default-image

শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও বিক্ষোভকারীদের সভা-সমাবেশ করার অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। গতকাল শুক্রবার নিজেদের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানায় সংস্থাটি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, গতকাল চট্টগ্রামে বিক্ষোভকারীদের র‍্যালিতে পুলিশ গুলি চালায় এবং তাতে কমপক্ষে চারজনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন কয়েক ডজন মানুষ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে এসব বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছিল। অন্যদিকে, ঢাকায় পৃথক আরেক বিক্ষোভে ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন, সেখানে ফাঁকা গুলিও করা হয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশে বিক্ষোভ হলেই তা সহিংসভাবে দমন করা হচ্ছে এবং গতকালেরটি এর মধ্যে সাম্প্রতিকতম।

বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক গবেষক সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, ‘বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ সচরাচর যে ধরনের আচরণ করে, চট্টগ্রাম ও ঢাকায়ও আমরা তেমন সহিংসতার ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার হামলার শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে এ ধরনের রক্তাক্ত দমন-নিপীড়ন চালানো হচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি এবং তাদের নিজেদের সংবিধানে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার অধিকার অন্তর্ভুক্ত আছে। কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই সেসব প্রতিশ্রুতিকে সম্মান জানাতে হবে, শান্তিপ্রিয় বিক্ষোভকারীদের রক্ষা করতে হবে এবং বেআইনি ও অত্যধিক বলপ্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।’

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনের বিরোধিতা করে ঢাকায় আয়োজিত এক জনসমাগমে ২৫ মার্চ পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ায় ৪০ জনের বেশি আহত হন। একই দিন রাতে শাসকশ্রেণির সংশ্লিষ্ট ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালালে ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হন।

এ ছাড়া ২৪ মার্চ সিলেটে ও রাজশাহীতে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের এবং ২৩ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বাধা দেওয়া ও হামলা চালানোর বিষয়টি উল্লেখ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন