default-image

চট্টগ্রামের কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্রে বকেয়া মজুরির দাবিতে বিক্ষোভরত শ্রমিকদের ওপর গুলি ও নিহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে শনিবার বিবৃতি দিয়েছেন দেশের ৬৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তাঁরা এ ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও দোষী পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।


পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরি দিতে অবহেলার কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্যোক্তা এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সরকারের কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণসংক্রান্ত চুক্তি বাতিলের দাবি জানানো হয়। একই ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন বিবৃতি দিয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির পাশাপাশি নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে একজন শ্রমিকের আজীবন আয়ের সমান আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানায়।
চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপ ও চীনা প্রতিষ্ঠান সেফকো থ্রি পাওয়ার কনস্ট্রাকশন কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে নির্মাণাধীন ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টে শনিবার শ্রমিকদের বিক্ষোভে গুলি চালায় পুলিশ। এতে পাঁচজন নিহত এবং অনেকেই আহত হন। এর আগে ২০১৬ সালে একই বিদ্যুৎকেন্দ্রে গুলিতে চারজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন


৬৮ জন বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতিতে বলা হয়, বকেয়া মজুরির দাবিতে সমাবেশরত নিরীহ শ্রমিকদের ওপর গুলিবর্ষণ একটি গর্হিত অপরাধ ও গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য লজ্জাকর। যেখানে জনগণের নিরাপত্তা দেওয়া পুলিশের কাজ, সেখানে এমন নির্মম ও অবিবেচনাপ্রসূত হত্যাকাণ্ড ক্ষমতার অপপ্রয়োগ এবং চরম অনাচারের শামিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, করোনা মহামারির এ দুর্যোগে শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা যেখানে এমনিতেই দুর্বিষহ, সেখানে মজুরি না দেওয়া শ্রম আইন ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন। এস আলম গ্রুপের মতো ধনী শিল্পগোষ্ঠী কেন শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ করেনি, তার যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।


বিবৃতিতে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, হামিদা হোসেন, আকমল হোসেন, সুলতানা কামাল, আলী ইমাম মজুমদার, আনু মুহাম্মদ, খুশী কবির, হোসেন জিল্লুর রহমান, ইফতেখারুজ্জামান, শাহীন আনাম, শহিদুল আলম, শামসুল হুদা, পারভীন হাসান, সি আর আবরার, সারা হোসেন, রেহনুমা আহমেদ, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমান খান, আসিফ নজরুল, রোবায়েত ফেরদৌস, জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, জোবায়দা নাসরিন, নূর খান, মাহা মির্জা, আহমেদ কবির কিশোর প্রমুখ সই করেন।


এদিকে এ ঘটনার নিন্দা এবং তদন্ত ও বিচারের দাবিতে শনিবার বিবৃতি দেয় বাম গণতান্ত্রিক জোট, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), নাগরিক ঐক্য, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, গণসংহতি আন্দোলন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, খেলাফত মজলিস, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এসএসএফ) ও সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন।


নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বিবৃতিতে বলেন, নিরীহ শ্রমিকেরা তাঁদের ন্যায্য দাবি জানাতে গিয়ে গুলি খেয়ে মরবে, এটা স্বাধীন দেশে, স্বাধীনতার এ সুবর্ণজয়ন্তীতে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন