default-image

অবশেষে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন বগুড়া-৩ আসনে (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) বিএনপির প্রার্থী মাছুদা মোমিন। তিনি গত সোমবার রাত ১১টার দিকে বগুড়ার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদের কাছ থেকে প্রতীক বরাদ্দের চিঠি গ্রহণ করেন।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জানতে চাইলে মাছুদা মোমিন বলেন, ‘২০ ডিসেম্বর হাইকোর্ট আমাকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। এই আদেশের চার দিনের মাথায় সোমবার রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রতীক বরাদ্দের সেই চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু এখনো নির্বাচনী এলাকায় পোস্টার-প্রচারপত্র পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। নেতা–কর্মীদের পুলিশের ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে। এই স্বল্প সময়ে সব ভোটারের কাছে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তবু শেষ পর্যন্ত ধানের শীষ ফিরে পেয়ে জেগে উঠেছেন ভোটাররা। নির্বাচন অবাধ হলে এই আসনে ধানের শীষের ভোটবিপ্লব হবে।’

 বগুড়ার রিটার্নিং কর্মকর্তা ফয়েজ আহাম্মদ বলেন, ইসির চিঠি হাতে পাওয়ার পর সোমবার রাতেই মাছুদা মোমিনকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে গতকাল সকালে মাছুদা মোমিন তাঁর পরিবারের সদস্য ও নেতা–কর্মীদের নিয়ে আদমদীঘির গ্রামের বাড়ি কালাইকুড়ি গিয়ে তাঁর শ্বশুরের (একাত্তরে আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ান গ্রাম ইউনিয়ন শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ও সাবেক সাংসদ আবদুল মজিদ তালুকদার) কবর জিয়ারত করেন। এরপর সান্তাহারে দলীয় কার্যালয়ে নেতা–কর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন মাছুদা মোমিনের দেবর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মহিত তালুকদার। বক্তব্য দেন মাছুদা মোমিন, দুপচাঁচিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হামিদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলমপ্রমুখ।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া-৩ আসনে প্রাথমিকভাবে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক আসামি সাবেক সাংসদ আবদুল মোমিন তালুকদার, তাঁর স্ত্রী মাছুদা মোমিন এবং মোমিনের ছোট ভাই আবদুল মহিত তালুকদারকে। কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যানের পদে থেকে নির্বাচন করায় আইনগত জটিলতায় রিটার্নিং কর্মকর্তা বাছাইয়ের দিনে মুহিত তালুকদারের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। পরে বিএনপি থেকে মাছুদা মোমিনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়। এদিকে হাইকোর্টে রিট করে নির্বাচনী মাঠে ফেরেন মহিত তালুকদার। দল থেকে প্রার্থিতা পরিবর্তন করে আবার মুহিত তালুকদারকে ধানের শীষের প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়। উচ্চ আদালতের আরেক আদেশে আটকে যায় মহিত তালুকদারের প্রার্থিতা। তিনি হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে ‘লিভ টু আপিল’ করেন। সেখানে হাইকোর্টের রায় বহাল হলে পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। পরে সেটাও খারিজ হয়ে গেলে নির্বাচনে ফেরার সুযোগ হারান মুহিত। এই প্রেক্ষাপটে এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শূন্য হয়ে পড়ে। তখন মাছুদা মোমিন হাইকোর্টে পৃথক রিট করেন। ২০ ডিসেম্বর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ মুহিত তালুকদারের পরিবর্তে মাছুদাকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

এ আসনে ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে সাংসদ হন মাছুদার স্বামী আবদুল মোমিন তালুকদার। তিনি ১৯৭১ সালে ‘খোকা রাজাকার’ নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে খুন, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠনসহ মানবতাবিরোধী নানা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

মুনসুরুল হক তালুকদার টুলু, আবদুস সাত্তার, আবদুল জলিল, আলতাফসহ অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকার ক্যাম্পে ধরে নিয়ে নির্মম নির্যাতনের পর গুলি করে হত্যার অভিযোগ রয়েছে মোমিন তালুকদারের বিরুদ্ধে। ১৯৭১ সালে হত্যা, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগসহ ১৯ জনকে হত্যার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ২০১১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন আদমদীঘির কায়েতপাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা সুবিদ আলী। ১৮ মে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। তার পর থেকেই তিনি পলাতক।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0