বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দক্ষিণ গোবর্দ্ধন গ্রামের প্রভাবশালী ধনাঢ্য ব্যক্তির কবল থেকে সরকারি জমি মুক্ত করে হতদরিদ্র ৯টি পরিবারসহ ১০টি পরিবারের মধ্যে বণ্টন করে ইজারা দিয়েছেন গৌরনদী সহকারী কমিশনার (ভূমি)। গত বৃহস্পতিবার সকালে ইজারা-সংক্রান্ত কাগজপত্র এসব পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রভাবশালী আবদুর রব ৪৫ বছর ধরে ৩ একর ৬১ শতাংশ সরকারি জমি ইজারা নিয়ে ভোগদখল করেন। এ সময় তিনি শর্ত ভঙ্গ করে পাকা বহুতল ভবন নির্মাণ, পুকুর খনন, গাছ বিক্রি ও সরকারি খাল ভরাট করেন। এ নিয়ে গত ২২ এপ্রিল প্রথম আলোয় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।
স্থানীয় লোকজন, ভূমি অফিস ও ইজারাপ্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গৌরনদী উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সভাপতি ও উপজেলার চাঁদশী ইউনিয়নের দক্ষিণ গোবর্দ্ধন গ্রামের আবদুর রব সরদার প্রভাব খাটিয়ে ৪৫ বছর ধরে দক্ষিণ গোবর্দ্ধন মৌজার ৩ একর ৬১ শতাংশ জমি ইজারা নেন। সম্পত্তি ইজারা নিতে তিনি নিজেকে অশিক্ষিত, কৃষিজীবী, জমাজমি সম্পর্কে অনভিজ্ঞ ও অসচেতন এবং ইজারার শর্ত সম্পর্কে জ্ঞান নেই দাবি করে লিখিত হলফনামা দাখিল করেন।
উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মিজানুর রহমান জানান, পত্রিকায় এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানিয়া আফরোজ কয়েক দফা সরেজমিনে স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা পান। পরে তিনি ওই জমিতে বসবাসকারী হতদরিদ্র নয়টি পরিবারের মধ্যে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেন এবং মোট ১০টি পরিবারের মধ্যে জমি বণ্টন করে ইজারা দেন।
ইজারাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন দক্ষিণ গোবর্দ্ধন গ্রামের আবদুল মান্নান সরদার, সোনামদ্দিন সরদার ও কালাম সরদার ৯০ শতাংশ; আজাহার সরদার ও আতাহার সরদার ৯০ শতাংশ; হাকিম সরদার, বাবুল সরদার, আবুল সরদার, কামাল সরদার ও জামাল সরদার ৫৫ শতাংশ এবং সাফিয়া বেগম ১৫ শতাংশ। এ ছাড়া শর্ত ভঙ্গ করে আবদুর রব সরদারের খনন করা পুকুরটিও ৯টি পরিবারের মধ্যে সমবণ্টন করে দেন।
তবে শর্ত ভঙ্গ করে নির্মিত ১৯৭৮ বর্গফুট আয়তনের বহুতল ভবনটির ৬ হাজার ৯২৩ টাকা লিজমানি নির্ধারণ করে এবং এক একর জমি আবদুর রব সরদার পক্ষের মধ্যে ইজারা দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার ইজারার কাগজপত্র হাতে পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেন সোনামদ্দিন (৭০), সাফিয়া বেগমসহ (৫০) কয়েকজন। সোনামদ্দিন বলেন, ‘৪৫ বছর পর মোরা ন্যায্যতা পাইলাম, টাকা আর ক্ষেমতার জোরে এত বছর মোগো বঞ্চিত করা অইছিল।’
গৌরনদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানিয়া আফরোজ বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি জমিতে অধিকারবঞ্চিত ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। শর্ত ভঙ্গ করে ভূমির আকার পরিবর্তন ও সরকারি খাল ভরাট করায় রব সরদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওই সম্পত্তির আরএস রেকর্ডে মালিক ছিলেন সুভাশিনি দেবী। ১৯৬৫ সালে সুভাশিনি ভারতে চলে যান। পরবর্তী সময়ে ১৯৭০ সালে এক আদেশে ওই ৩ একর ৬১ শতাংশ সম্পত্তি ভিপিভুক্ত করা হয়।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন