শিক্ষক লাঞ্ছনায় দায়ী পুলিশের বিচারে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

বিজ্ঞাপন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাকিব আহমেদকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিচারের জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি। রাকিব এই সমিতির সাবেক সভাপতি ছিলেন। 

গতকাল শনিবার রাতে রাজধানীর উত্তরা হাউস বিল্ডিং এলাকায় রাকিবকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে পুলিশ। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ রোববার বেলা ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলা সামনে মানববন্ধন করে সাংবাদিক সমিতি। পরে বেলা সাড়ে ১২টা থেকে তিনটা পর্যন্ত আড়াই ঘণ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা।
এই মানববন্ধন থেকে দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিচারের জন্য সময় বেঁধে দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মাসুম বিল্লাহ।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারের অর্জন ভূলুণ্ঠিত করার মতলব নিয়ে পুলিশের ওই সদস্যরা এ কাজ করতে পারেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে দায়ী পুলিশ সদস্যদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, ইদানীং দেখা যাচ্ছে, পুলিশ নিজেদের আচরণবিধি ও অধিকার সম্পর্কে ভুলে যাচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকলে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা উঠে যাবে।
মানববন্ধনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারপারসন আখতার সুলতানাসহ আরও কয়েকজন বক্তব্য রাখেন।
ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধনে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী রাকিব আহমেদের ভাষ্য, গতকাল রাত ১০টার দিকে সিলেট যাওয়ার জন্য তিনি তাঁর মা-বাবাকে নিয়ে ব্যক্তিগত গাড়িযোগে বিমানবন্দর রেলস্টেশনে যাচ্ছিলেন। গাড়ি উত্তরা হাউস বিল্ডিং এলাকায় পৌঁছালে ইমরান নামের ট্রাফিক উত্তরের এক সার্জেন্ট গাড়ি থামাতে বলেন। গাড়ি থামানোর পর ওই কর্মকর্তা গাড়ির কাগজপত্র তলব করেন। তাঁর (রাকিব) গাড়িচালক কাগজপত্র দেখান। কাগজপত্র হাতে নেওয়ার পর ওই কর্মকর্তা গাড়ি জব্দ করা হবে বলে জানান। এমন পরিস্থিতিতে তিনি (রাকিব) ওই কর্মকর্তাকে অনুরোধ করে জানান, তিনি মা-বাবাসহ সিলেট যাচ্ছেন। ট্রেন ১০: ২০ মিনিটে। তিনি ওই কর্মকর্তাকে গাড়ির কাগজপত্র রেখে দিয়ে তাঁদের রেলস্টেশন পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ করে দিতে অনুরোধ করেন।
রাকিব বলেন, এর পরও ওই কর্মকর্তা রাজি হচ্ছিলেন না। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বলে পরিচয় দেন। কিন্তু এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। বিশ্ববিদ্যালয় ও তাঁর মা-বাবাকে নিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে ওই কর্মকর্তা গলা চেপে ধরেন। ওই সময় আশপাশে থাকা আরও কয়েকজন পুলিশ তাঁকে মারধর করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে পুলিশ বক্সের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় আশপাশের লোকজনও ছেড়ে দিতে অনুরোধ করলে তা-ও রক্ষা করেননি ওই কর্মকর্তা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন