default-image

ভার্চ্যুয়াল আদালতে আবেদন করেও বিপাকে পড়ছেন আইনজীবীরা। ভার্চ্যুয়াল আদালতেও ধাপে ধাপে তদবির করতে হয়। করোনাভাইরাসের কারণে ২৫ মার্চ থেকে নিয়মিত আদালত বন্ধ রয়েছে। ভার্চ্যুয়াল আদালতে চলছে বিচারিক কার্যক্রম। আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পুলিশের কারণে আদালতের ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়েছে। কিছু লোকের জন্য ভার্চ্যুয়াল হলেও আইনজীবীদের আদালতে কাজ করতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগী তরুণ আইনজীবী সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আবেদন করার পর শুনানির জন্য লিংক পেতে পিয়ন-পেশকারকে সন্তুষ্ট করতে হয়। জিআরও শাখার পুলিশকে সন্তুষ্ট করতে হয়। এসব অনিয়ম বেড়েই চলেছে। শোনার কেউ নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনেও সিএমএম স্যারকে পাওয়ার সুযোগ নেই। ফলে আদালতের কর্মচারী ও পুলিশের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে।

এ বিষয়ে অপরাধ ও তথ্য প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার জাফর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘জিআরওদের বিরুদ্ধে আমি কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে পেলে অবশ্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ব্যক্তির দায় প্রতিষ্ঠান নেবে না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সে যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঢাকা জেলার আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এ ধরনের কাজ যদি কোনো পুলিশ সদস্য করে থাকে অবশ্যই তার বা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইনজীবীদের অনুরোধ করব, তাঁরা যেন বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে আমাকে অবহিত করেন। তাহলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহজ হবে।’

আইনজীবী ফয়সাল বলেন, ‘প্রতারণার একটি মামলায় জামিনের আবেদন করি। পরদিন সকালেই সাধারণ নিবন্ধন শাখা (জিআর) থেকে ফোন করে বলেন, “স্যার আমি জিআরও বলছিলাম। আপনি জামিনের আবেদন করেছেন। একটু দেখা করে যেয়েন।”’ তিনি বলেন, এই দেখা চোখের দেখা নয়। এই দেখার সঙ্গে রয়েছে অর্থের সম্পর্ক।

ভার্চ্যুয়াল আদালতে আইনজীবীরা পদে পদে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। ভার্চ্যুয়াল আদালত ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হোসেন আলী খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ জন্য প্রধান বিচারপতির বরাবরে চিঠি দিয়ে নিয়মিত আদালত খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে কী হচ্ছে না হচ্ছে এগুলো নিয়ে আপনারা লেখেন।’

নিয়মিত আদালত চালু করার জন্য সাধারণ আইনজীবী ঐক্য পরিষদ প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করেছে। পরিষদের সদস্যরা আদালত খুলে দেওয়ার জন্য আন্দোলন করছেন। সাধারণ আইনজীবী ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মমতাজ উদ্দিন মেহেদী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের অভিযোগ ভার্চ্যুয়াল আদালতের বিচারপতি বা বিচারকদের বিরুদ্ধে নয়। কিন্তু ভার্চ্যুয়াল আদালতের পেশকার, পিয়ন ও পুলিশদের বিরুদ্ধে সীমাহীন অভিযোগ রয়েছে।’

মমতাজ উদ্দিন মেহেদী বলেন, নিয়মিত আদালত বন্ধ থাকার ফলে আইনজীবীদের জীবন-জীবিকার ওপর প্রভাব পড়েছে। তেমনি বিচারপ্রার্থীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই করোনাকালে দুর্বৃত্তদের জমিজমা দখল থেমে নেই। প্রথম দিকে ভার্চ্যুয়াল আদালতে এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ ছিল না। এখন যা দেওয়া হয়েছে, তা খুব সীমিত।

আইনজীবী মো. শাহাজান বলেন, আইনজীবীদের একটি ধারণা জন্মেছে যে কিছু কিছু আদালতের পেশকার-পিয়নকে খুশি না করলে সহজে লিংক মেলে না। আদালতের পুলিশের আচরণে মনে হয়, তারাই সব। প্রতিনিয়তই সাধারণ আইনজীবীদের এ ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়।

আইনজীবী আমিনুল গনি বলেন, ভার্চ্যুয়াল আদালত সঠিক নিয়মে চললে, কথা ছিল না। অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন না। আদালতের পেশকার এবং জিআরও শাখার পুলিশের কাছে অনেকটা জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

মামলা জামিনের আবেদন করা হলে বা আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করা হলে তবে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে তার লিংক দেওয়া হয়। লিংক দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়া হয়। জামিন শুনানির আগে আদালত পুলিশের ডাকে সাড়া দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে সরকারি নম্বর ব্যবহার করার পরিবর্তে ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরও ব্যবহার করে থাকেন। মহানগর দায়রা জজ, ঢাকার জেলা ও দায়রা এবং সিজেএম আদালতের প্রায় একই চিত্র। সরাসরি ভার্চ্যুয়াল আদালতে আসামির জামিন নামা দাখিল করা হয়। তাই জামিন নামা দাখিল করার পর জামিন আদেশ কারাগারে যায়নি। এমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিচারপ্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন