এ সময় দুটি উড়োজাহাজই বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজের সামনের অংশে থাকা আবহাওয়ার বার্তা ধরার যন্ত্র র‌্যাডম ভেঙে গেছে। আর বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজের লেজের হরাইজন্টাল স্ট্যাবিলাইজার ভেঙে গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমানের একজন জ্যেষ্ঠ পাইলট প্রথম আলোকে বলেন, ‘উড়োজাহাজ দুটিকে গ্রাউন্ডেড করা হয়েছে। এ ঘটনায় যে ক্ষতি হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে, অন্তত দুই সপ্তাহ উড়োজাহাজ দুটিকে গ্রাউন্ডেড করে রাখতে হবে।’

আজ সোমবার দুপুরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী উড়োজাহাজ দুটি দেখতে বিমানবন্দরের হ্যাঙ্গারে যান। দুই উড়োজাহাজের সংঘর্ষের এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এটি নাশকতা বা দুর্ঘটনা কি না, তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিমান প্রতিমন্ত্রী।

এ ঘটনা চূড়ান্ত অবহেলার ফল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ অ্যাভিয়েশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা এ টি এম নজরুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এর আগে বিমানের কর্মীদের অনেক রকম দুর্নীতি ও অবহেলার চিত্র গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তেমন শোনা যায় না। দুর্নীতি-অবহেলার ঘটনায় কয়জনের চাকরি গেছে? যার কারণে এ রকম ঘটনা একটার পর একটা ঘটেই চলেছে।

অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ নজরুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রীয় শতভাগ মালিকানাধীন এয়ারলাইনসে এ রকম অবহেলা একেবারেই বরদাশত করা যাবে না। ঈদের আগে-পরে এয়ারলাইনসগুলো ভালো ব্যবসা করে নেয়। বিদেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ঈদের আগে ফেরেন, ঈদের পরে তাঁরা ফেরত যান। এ ছাড়া অনেকে ঈদের সময় বিদেশে বেড়াতে যান, দেশের অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতেও ভালো ব্যবসা হয়। এ সময় দু-দুটো এয়ারক্রাফট গ্রাউন্ডেড হল বিমানের। এই ক্ষতির দায় কে নেবে?

বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজের সংখ্যা ২১টি। এর মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, চারটি বোয়িং ৭৮৭-৪, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯, ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং পাঁচটি ডিসি ৮-৪০০। বর্তমানে ১৯টি আন্তর্জাতিক এবং সাতটি অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে বিমানের ফ্লাইট চলছে।