default-image

ফটিকছড়ি উপজেলার তেলপারই খাল বর্তমানে অনেকটাই পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। এর ফলে উপজেলার ৫০০ একর বোরো চাষের জমিতে সেচসংকট দেখা দিয়েছে। পানির অভাবে লালচে হয়ে পড়েছে ধানের চারা।
নিশ্চিন্তাপুর, ছাদেকনগর, আজিমনগর, নানুপুর, রোসাংগিরী, দমদমা, লেলাং ও চাড়ালিয়াহাট এলাকার বাসিন্দারা জানান, সেচের জন্য ওই এলাকার কৃষকেরা তেলপারই খালের ওপর নির্ভর করেন। খালের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় তিন হাজার কৃষক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার পাহাড়ের পাদদেশ থেকে নেমে আসা তেলপারই খাল মানিকছড়ি, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী উপজেলা হয়ে রাউজানের সর্তা নদীতে গিয়ে মিশেছে। এরপর সর্তা গিয়ে মিশেছে কর্ণফুলী নদীর সঙ্গে। কয়েক বছর ধরে বর্ষায় পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে ভেসে আসা বালু, পলি এবং ময়লা-আবর্জনা খালের তদদেশ ধীরে ধীরে ভরাট করেছে। খনন না করায় খালটি পানি ধারণক্ষমতা হারিয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পানি শুকিয়ে খালটি মৃতপ্রায় হয়ে পড়ে। উপজেলার আজিমনগর গ্রামের রফিকুল আলম বলেন, একসময় তেলপারই ছিল স্রোতস্বিনী।
এ খালে তখন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। খালের পানি সেচের কাজে ব্যবহৃত হতো। বিশেষ করে আজিমনগর, রোসাংগিরী, নিশ্চিন্তাপুর, ছাদেকনগরে সবজি ও বোরো চাষের জন্য খালের পানি ব্যবহার করতেন চাষিরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তর নিশ্চিন্তাপুর গ্রাম থেকে লেলাং এলাকা পর্যন্ত খালের প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় পানি নেই। খালের নিচু এলাকায় সামান্য পরিমানে আছে এখনো। সেখান থেকে কলসি ও বালতি ভরে পানি নিয়ে খালের পাড়ের অনেক চাষি বিভিন্ন সবজি খেতে সেচ দিচ্ছেন।
লেলাং গ্রামের বোরো চাষি মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, তেলপারই খালের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় চাষাবাদ করতে পারছেন না তাঁরা। ফলে কৃষক পরিবারগুলোর অভাব-অনটনে দিন কাটছে।
ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্তকর্তা লিটন দেবনাথ বলেন, উপজেলার লেলাং, দমদমা, পূর্ব-মাইজভান্ডার, রোসাংগিরী, আজিমনগরসহ কয়েকটি এলাকার প্রায় ৫০০ একর জমির বোরো উৎপাদন তেলপারই খালের পানি সেচের ওপর নির্ভরশীল। ইদানীং খালে পানি শুকিয়ে যাওয়ায় চাষাবাদ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। পানির অভাবে প্রায় ৯-১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বোরো খেতে সেচের সংকট রয়েছে।
ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম. তহিদুল আলম বলেন, তেলপারই খালের পানি শুধু সবজি নয়, এখানকার বোরো চাষাবাদও নির্ভরশীল। কিন্তু এই খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় অনেক কৃষক পরিবারই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। এটি খননের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন