বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সোমবার বিকেলে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় শহীদজায়া বেগম মুশতারী শফীর। ৮৪ বছর বয়সী মুশতারী শফী কিডনি, রক্তে সংক্রমণসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। ২ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আনা হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখা মুশতারী শফীকে। এরপর কিছুটা সুস্থ হয়ে এক দফা বাসা ঘুরে ১৪ ডিসেম্বর থেকে তিনি সিএমএইচে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

default-image

ঢাকায় শ্রদ্ধা নিবেদন ও জানাজার পর বেলা দুইটার দিকে বেগম মুশতারী শফীর মরদেহ নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। আগামীকাল বুধবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রামের শহীদ মিনারে নেওয়া হবে তাঁর মরদেহ। সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচীসহ বিভিন্ন সংগঠন, সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন শহীদজায়ার প্রতি। নগরের জামিয়াতুল ফালাহ মসজিদে জানাজা শেষে চট্টগ্রামের চৈতন্য গলির কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৭ এপ্রিল মুশতারী শফীর স্বামী চিকিৎসক মোহাম্মদ শফী ও ছোট ভাই এহসানুল হক আনসারীকে হত্যা করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ৭ সন্তান নিয়ে ভারতে শরণার্থী হিসেবে যাওয়ার আগে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হামলার মুখে চৈতন্য গলির ওই কবরস্থানে সন্তানদের নিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন লড়াকু এই নারী।

default-image

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে শব্দসৈনিক হিসেবে কাজ করেছেন বেগম মুশতারী শফী। মুক্তিযুদ্ধে অনন্য ভূমিকার জন্য ২০১৬ সালে তাঁকে ফেলোশিপ দেয় বাংলা একাডেমি। ২০২০ সালে পেয়েছেন বেগম রোকেয়া পদক। চট্টগ্রামে নারী অধিকার আদায় ও সুরক্ষার জন্য দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি। বাংলাদেশ ঘাতক দালাল নির্মূল আন্দোলনের একজন অন্যতম সংগঠক এই নারী ছিলেন চট্টগ্রাম উদীচীর সভাপতি।

বেগম মুশতারী শফীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মালেকা বেগমসহ বিশিষ্টজনেরা।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন