্ছে নতুন নতুন যোগাযোগের ওপর, যাতে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিকাশ ছাড়াও দুই দেশের মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ বাড়ে।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষের পাশাপাশি পালিত হচ্ছে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ। অনুষ্ঠানে বিদেশি কূটনীতিকেরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাবেক ভারতীয় সেনানীদের অনেকে। আয়োজন করা হয়েছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। হাইকমিশনার মুহাম্মদ ইমরান ও প্রধান অতিথি ভারতের রেলমন্ত্রী পীযূষ গয়াল একসঙ্গে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে তৈরি একটি বিশেষ কেক কাটেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন