বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা মডেল থানার উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) বিপ্লব সরকার কিশোরকে সোমবার আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। বেলা দুইটার দিকে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তখনো কিশোরের পক্ষে তার আইনজীবী বাবা আদালতে উপস্থিত হননি।

এ সময় বিচারক ওই কিশোরকে দেখে বলেন, ‘ওর তো গাড়ি চালানোর বয়স হয়নি। লাইসেন্স নেই। ওর হাতে গাড়ি দিল কেন? ওর বাবাকে গ্রেপ্তার করা উচিত।’ এরপর কিশোরের কাছে আদালত জিজ্ঞাসা করেন, গাড়ি কার নামে? জবাবে কিশোর বলে, তার বাবার নামে গাড়ি।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জেসমিন আক্তার বিচারককে বলেন,‘সেকেন্ড হ্যান্ড (পুরোনো) গাড়ি। ছয় মাস আগে কেনা হয়েছে। তার বাবা সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী।’

কিশোর কোথায় ও কোন শ্রেণিতে পড়াশোনা করে, তা জানার পর বিচারক বলেন, ‘তাকে রিমান্ড দিতে পারব না। রিমান্ড হবে না।’ কিশোরের উদ্দেশে বিচারক বলেন, ‘এখনো অনেক সময় পড়ে আছে। বড় হও, অনেক গাড়ি চালাতে পারবে। তুমিও তো একজনের ছেলে। যে শিশুটাকে আহত করেছ, সে–ও তো কারও না কারও সন্তান। কত সময়, কত দিন পড়ে আছে, জীবনটা কি এত ছোট?’

এরপর কিশোরকে আদালত রিমান্ড নামঞ্জুর করে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর কিশোরের বাবাসহ কয়েকজন আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন আবেদন করেন। বিচারক তাঁদের বলেন, আদেশ তো হয়ে গেছে। এখন আর শুনানি করা যাবে না।

বিচারক কিশোরের বাবার কাছে জানতে চান, সে (কিশোর) কি লাইসেন্সসহ গাড়ি চালাচ্ছিল? জবাবে তার বাবা বলেন, ‘না। কাউকে না জানিয়ে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে যায় সে।’ তখন বিচারক বলেন, ‘অন্যায় আপনি করেছেন, অপরাধ আপনি করেছেন। এর জন্য শাস্তি তো আপনার হওয়া উচিত। শিশু বাচ্চাটার পা ভেঙে গেছে। যা–ই হোক, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা শেষ হোক। এরপর জামিন শুনানি হবে।’

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই কিশোর ১৯ নভেম্বর রাজধানীর বেইলি রোড এলাকায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে একটি রিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা ফখরুল হাসান ও তাঁর পাঁচ মাসের শিশুপুত্র এবং রিকশাচালক আনোয়ার ইসলামসহ গুরুতর আহত হন। পরের দিন সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কিশোর তার মাকে নিয়ে বাসে করে মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলায় তার দাদার বাড়ি চলে যায়। সেখান থেকে আবার চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গায় তার খালার বাড়িতে গিয়ে আত্মগোপনে থাকে। পরে দুই উপজেলার থানা–পুলিশের সহায়তায় ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগ।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন