বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
চেয়ারম্যান সাহেব হঠাৎ বিদ্যালয়ে ছাতা উপহার নিয়ে উপস্থিত হয়ে শিশুদের সামনে বক্তব্য দেন। এ সময় পাঠদান অল্প সময়ের জন্য বন্ধ থাকে।
আশরাফুল হক, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, লক্ষ্মীবরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

এদিকে ওই ছাতাগুলো সরকারি প্রকল্পের টাকায় কেনা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল বেলা ১১টায় লক্ষ্মীবরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউসুফ দেওয়ান নিজের ছবি-সংবলিত ছাতা ও কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বিদ্যালয়ে হাজির হন। এ সময় শিশুরা নিজ নিজ শ্রেণিকক্ষে পাঠ গ্রহণে ব্যস্ত ছিল। পরে ইউসুফ দেওয়ানের নির্দেশে শিক্ষকেরা পাঠদান বন্ধ করে শিশুদের বিদ্যালয়ের মাঠে একত্র করেন। এরপর ইউসুফ দেওয়ান ও তাঁর সমর্থকেরা শিশুদের সামনে চেয়ারম্যানের পাঁচ বছরের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে বক্তব্য দেন। একপর্যায়ে শিশুদের মাধ্যমে তাদের মা-বাবার কাছে ছাতা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন। এরপর প্রত্যেক শিশুকে একটি করে ছাতা দেওয়া হয়। এতে শ্রেণিকক্ষে প্রায় দুই ঘণ্টা পাঠদান বন্ধ থাকে।

চেয়ারম্যান প্রার্থী ইউসুফ দেওয়ান নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন, এই অভিযোগ পেয়ে তাঁর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
জেসমীন আক্তার, রিটার্নিং কর্মকর্তা

এ বিষয়ে লক্ষ্মীবরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশরাফুল হক জানান, চেয়ারম্যান সাহেব হঠাৎ বিদ্যালয়ে ছাতা উপহার নিয়ে উপস্থিত হয়ে শিশুদের সামনে বক্তব্য দেন। এ সময় পাঠদান অল্প সময়ের জন্য বন্ধ থাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইউসুফ দেওয়ান নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে শিশুদের মধ্যে যেসব ছাতা উপহার দিয়েছেন, সেসব সরকারি অর্থে কেনা। লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট-৩ (এলজিএসপি-৩) প্রকল্পের অধীনে ছয় মাস আগে ওই ইউনিয়নে যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, সেই অর্থ দিয়ে ছাতাগুলো কেনা হয়েছে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের এলজিএসপি-৩ প্রজেক্টের উপপরিচালক ফাতেমা তুল জান্নাত জানান, সরকারি অর্থে নির্বাচনের সময় এভাবে ছাতা উপহার দেওয়া ঠিক হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছাতা উপহার দিয়ে শিশুদের মা-বাবার কাছে ভোট প্রার্থনা করার ঘটনায় নোয়াগাঁও ইউপির চেয়ারম্যান প্রার্থী ইউসুফ দেওয়ানের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা জেসমীন আক্তার। তিন কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দেওয়ার সময় বেঁধে দিয়ে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচনের আগে ওই এলাকায় অবস্থিত কোনো প্রতিষ্ঠানে গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে চাঁদা বা অনুদান দিতে পারবেন না। এটা লঙ্ঘন করলে অনধিক ৬ মাসের জেল ও অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান আছে।

চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইউসুফ দেওয়ান বলেন, ‘আমি শিশুদের ভালোবেসে ছাতাগুলো উপহার দিয়েছি। এতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়নি।’

রিটার্নিং কর্মকর্তা জেসমীন আক্তার বলেন, চেয়ারম্যান প্রার্থী ইউসুফ দেওয়ান নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন, এই অভিযোগ পেয়ে তাঁর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। ব্যাখ্যার জবাব পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন