বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আছে। সরকারপ্রধান একজন সচেতন নারী। ইউনিয়ন পরিষদের নারী নেতৃত্ব বা তৃণমূল পর্যায়ের নারী নেতৃত্ব, জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য ৫০টি আসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের আবাসনের ব্যবস্থা করা, যেকোনো প্রকল্পে লিঙ্গসমতা নিশ্চিত হবে কি না বা নারীর অংশগ্রহণ থাকবে কি না, এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন।

কোনো দেশের কথা উল্লেখ না করে মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশকে যেন অন্ধকার রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করা না হয়। উঁচু আসনে বসে আঙুল তুলে কিছু দেখাতে চাইলে আমরা মানব না। ছোট করার প্রবণতা প্রতিহত করা হবে। বন্ধুত্ব মানা হবে।’

আজ শনিবার অনলাইনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সংগঠন দ্য হাঙ্গার প্রজেক্টের সহায়তায় নারীনেত্রীদের সংগঠন বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের সপ্তম জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘আমাদের অঙ্গীকার: নারী ও কন্যাশিশু সুরক্ষার’ প্রতিপাদ্য নিয়ে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তৃণমূলসহ নেটওয়ার্কের বিভিন্ন পর্যায়ের নারীনেত্রীরা অংশ নেন।

সম্মেলনের বিশেষ অতিথি গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, গত মার্চে প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের জেন্ডার গ্যাপ ইনডেক্সে বাংলাদেশ ১৬৫টি দেশের মধ্যে ৬৫তম অবস্থানে আছে। ২০১৫ সাল থেকে চারটি সূচকে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে। এগুলো হচ্ছে গড় হিসাব। বলা যায়, সংখ্যাগতভাবে নারীদের অগ্রগতি হচ্ছে। তবে নারীর অংশীদারত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সহিংসতা ও নির্যাতনের প্রশ্নে বাংলাদেশকে বারবার হোঁচট খেতে হচ্ছে। নারী নির্যাতনের বিচার কেন হচ্ছে না, বাল্যবিবাহ কেন বাড়ছে—এ ধরনের বিষয়ে তৃণমূলের নারীদের আরও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে।

দ্য হাঙ্গার প্রজেক্টের গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও দেশীয় পরিচালক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি। এ ক্ষেত্রে নারীর সত্যিকার ক্ষমতায়ন হয়নি। চলতি বছরের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোতে এক-তৃতীয়াংশ পদে নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হলো না, যা দুর্ভাগ্যজনক।

বদিউল আলম মজুমদার জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত ৮১৩ জন কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ১২৭ জন কন্যাশিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। নারীর প্রতি এসব নির্যাতনের বড় কারণ হলো পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা। এ মানসিকতা পুরুষের রক্ত ও সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে গেছে।

বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের সম্পাদক নাছিমা আক্তার বলেন, তৃণমূলের নারীনেত্রীরা মাঠেঘাটে কাজ করেছেন বলেই বাংলাদেশ এমডিজিতে সম্মাননা অর্জন করতে পেরেছে। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন এসডিজি অর্জনেও নারীরা কাজ করে যাচ্ছেন।
দ্য হাঙ্গার প্রজেক্টের গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর ক্যাথি বার্ক, নেদারল্যান্ডসের দ্য হাঙ্গার প্রজেক্টের পরিচালক অ্যানালিস ক্যানিস, বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের সভাপতি রাশিদা আক্তার প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।

সম্মেলনে নারীনেত্রীদের পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন চট্টগ্রামের শাহানা বেগম, কুমিল্লার শাহানা হক, ময়মনসিংহয়ের আঞ্জু আনোয়ারা, সিলেটের সৈয়দা আরমিনা আক্তার, রাজশাহীর রোকসানা আক্তার, ঢাকার ট্রান্সজেন্ডার ইভান আহমেদ, বরিশালের ফেরদৌসি জামান, খুলনার মল্লিকা দাস প্রমুখ।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন