বগুড়ার শেরপুরে অযত্ন ও অবহেলায় পৌরসভার একমাত্র শিশুপার্কের স্থাপনাগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। ভেঙে গেছে এক পাশের সীমানা প্রাচীর। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, পার্কের উন্নয়নের জন্য বাজেট থাকলেও তা দিয়ে কোনো কাজ করা হচ্ছে না ।
শিশুপার্ক সংশ্লিষ্ট এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর (শেরপুর পৌরসভার চার নম্বর ওয়ার্ড) গোবিন্দ বাগচি বলেন, ১৯৯৮ সালে স্থানীয় লোকজনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পৌরকর্তৃপক্ষ প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে উত্তরসাহা পাড়া মহল্লার মধ্যে প্রায় আড়াই বিঘা জমিতে শিশুপার্ক করা হয়। পার্কের ভেতরে পৌর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। পার্কে শিশুদের জন্য দুটি দোলনা , দুটি স্লিপার ও একটি বসার স্থান নির্মাণ করা হয়। প্রায় চার-পাঁচ বছরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে রাইডগুলো ভেঙেচুরে নষ্ট হয়ে গেছে। বসার স্থানটিও ভেঙে গেছে। এ কারণে শিশুরা এখানে এসে খেলাধুলা করতে পারছে না।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, শিশুপার্কটির পূর্বপাশের সীমানা প্রাচীর ভেঙে গেছে। পার্কের ভেতরে গরু ও ছাগল বিচরণ করছে । স্থানীয় লোকজন পার্কের মধ্যে রশি টাঙিয়ে কাপড় শুকাচ্ছে। পৌর এলাকার কাসিন্দা দুর্জয় কর্মকার (১১) নামের এক শিশু জানায়, পার্কে তারা খেলার সুযোগ পাচ্ছে না।
শিশুপার্কের পাশের বাসিন্দা শান্তনু সান্যাল বলেন, এই পার্কটি শহরের শিশুদের বিনোদনের একমাত্র স্থান। প্রতিদিন বিকেল হলেই এখানে শিশুরা আসত। তাদের হৈহুল্লোড়ে মুখরিত হত পুরো এলাকা।
শেরপুর পৌরসভার সচিব দীলিপ মহন্ত বলেন, পার্কটির উন্নয়নের জন্য বাজেট ধরা হলেও আর্থিক সংকটের কারণে কাজ করা সম্ভব হয়নি।
শেরপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, তাঁরা আধুনিক শিশুপার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। আগামী তিন বছরের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় শিশুপার্ক নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন