শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা সদরের কলাকান্দা এলাকায় মা ও ছেলের মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল রোববার কলাকান্দার বাসা থেকে মা সূর্যমনি আক্তারের (২১) ঝুলন্ত ও ছেলে সীমান্তর (২) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সূর্যমনি শ্রীবরদীর কলাকান্দা গ্রামের মোটরসাইকেলমিস্ত্রি বিপ্লব হোসেনের স্ত্রী। ঘটনার পর থেকে বিপ্লব পলাতক। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিপ্লবের মা মোর্শেদা বেগমকে থানায় আনা হয়েছে।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিন বছর আগে উপজেলার রানীশিমুল ইউনিয়নের বিলভরট গ্রামের সুরুজ্জামানের মেয়ে সূর্যমনির সঙ্গে কলাকান্দা গ্রামের বিপ্লবের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে বিপ্লবের ছোট ভাই শামীম পুকুরে মাছ ধরে বাসায় ফিরে এসে দেখেন, বিপ্লবের ঘরের ভেতরে তাঁর ভাবি সূর্যমনির গলায় ফাঁস দেওয়া লাশ ঝুলে আছে। আর তাঁর ভাতিজা সীমান্তর গলাকাটা লাশ মাটিতে পড়ে আছে। এ সময় তাঁর (শামীম) চিৎকারে আশপাশের লোকজন ওই বাসায় এসে মা ও ছেলের লাশ দেখতে পান। পরে স্থানীয় ব্যক্তিরা বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে বেলা তিনটার দিকে পুলিশ এসে তাদের লাশ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে পুলিশ লাশ দুটি থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুরতহাল প্রতিবেদনে সূর্যমনির গলায় আঘাতের কালো দাগ দেখা গেছে। এ ছাড়া সীমান্তর গলায় ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে।
শেরপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো. শাহজাহান মিয়া গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে প্রথম আলোকে জানান পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক কলহের জের ধরে মা সূর্যমনি তাঁর ছেলেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে নিজেও গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনার পর থেকে বিপ্লব পলাতক রয়েছেন। তাঁকে আটকের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। সোমবার (আজ) ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দুটি শেরপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন