শিশু সৌরভের হাতে ছোট্ট একটি পতাকা। আর নিশির হাতে কিছু বুনোফুল। অনেক আগ্রহ নিয়ে তাঁরা শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এসেছিল। আগের দিনই দুজনে কাদা মাটি দিয়ে বানিয়েছিল শহীদ মিনারটি, কে যেন সেটা ভেঙে দিয়েছে। তাদের মন খারাপ হয়। পরে কয়েকজন খেলার সাথিকে নিয়ে নতুন করে বানায় আরেকটি শহীদ মিনার।
গতকাল শনিবার বিকেলে রাজশাহীর পবা উপজেলার খড়খড়ি বাইপাস এলাকায় গিয়ে শিশুদের এ শহীদ মিনার চোখে পড়ে। শিশুদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সৌরভ পড়ে পঞ্চম শ্রেণিতে। আর নিশি তৃতীয় শ্রেণিতে। তারা দুজন বন্ধু। তাদের সঙ্গে শহীদ মিনার তৈরিতে যোগ দিয়েছে একই গ্রামের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র নাসির, দ্বিতীয় শ্রেণির লামিয়া ও আতিক। আতিক এখনো বিদ্যালয়ে যাওয়া শুরু করেনি। এই শিশুদের বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই।
সৌরভ বলে, ‘সকালে এসে মাটির শহীদ মিনার ভাঙা দেখে খুব খারাপ লাগল। তারপর নতুন করে শহীদ মিনার বানানোর জন্য ওদের ডাকতে যাই। কথা শুনেই ছুটে আসে নাসির, আতিক ও লামিয়া। তারা কেটে আনে বাঁশের কঞ্চি। একজন রঙ পেনসিল দিয়ে সাদা কাগজে একটা সূর্য আঁকে। কঞ্চি দিয়ে দিয়ে মিনার তৈরি করে। আর রক্তিম সূর্যটা সঙ্গে লাগিয়ে দেয়। এক পাশে পুঁতে দেয় সৌরভের পতাকাটি। এরপর নিশির বুনোফুলগুলো সেখানে রাখা হয়।
গ্রামীণ ব্যাংকের পবা উপজেলার পারিলা শাখার দেয়ালঘেঁষেই শিশুরা শহীদ মিনারটি তৈরি করেছে। বুনোফুল ছাড়াও তাদের শহীদ মিনারের বেদিতে কিছু গাঁদাফুলও পাওয়া গেল। পাশেই একটি রাজনৈতিক দলের মাইক বাজছে। মাইকে দেশাত্মবোধক গান বাজানো হচ্ছে।
সৌরভ আরও বলে, নাসিরের বাড়িতে ছিল খয়েরি গাঁদাফুল। সে তার বাড়ি থেকে এনেছে।
গ্রামীণ ব্যাংকের ওই শাখার কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকেই তিনি দেখছেন শিশুরা এ শহীদ মিনার নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত রয়েছে। এলাকায় যে ফুল যার চোখে পড়ছে, সেই ফুলই তুলে এনে ওরা শহীদ মিনারে দিচ্ছে। টেলিভিশনে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর অনুষ্ঠান দেখেই তারা উদ্বুদ্ধ হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন