কম্পিউটার, মুঠোফোন প্রভৃতি ইলেকট্রনিক যন্ত্রের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে নষ্ট বা বিকল হয়ে যাওয়া এসব যন্ত্র বা ই-বর্জ্যের পরিমাণ। যদি ঠিকমতো এসব ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহার না করা যায়, তবে তা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। কীভাবে বাংলাদেশে ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহার হতে পারে, সেটাই দেখিয়ে দিয়ে পুরস্কার জিতে নিয়েছে শহীদ বীর উত্তম লে. কর্নেল আনোয়ার গার্লস কলেজের ছাত্রীরা।
এমন অসংখ্য উদ্ভাবনী চিন্তা আর বৈজ্ঞানিক প্রকল্প প্রদর্শনীর মিলনমেলা গতকাল শনিবার শেষ হলো রাজধানীর রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের মাঠে। গত বৃহস্পতিবার থেকে এখানে চলছিল তিন দিনের ‘অষ্টম ডিআরএমসি-স্কয়ার জাতীয় বিজ্ঞান উৎসব’। ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের মতো আরও নানা ধরনের উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনীর মাধ্যমে পুরস্কার জিতে নিয়েছে সেন্ট যোসেফস স্কুল ও কলেজ, সেন্ট গ্রেগরি স্কুল ও কলেজ, হলিক্রস স্কুল ও কলেজ, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল কলেজ এবং ওয়াইডব্লিউসিএ স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা।
স্কয়ার গ্রুপের আর্থিক সহযোগিতায় বিজ্ঞান উৎসব আয়োজনে সহযোগিতা করেছে প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, প্রাণ-আরএফল গ্রুপের প্রপার্টি লিফট। মিডিয়া পার্টনার ছিল মাছরাঙা টিভি, চ্যাম্পস টোয়েন্টিওয়ান, এবিসি রেডিও, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর; বেভারেজ পার্টনার পারটেক্স গ্রুপ, কানেকটিভিটি গুগলবাস ও ফাইবার হোম এবং ব্যানার ভিনাইল ওয়ার্ল্ড গ্রুপ।
বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রকল্প প্রদর্শনীতে তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা তুলে ধরেছে। সারা দেশের শতাধিক স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের প্রদর্শনী নিয়ে বিজ্ঞান উৎসবে অংশ নেয়। গতকাল বিজ্ঞান উৎসবের সমাপনী দিনে বিভিন্ন শাখায় সেরা প্রতিযোগীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন পদার্থবিজ্ঞানী অধ্যাপক আলী আসগর।
ঢাকা রেসিডেনসিয়াল কলেজের খেলার মাঠ ও মিলনায়তনে এই বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিল গুগলবাস, বাংলাদেশে যাত্রা শুরুর পর প্রথমবারের মতো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুগলবাস অংশ নিয়েছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আলী আসগর বলেন, পরীক্ষা পাসের বা ভালো চাকরি পাওয়ার জন্য বিজ্ঞানশিক্ষা নয়। বিজ্ঞান মানে সাহসিকতা, সৃজনশীলতা ও স্বাধীনতা। এ স্বাধীনতা চিন্তার স্বাধীনতা।
বিজ্ঞান উৎসব আয়োজনে যাঁরা সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের ধন্যবাদ জানান কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান সুবহানী। তিনি বলেন, রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ সব সময় নানা ধরনের সহশিক্ষা কার্যক্রম চালায়। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন