চলমান রাজনৈতিক সংহিসতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিবাদ করবেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকেরা। রাজনৈতিক অস্থিরতা বন্ধের দাবিতে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই ঘোষিত প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি এস এম মান্নান।

এফবিসিসিআইয়ের ওই কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে আজ রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিজিএমইএ ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা হাতে অবস্থান নেন পোশাকশিল্পের মালিকেরা। সেখানে এস এম মান্নান বলেন, ‘যত দিন পর্যন্ত শান্তি না আসবে, তত দিন আমরা রাস্তায় নামব।’

দুপুর ১২টায় জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। উপস্থিত সবাই সড়কের মাঝে এসে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আরেকবার জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়।

কর্মসূচিতে সমাপনী বক্তব্য দেন এস এম মান্নান। তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ চাই। সুষ্ঠুভাবে ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় অর্থনীতির রক্ত ঝরছে। পেট্রলবোমা দিয়ে সহিংসতা করে মানুষ মারা হচ্ছে।’

ব্যবসার সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি এবং হরতাল-অবরোধ ও সহিসংতামুক্ত রাজনীতি করার জন্য বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান বিজিএমইএর এই নেতা।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সহসভাপতি নাসিরউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, রিয়াজ-বিন-মাহমুদ প্রমুখ। সেখানে পোশাক মালিকদের চেয়ে বিজিএমইএর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংখ্যাই ছিল বেশি। তাঁরা ‘সবার উপরে দেশ’, ‘দেশ বাঁচাও, অর্থনীতি বাঁচাও’, ‘হরতাল-অবরোধ আইন করে বন্ধ কর’ ইত্যাদি ব্যানার বহন করেন।

শুরুর দিকে বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলামসহ সংগঠনের কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান নেতা এবং বিজিএমইএর বেশ কিছু কর্মকর্তা কর্মসূচিতে অংশ নেন। কয়েক মিনিট অবস্থান করে তাঁরা এফবিসিসিআইয়ের উদ্দেশে চলে যান। এর আগে আতিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের রাস্তায় নামার কথা না। তার পরও আমরা নেমেছি। কারণ, আমরা চাই না সহিংসতা হোক। মানুষ মারা যাক। আমরা চাই সবাইকে নিয়ে সুন্দর দেশ গড়তে।’

বিজিএমইএর পাশাপাশি বিকেএমইএ, বিটিএমইএ, বাংলাদেশ ট্রাক-কার্ভার্ড ভ্যান মালিক সমিতিসহ কয়েকটি সংগঠনের ব্যানারে কর্মসূচিতে কয়েক শ মানুষ অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন