২৪ মে ২০১৬, প্রথমআলোর আয়োজনে ‘শিশুশ্রম নিরসনে আমাদের দায়িত্ব’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আজ ১২ জুন বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতি​েরাধ দিবস উপ​ল​েক্ষ অয়োজিত ওই গোলটেবিল আলোচনা সংক্ষিপ্ত আকারে এই ক্রোড়পত্রে প্রকাশিত হলো।

default-image

আলোচনা 

আবদুল কাইয়ুম: রাষ্ট্র, সমাজ ও আমাদের সবার দায়িত্ব শিশুদের অধিকার রক্ষা করা। দেশের কয়েক লাখ শিশু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে। গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে শিশুদের নির্যাতনের খবর আমরা পাই। কর্মক্ষেত্রে শিশুরা শিকার হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের।

অনেক শিশুকে মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। কিছুদিন আগে সিলেট ও খুলনায় দুই শিশুকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে শিশু নির্যাতনের প্রবণতা বেড়ে গেছে। এসব শিশু শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিনোদনসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

আলোচনায় ​িবভিন্ন বিষয় আসবে। এখন উপস্থাপনা ও আলোচনা করবেন খোন্দকার মোস্তান হোসেন।

খোন্দকার মোস্তান হোসেন

default-image

শিশুশ্রম নিরসনে আমাদের সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এ নির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে, কারা শিশু। এখানে বলা আছে, ১৪ বছরের নিচে কোনো শিশুকে কাজে নেওয়া যাবে না। ১৪ থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত কাজে নেওয়া যাবে, তবে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নেওয়া যাবে না।
আমাদের শিশুশ্রম নীতি, ২০১০ আছে, এটা বাস্তবায়ন করার জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। বাসায় যারা কাজ করে, তাদের কল্যাণের জন্য একটা নীতিমালা করা হয়েছে।
শিশুদের জন্য সব কাজই ঝুঁকিপূর্ণ। তারপরও ৩৮টি কাজকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এই ৩৮টি কাজে শিশুদের  কোনোভাবেই নিয়োগ করা যাবে না।
শিশুশ্রম নিরসনে জাতিসংঘ প্রণীত সব সনদে আমাদের সরকার অনুস্বাক্ষর করেছে। শিশুশ্রম নিরসনের জন্য কতগুলো পদক্ষেপ ঠিক করেছি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে নীতির প্রয়োগ, শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য, সামাজিক সচেতনতা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ইত্যাদি।

জাতীয় পরিকল্পনার মধ্যে এগুলো অন্তর্ভুক্ত করে শিশুশ্রম দূর করব। এ ক্ষেত্রে চারটি কমিটি করেছি। যেমন ন্যাশনাল চাইল্ড লেবার ওয়েলফেয়ার কমিটি; এর প্রধান হলেন মাননীয় শ্রম প্রতিমন্ত্রী। বিভাগীয় চাইল্ড লেবার ওয়েলফেয়ার কমিটি রয়েছে; এর প্রধান হলেন বিভাগীয় কমিশনার। জেলা শিশু অধিকার  ফোরাম; এর প্রধান জেলা প্রশাসক। উপজেলা চাইল্ড লেবার মনিটরিং কমিটি; এর প্রধান উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

আইএলও আমাদের বিভিন্নভাবে সমর্থন করে যাচ্ছে। সরকারের সঙ্গে আইএলও, এনজিওসহ বিভিন্ন সংস্থা কাজ করে। আমাদের সবার উদ্দেশ্য শিশুশ্রম নিরসন করা।

শ্রম পরিদর্শন বিভাগকে আমরা শক্তিশালী করেছি। আগে এ বিভাগের জনবল ছিল ৩৪ জন। এখন ৯০০ জনে উন্নীত করা হবে। শিশুশ্রম নিরসনে আমাদের অগ্রগতি হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ক্ষেত্রে আরও সাফল্য আসবে।

মরিয়ম আক্তার 

default-image

যেসব কারখানা কমপ্লায়েন্স মেনে চলে, তাদের কোনো শিশুশ্রম নেই। কিন্তু অনেক ছোট কারখানা আছে, যারা কমপ্লায়েন্স মেনে চলে না, সেখানে শিশুশ্রম আছে। এসব শিশু তাদের ন্যায্য পাওনা পায় না।
পোশাকশিল্পের ছোট কারখানা ছাড়াও অনেকে ট্যানারি, চামড়া, জুতা, যানবাহন, ভিক্ষাবৃত্তিসহ বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে। এদের কর্মক্ষেত্র ও কাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসব কাজে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ প্রচণ্ডভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
কিছু মালিক আছেন, যাঁরা কম পয়সায় বেশি মুনাফা করতে চান। এঁরা বেশি বেতন দেওয়ার ভয়ে বড়দের কা​েজ লাগান না। শিশুদের দিয়ে কাজ করান। এসব মালিকের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
শিশুশ্রম নিরসনের জন্য প্রথমে কোথায় কোথায় শিশুশ্রম হচ্ছে তা খুঁজে বের করা দরকার। দরকার গণমাধ্যমে এ বিষয়ে বেশি বেশি প্রচার করা। বিভিন্ন ধরনের নাটক ও গানের মাধ্যমে প্রচার চালানো যেতে পারে। দরিদ্র শিশুদের অভিভাবকদের কাজের ব্যবস্থা করা, বেশি করে তদারকির ব্যবস্থা করা, যারা শিশুদের কাজে লাগাবে তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা, শিশুশ্রম নিরসনে যেসব আইন আছে, তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ প্রভৃতি দরকার।

ফারুক আহমেদ

default-image

এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন কখনো চায় না যে শিশুরা কাজ করুক। আমরা চাই, সব শিশু স্কুলে যাক। সবাই তাদের শৈশবকে উপভোগ করুক। দুঃখজনক হলেও সত্য, বাস্তবতা সম্পূর্ণ আলাদা।
প্রাতিষ্ঠানিক খাতে শিশুশ্রম নেই বললেই চলে। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে অনেক অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত রয়েছে। এসব জায়গায় শিশুশ্রম রয়েছে। ২০১৩ সালের শ্রম জরিপে দেখা যায়, ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সের কর্মজীবী শিশুর সংখ্যা প্রায় ৭৫ লাখ। শিশুশ্রম জরিপে দেখা যায়, ১৩ লাখ শিশু অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজে সম্পৃক্ত। ঝুঁকিপূর্ণ কাজে আমরা কোনোভাবেই শিশুদের দেখতে চাই না।
দেশে ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক খাত রয়েছে। প্রায় তিন কোটি মানুষ দরিদ্র। এমন বাস্তবতায় হঠাৎ করেই শিশুশ্রম নিরসন করতে পারব না। শিশুশ্রম নিরসনে আইনের কঠোর প্রয়োগ করলে অন্য সমস্যা তৈরি হবে। যেমন এরা অসামাজিক কার্যকলাপে নিয়োজিত হতে পারে।

সরকার, আইএলও, সংশ্লিষ্ট সবাই শিশুশ্রমের বিষয়ে অনেক বেশি সতর্ক। অন্তত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে শিশুদের বিরত রাখার জন্য আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এমরানুল হক চৌধুরী

default-image

বাংলাদেশে শিশুশ্রম আছে তবে ধীরে ধীরে কমছে, এটাই হলো বাস্তবতা। এসডিজিতে ২০২৫ সালের মধ্যে শিশুশ্রম নিরসনের লক্ষ্যমাত্রা আছে। এ লক্ষ্য অর্জন করতে হলে শিশুশ্রম নিরসনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনাকে জোরদার করতে হবে।
শিশুশ্রম নিরসনে ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত একটি লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এ ক্ষেত্রে তেমন কোনো লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দুটো ভাগে ভাগ করতে পারি। একটা ভাগ থাকবে ২০২১ সাল পর্যন্ত। আরেকটা ভাগ থাকবে ২০২৫ সাল পর্যন্ত। দুই পর্বেই আমাদের জোরেশোরে কাজ করতে হবে।
কাজ করার জন্য নীতিমালা ও বিভাগীয় পর্যায় থেকে উপজেলা পর্যন্ত কমিটি রয়েছে। জেলা পর্যায়ে ডিসি (জেলা প্রশাসক) থাকেন কমিটির চেয়ারম্যান। তিনি ৭০টির বেশি কমিটির চেয়ারম্যান থাকেন। ফলে সময় দিতে পারেন না। এ ক্ষেত্রে জেলায় কো-চেয়ারম্যান বা অন্য কাউকে দায়িত্ব দিয়ে কমিটিগুলোকে কার্যকর করা জরুরি।

গৃহকাজে নিয়োজিত কর্মীদের জন্য নীতিমালা হয়েছে। এটা একটা প্রশংসনীয় উদ্যোগ।  এই উপমহাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশেই এটা হয়নি।

১৪ বছরের নিচে কোনো শিশু যেন গৃহে কাজ না করে, তার জন্য একটা আইন করতে হবে। সরকারের সিএসআর (করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি) নীতিমালা আরেকটি ফলপ্রসূ উদ্যোগ। আমাদের পাশের কোনো দেশে এটা নেই।

স্কুল যেন আনন্দদায়ক হয়। গরিবের সন্তানেরা বাড়িতে পড়তে পারে না। স্কুলে প্রতিদিন পড়া দেওয়ার ভয় এবং আরও অনেক কারণে তারা স্কুল থেকে ঝরে পড়ে।

বাংলাদেশে প্রায় ১৫০টি নিরাপত্তাবেষ্টনী আছে। শিশুদের জন্য আছে মাত্র তিনটি। শিশুদের জন্য কল্যাণ হয়—এমন কিছু নিরাপত্তাবেষ্টনী জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন।

ফ্রেড উইটিভিন

default-image

বাংলাদেশ শিশুশ্রম নিরসনে ফলপ্রসূ উদ্যোগ নিয়েছে। হয়তো কিছুটা সময় লাগবে। শিশুশ্রম নিরসনে ওয়ার্ল্ডভিশন বাংলাদেশে কাজ করছে। সারা দেশে আমরা পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে ৫০ হাজার শিশু, যারা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত, আমরা তাদের পুনর্বাসনের কাজ করছি।
১ লাখ ৭১ হাজার দরিদ্র শিশুকে সহযোগিতা করছি। এদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক কর্মসূচির ব্যবস্থা করেছি। আমরা বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশুশ্রম নিরসনের জন্য মানুষকে সচেতন করছি। শিশুশ্রম নিরসনে সহযোগিতা করবে—এমন কিছু প্রকল্প এখনো প্রক্রিয়াধীন আছে।
শিশুশ্রম নিরসনের মতো এত বড় কাজ হয়তো শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক খাতসহ সমাজের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
ক্ষতিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে শিশুদের বিরত রাখার জন্য ব্যবসায়ীরা উদ্যোগ নিতে পারেন। নীতিমালা ও আইন শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে বিরত রাখতে পারবে না। দেশব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে রক্ষা করতে পারে।

২০২৫ সালের মধ্যে শিশুশ্রম নিরসন করতে হলে সরকারের দিক থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার, বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা এবং সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তোফায়েল আহমেদ

default-image

নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মপরিকল্পনার মধ্যে সরকার পরিবর্তন এনেছে। শিশুশ্রমিকদের নিরাপত্তাবেষ্টনীর  মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ ক্ষেত্রে কাজ করতে হবে। আগে কিছু শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পেত, এখন সবাই পাবে। এটা ভালো উদ্যোগ।
অনেক ক্ষেত্রে দারিদ্র্যের জন্য শিশুশ্রম হচ্ছে না। অনেকে ভাবছে, লেখাপড়া করে কী হবে? সে ডাক্তার, উকিল বা অনেক বড় চাকরিজীবী হবে না। শ্রমিকই হবে। ফলে পরিবার এদের কাজে লাগিয়ে দিচ্ছে।
আমরা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ৯টি জেলায় ১৬টি এনজিওর মাধ্যমে প্রায় এক লাখ শ্রমজীবী শিশুকে নিয়ে কাজ করছি। এদের মধ্য থেকে ৫০ হাজার শিশুকে স্কুলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
২০১৬ সালের মধ্যে আমরা আরও ৫০ হাজার শিশুকে স্কুলে ফিরিয়ে আনতে পারব বলে আশা করছি। একইভাবে ইউনিসেফ, সেভ দ্য চিলড্রেন, ওয়ার্ল্ডভিশনসহ অন্যান্য সবাই যদি কাজ করি, তাহলে শিশুশ্রম নিরসনে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। আবার অনেক পরিবারের ছেলেমেয়ে কোনো কাজ করে না। তাদের স্কুলের ব্যাগটি আরেকজন নিয়ে যায়। এটা ঠিক নয়। নিজের ও পরিবারের কিছু কাজ প্রত্যেকের করা উচিত। আমরা যেন শ্রমবিমুখ জাতি না হই, সেটাও লক্ষ রাখতে হবে।

শ্রমের প্রতি মর্যাদার বিষয়টিতে সব সময় গুরুত্ব থাকতে হবে। সরকারের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, এখন দেশে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুশ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ। সবাই মিলে কাজ করলে এটা নিরসন করা অসম্ভব হবে না।

মো. নজরুল ইসলাম খান

default-image

প্রাথমিক শিক্ষা এখন প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হবে। অর্থাৎ অষ্টম শ্রেণিতে যে পরীক্ষা হবে, সেটাই হবে প্রাথমিক পরীক্ষা।
প্রাথমিকে আর কোনো পরীক্ষা থাকার কথা নয়। এ বিষয়ে শিক্ষানীতি, ২০১০-এ ভালোভাবে বলা আছে। এখন কথা হলো, দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হবে না। ৭৬০টি স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানোর সুযোগ আছে, এই স্কুলগুলোতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হবে প্রাথমিক শিক্ষা।
ধীরে ধীরে সব সমস্যার সমাধান করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত কার্যকর হলে শিশুশ্রম নিরসনের ক্ষেত্রে একটা অগ্রগতি হবে।
আমরা অনেক তথ্য জানি না এবং তথ্যের অভাবও আছে। যেমন আমরা অনেকেই জানি না যে কারওয়ান বাজার ও কুড়িলে পথকলি স্কুল আছে। গৃহকর্মীদের স্কুলের কথা ভাবা হচ্ছে। ফলে এটা যাঁরা পরিচালনা করছেন, তাঁরা অনেকের সাহায্য-সহযোগিতা পাচ্ছেন না।
শিশুশ্রম নিরসনের জন্য প্রতি জেলায় কর্মকর্তা আছেন, চাইল্ড ওয়েলফেয়ার বোর্ড আছে। তঁারা কী কাজ করছেন। তঁাদের কাজ সম্পর্কে আমরা জানি কি না। তঁাদের কাজ শিশুশ্রম নিরসনে কোনো ভূমিকা রাখছে কি না—এসব বিষয় তদারক করা প্রয়োজন।

সৈয়দ আহমেদ

default-image

আমাদের প্রতিষ্ঠান আগে ছোট ছিল। সরকার খুব অল্প সময়ের মধ্যে এটাকে অধিদপ্তরে রূপান্তর করে। রানা প্লাজা ধসের পর আমরা ভবনের নিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা—এসব বিষয়ে বেশি মনোযোগ দিয়েছি।
এখনো আমাদের যথেষ্ট জনবলের অভাব রয়েছে। এত অল্প জনবল দিয়ে দেশের লাখ লাখ প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
এ মুহূর্তে শিশুশ্রম নির্মূল করা সম্ভব নয়। তবে এ ক্ষেত্রে কিছু অগ্রাধিকার ঠিক করেছি। জাহাজভাঙা, চামড়াশিল্পসহ ৩৮টি প্রতিষ্ঠানের কাজকে ঝুঁকিপূর্ণ নির্বাচন করা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে শিশুরা কাজ করছে কি না, সেটা আমরা দেখে থাকি।
হোটেল, ওয়ার্কশপসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠানকে আমাদের কাজের আওতায় এনেছি, যাতে এসব জায়গায়ও শিশুশ্রম না হয়। শিশুশ্রম বন্ধের জন্য আইন যথেষ্ট নয়। আইনের সঙ্গে প্রয়োজন ব্যাপক সচেতনতা।

এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অবশ্যম্ভাবী। ২৩টি জেলায় আমাদের অফিস রয়েছে। এসব জেলায় যাতে শিশুশ্রমিক নিয়োগ না হয়, সে জন্য তারা সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করছে।

কোথাও যাতে শিশুশ্রম না হয়, সে জন্য পরিদর্শন তালিকায় এটা অন্তর্ভুক্ত করেছি। কোনো প্রতিষ্ঠানকে কয়েকবার সতর্ক করার পরও যদি শিশুশ্রম চালিয়ে যায়, তার বিরুদ্ধে আমরা মামলা করি। শিশুশ্রম বন্ধে আমরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৪৬টি মামলা করেছি। কেরানীগঞ্জে অনেক কারখানায় শিশুশ্রম আছে, সেখানে আমরা ৩৩টি মামলা করেছি।

সবার মতো আমিও বলছি, সমন্বয়ের বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। একটি সমন্বিত উদ্যোগ না থাকলে শিশুশ্রম নিরসন কঠিন হবে।

সুক্কুর মাহমুদ

default-image

আমাদের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের বড় রকমের অভাব রয়েছে। সঠিক সমন্বয় থাকলে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারব। যাদের মধ্যে শিক্ষার অভাব রয়েছে ও দরিদ্র, তাদের মধ্যে শিশুশ্রম বেশি। তাদের অনেকে চিন্তা করে কাজে যোগ দিলে টাকা আসবে। তাই অন্য কিছু করার দরকার নেই।
আমাদের একটা স্বল্প, মধ্য, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে তাদের কাছে যেতে হবে। তাদের সচেতন করতে হবে। তারা কীভাবে আর্থিক সচ্ছলতা আনতে পারে, সেই উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
দরিদ্র অভিভাবকদের যথেষ্ট পরিমাণ বোঝাতে হবে, তাদের সন্তানদের একটা অত্যন্ত সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ রয়েছে। আমরা অনেক সভা-সমিতি করি। পরিকল্পনা নিই। কাগজপত্র তৈরি করি। কিন্তু দিনের শেষে তা কাজে পরিণত হয় খুব কম। আমাদের সমন্বিতভাবে এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

টিম হোয়েট

default-image

বাংলাদেশ বিগত বছরগুলোতে শিশুশ্রম নিরসনে ভালো কাজ করেছে। বাংলাদেশের এমন লাখ লাখ শিশু এখন স্কুলে যায়। এসব শিশুর জীবনমানের উন্নয়ন হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এ দেশের ১৭ লাখ শিশু বিভিন্ন প্রকার  কাজের সঙ্গে যুক্ত। ডেনমার্ক আমার দেশ। আমার দেশ ডেনমার্কের মোট স্কুলে যাওয়া শিশুর সংখ্যা ১৭ লাখের কম। আর বাংলাদেশে ১৭ লাখ শিশু শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এরা বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হচ্ছে।
এই ঢাকা শহরেই নির্মাণশিল্পসহ বিভিন্ন কাজে শিশুরা নিয়োজিত। সবার সামনে তারা কাজ করছে। এসব নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশ সরকার শিশুশ্রম নিরসনে চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা আছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে পারলে ২০২৫ সালের মধ্যে শিশুশ্রম নিরসন হবে। শুধু সরকার একা কাজ করলে এ ক্ষেত্রে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে না। সবার সঙ্গে সমন্বিতভাবে শিশুশ্রম নিরসনে কাজ করা প্রয়োজন।

আমি মনে করি, মন্ত্রণালয়ের একটা হটলাইন থাকা উচিত, যাতে কোথাও শিশুশ্রম হতে দেখলে জানানো যায় এবং মন্ত্রণালয় এ ক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করলে ভবিষ্যতে দ্রুতগতিতে বাংলাদেশের শিশুশ্রম নিরসন হবে।

জামিল হাসান

default-image

শিশুর একমাত্র কাজ হওয়া উচিত স্কুলে যাওয়া। শিশুশ্রম একধরনের শোষণ। অনেকে কম অর্থে বেশি সুবিধা নেওয়ার জন্য শিশুশ্রম ব্যবহার করছে।
সমাজসেবা মন্ত্রণালয় সঠিকভাবে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর কাজ করবে। দরিদ্র শিশুরা কাজ করে যে অর্থ পায়, সে পরিমাণ অর্থ তার অভিভাবকদের দেওয়ার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। দরিদ্র শিশুদের বাবা-মায়ের কাজের ব্যবস্থা করা দরকার।
ইউনিসেফ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে। শিশুরা স্কুলে মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছে না। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার ব্যয় নেই। কিন্তু স্কুলের পর কোচিং ও অন্যান্য খাতে অর্থের প্রয়োজন হয়। যেমন তিন হাজার টাকায় গাইড বই কিনতে হয়। দরিদ্র বাবা-মা এসব খরচ বহন করতে পারেন না। স্কুলের পড়া যাতে আনন্দদায়ক ও মানসম্মত হয় এবং স্কুলের পর যেন কোচিংয়ের দরকার না হয়, এ ব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে।
সরকারের নীতি, আইন, উদ্যোগ—সবই আছে। এখন এসব প্রয়োগের দিকে যেতে হবে। সরকার গৃহশ্রমিকদের জন্য একটি নীতিমালা করে অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে।

আইনে বলা আছে, ১৪ বছরের নিচে কেউ কাজ করতে পারবে না। গৃহকর্মী নীতিমালা অনুযায়ী শিশু গৃহকর্মীদের জন্য আইন  হওয়া প্রয়োজন। সঠিক লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে পারলে অবশ্যই আমরা শিশুশ্রম নিরসন করতে পারব।

শ্রীনিভাস বি রেড্ডি

default-image

১২ জুন বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতি​েরাধ দিবস সামনে রেখে আজকের এ গোলটেবিল বৈঠক। এসডিজির অন্যতম লক্ষ্য হলো, কেউ পেছনে থাকবে না। এ লক্ষ্য অর্জন করতে হলে অবশ্যই শিশুশ্রম বন্ধ করা প্রয়োজন।
এ দেশের ১৭ লাখ শিশু  কাজ করছে। এদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা খুবই প্রয়োজন। বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার জন্যও এটা জরুরি।
আমরা সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অনুসারে ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বের কোথাও শিশুশ্রম থাকবে না।
এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে? বাংলাদেশ শিশুশ্রম ব​েন্ধ কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুসারে ২০০৩ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ১৫ লাখ শিশুর শিশুশ্রম নিরসন হয়েছে। এখনো ১৭ লাখ শিশু, শিশুশ্রমের সঙ্গে জড়িত। ২০২৫ সালের মধ্যে শিশুশ্রম নিরসন করতে হবে।
বাংলাদেশ যেভাবে কাজ করছে, তাতে ২০২৫ সালের শিশুশ্রম নিরসন করা সম্ভব। কিন্তু আমরা এই চ্যালেঞ্জটা নিতে প্রস্তুত আছি কি না। এর জন্য একটা বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে।

শিশুশ্রমের জন্য বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য একমাত্র কারণ নয়। বাংলাদেশ সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করে। একান্তই যদি কোনো পরিবারকে শিশুর আয়ের ওপর চলতে হয়, তাহলে সেই পরিবারকে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, শিশুশ্রম ও শিশুর কাজ এক নয়। যে কাজ শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানসিক বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, সেটা শিশুশ্রম। শিশু তার নিজের ও পরিবারের প্রয়োজনে কিছু কাজ করতেই পারে।

আশা করি, ভবিষ্যতে সরকার শিশুশ্রম নিরসনে আরও ফলপ্রসূভাবে কাজ করবে। আমরা সরকারকে এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে যাব।

মো. মুজিবুল হক, এমপি

default-image

আমরা অনেক কিছু পেরেছি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্ব আমাদের প্রশংসা করছে। শিশুশ্রমও আমরা বন্ধ করতে পারব।
অনেকগুলো মন্ত্রণালয় শিশুশ্রম নিরসনে যার যার মতো কাজ করে। এই কাজটিই যদি আমরা সমন্বিতভাবে করতে পারি, তাহলে অনেক অগ্রগতি অর্জন করতে পারি। শিশুশ্রম বন্ধে কীভাবে সমন্বিতভাবে কাজ করা যায়, ইতিমধ্যে আমরা সেই উদ্যোগ নিয়েছি।
২০২১ সালের মধ্যে আমাদের মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার লক্ষ্য আছে। এ সময়ের মধ্যে আমরা অন্তত ঝুঁকিপূর্ণ শ্রম নিরসন করতে চাই। এ লক্ষ্যে কাজ করছি। ২০২৫ সালের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে শিশুশ্রম নিরসনের জন্য আমরা কাজ করছি।
শিশুশ্রমের কিছু কারণ আছে। আবার আমাদের মানসিকতাও এর জন্য দায়ী। আমরা কিছু মানুষ মনে করি, ওরা দরিদ্র। ওদের সমস্যা আছে। তাই ওরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করবেই। এ ধরনের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

আমরা বাইরে অনেকে অনেক বড় কথা বলি। কিন্তু নিজের বাসায় যে মানুষটি কাজ করছে, তার বেতন, ছুটি, কর্মঘণ্টা—কোনো ক্ষেত্রে ছাড় দিচ্ছি না। সপ্তাহের সাত দিনই তাকে কাজ করতে হয়। তাই আগে আমাদের বদলাতে হবে।

আমি চেষ্টা করে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভরণপোষণ আইন, গৃহশ্রমিকের নীতিমালা করেছি। ভবিষ্যতে গৃহশ্রমিকদের জন্য আইনও হবে।

আমাদের মানসিকতার উন্নতি করতে হবে। মানুষ তার ফ্রিজ, টেলিভিশন, অন্যান্য আসবাব রাখার জায়গা ঠিক করে। কিন্তু বাসায় যে মানুষ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করে, প্রায়ই ক্ষেত্রে তার কোনো থাকার জায়গা থাকে না।

গণমাধ্যম যদি শিশুশ্রম বন্ধে বেশি করে লেখালেখি করে। এনজিও যদি এ ক্ষেত্রে কাজ করতে থাকে, তাহলে সমাজে সচেতনতা তৈরি হয়। আমাদের জন্য কাজ অনেক সহজ হবে।

মতিউর রহমান: আজকের আলোচনার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সব সময় সামাজিক সমস্যার বিষয়গুলোতে খুবই গুরুত্ব দিই। আমাদের পত্রিকায় এসব বিষয় বেশি করে লেখার চেষ্টা করি।

আমি জেনে আনন্দিত হলাম যে প্রথম আলোয় প্রকাশিত বৃদ্ধের খবর মাননীয় মন্ত্রীকে বৃদ্ধ বাবা–মায়ের ভরণপোষণ ​আইন করতে অনুপ্রাণিত করেছিল। এ ধরনের ঘটনা মানুষকে বিভিন্নভাবে উৎ​​সাহিত  করে।​

বিভিন্ন সমস্যার মধ্যেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের অনেক অর্জন আছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক ক্ষেত্রে ​আমরা এগিয়েছি। আরও অনেক কিছু করার আছে। গণমাধ্যম, এনজিও কাজ করছে।

কিন্তু সবার ওপরে সরকার। সরকারের পরিকল্পনা ও ফলপ্রসূ নীতির জন্য দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আমরা এক উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ পাব।

আব্দুল কাইয়ুম: শিশুশ্রম নিরসনে সরকার, এনজিওসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা রয়েছে।

সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করলে ২০২৫ সালের মধ্যে নিশ্চয়ই বাংলাদেশ শিশুশ্রমমুক্ত হবে। প্রথম আলোর পক্ষ থেকে সবাইকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

আলোচনায় সুপারিশ

* এবারের বিশ্ব ​শিশুশ্রম প্রতিরোধ ​িদবসের প্রতিপাদ্য ‘উৎ​পাদন থেকে পণ্যভোগ, শিশুশ্রম বন্ধ হোক’–এর প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে

*   জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মকৌশলে শিশুশ্রমকে অগ্রাধিকার ​িভত্তিতে গুরুত্ব দিতে হবে

*   ২০২১ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ও ২০২৫ সালের ​মধ্যে সব ধরনের শিশুশ্রম বন্ধে আইনের পর্যালোচনা ও সংশোধন প্রয়োজন 

*   গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণনীতি ২০১৫ অনুসারে ১৪ বছরের ​ি​নচে কোনো শিশুকে গৃহকর্মে নিয়োগ করা যাবে না 

* বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। সঠিক সমন্বয় থাকলে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারব

যাঁরা অংশ নিলেন 

মো. মুজিবুল হক, এমপি   : প্রতিমন্ত্রী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়

মো. নজরুল ইসলাম খান  : অতিরিক্ত সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

খোন্দকার মোস্তান হোসেন    :      যুগ্ম সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়

সৈয়দ আহমেদ                : ইন্সপেক্টর জেনারেল, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই)

শ্রীনিভাস বি রেড্ডি          : কান্ট্রি ডিরেক্টর, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা

তোফায়েল আহমেদ       : পরিচালক, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন

জামিল হাসান                 : চাইল্ড প্রটেকশন অফিসার, ইউনিসেফ

এমরানুল হক চৌধুরী        : চেয়ারপারসন, বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম

টিম হোয়েট                    : ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর, সেভ দ্য চিলড্রেন

ফ্রেড উইটিভিন               : ন্যাশনাল ডিরেক্টর, ওয়ার্ল্ড ভিশন

ফারুক আহমেদ               : সেক্রেটারি জেনারেল, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন

সুক্কুর মাহমুদ                   : চেয়ারপারসন, ন্যাশনাল কো–অর্ডিনেশন কমিটি অন ওয়াকার্স এডুকেশন

মরিয়ম আক্তার                : সহসভাপতি, বাংলাদেশ বস্ত্র ও পোশাকশিল্প শ্রমিক লীগ

মতিউর রহমান            : সম্পাদক, প্রথম আলো

সঞ্চালক

আব্দুল কাইয়ুম           : সহযোগী সম্পাদক, প্রথম আলো 

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন