পার্বত্য শান্তি চুক্তি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ায় পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। পার্বত্যবাসীর আত্মনিয়ন্ত্রিত উন্নয়নের ধারাও গড়ে ওঠেনি। আগের মতো এখনো অনেকাংশে ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে।
‘পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন প্রতিবেদন’ শীর্ষক এক সমীক্ষায় এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। ৫ ফেব্রুয়ারি রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সভাকক্ষে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড প্রোগ্রাম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (সিআইপিডি) তত্ত্বাবধানে গবেষক মঙ্গল কুমার চাকমা এ সমীক্ষা তৈরি করেন। মঙ্গল কুমার চাকমা জানান, তিন পার্বত্য জেলার সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য নিয়ে ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে সমীক্ষাটি তৈরি করা হয়।
সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের সিদ্ধান্ত নির্ধারণী ভূমিকা নেই। উন্নয়নে তাদের পূর্ণাঙ্গ অংশগ্রহণও নিশ্চিত হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পার্বত্য চুক্তি করা হয়েছিল। সেই চুক্তির আলোকে উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করা টাকা আদিবাসীদের প্রতিনিধিত্বশীল সংস্থাকে দেওয়ার কথা। কিন্তু আমলাদের দ্বারা পরিচালিত পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড উন্নয়ন বরাদ্দের ৫০ শতাংশই পাচ্ছে এখনো। তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ পাচ্ছে বরাদ্দের বাকি ৫০ ভাগ।
এ ক্ষেত্রে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ২১ ভাগ, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ১৬ ভাগ এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ ১৩ ভাগ বরাদ্দ পায়।
সরকারের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ), জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) বিভিন্ন দাতা সংস্থা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সমীক্ষায় পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী, গণমুখী ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের স্বার্থে পার্বত্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের পরামর্শ দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদকে পুরোপুরি কার্যকর করা, পার্বত্য জেলা ও আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করা, ভারত থেকে ফিরে আসা পাহাড়ি শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন ও পার্বত্য ভূমি কমিশন আইন সংশোধনের ওপর জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি পার্বত্যবাসীকে সহজ শর্তে ঋণ দিতে সরকারি অর্থায়নে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করা হয়।
সিআইপিডির সভাপতি অধ্যাপক মংসানু চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য মো. নুরুল আলম এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন ও হিমাওয়ান্তির বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ারপারসন টুকু তালুকদার। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি–বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন