default-image

‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ বইয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি অন্তর্ভুক্ত না করা ইতিহাস বিকৃতির অনভিপ্রেত ঘটনায় শুধু বিচারিক বিবেক নয়, সবার অনুভূতিতে আঘাত করেছে বলে রায়ে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।  

বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই রায় দেন।

ঘোষিত রায়ে বলা হয়, রিট আবেদনকারীর রিট করার যথেষ্ট কারণ ছিল। আদালতের নির্দেশে ইতিমধ্যে প্রায় সব বই সংগ্রহ করে ধ্বংস করা হয়েছে। ওই ভুলের জন্য সংশ্লিষ্টরা নিঃশর্ত ক্ষমাও চেয়েছেন। তাই রিটটি নিষ্পত্তি করা হলো।

বিজ্ঞাপন

বইটিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি না ছাপানো ইতিহাস বিকৃতি উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে সাতক্ষীরা সদরের বাসিন্দা ড. কাজী এরতেজা হাসান ২০১৮ সালের অক্টোবরে রিট করেন। এর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২ অক্টোবর হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। ওই বইয়ে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ অনুসন্ধানে কমিটি গঠন করতে অর্থ বিভাগের সচিবকে নির্দেশ দিয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

এ অনুসারে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়। কমিটির মতামত অংশে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ শিরোনামের বইয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি অন্তর্ভুক্ত না করায় ইতিহাস বিকৃত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট বঙ্গবন্ধুর ছবি খুঁজে পাওয়া যায়নি এ যুক্তিতে বঙ্গবন্ধুর ছবি বইয়ে অন্তর্ভুক্ত না করার বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত।

রুলের ওপর শুনানি শেষে গত বছর বিষয়টি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রায় হয়। বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করা হয়। এর আগে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী (বর্তমানে অ্যাটর্নি জেনারেল) এ এম আমিন উদ্দিন ও জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

ওই বইয়ের সম্পাদক শুভংকর সাহার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ হাসান যুবাইর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি ও আইনজীবী মো. আজিজ উল্লাহ ইমন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নাসিম ইসলাম।

বইটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ওঠার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এক ব্যাখ্যায় বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ বইয়ের পাণ্ডুলিপি তৈরি ও প্রকাশনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় ২০১৩ সালের জুন মাসে। এ বিষয়ে তখন উপদেষ্টা কমিটি ও সম্পাদনা নামে দুটি কমিটি গঠিত হয়। ওই কমিটি দুটি পাণ্ডুলিপি চূড়ান্তের পর বইটি ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত হয়। বইটি প্রকাশনার পরপরই এতে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যত্যয় নজরে এলে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর বইটির বিতরণ বন্ধের নির্দেশ দেন এবং বইটি রিভিউয়ের জন্য একজন ডেপুটি গভর্নরের নেতৃত্বে একটি রিভিউ কমিটি গঠন করেন।

রায়ের পর আইনজীবী সৈয়দ হাসান যুবাইর প্রথম আলোকে বলেন, বইটি প্রথমে দুই হাজার কপি ছাপা হয়। আদালতের নির্দেশনার পর এক হাজার ৯৭৬টি কপি বই সংগ্রহ করে ধ্বংস করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধুর ছবি সংযুক্ত করে বইটি নতুন করে ছাপানো হয়, যা আদালতে দাখিল করা হয়েছে। তবে বাজারে সরবরাহ করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন