আমাদের আহ্বানে লেখা পাঠিয়েছেন পাঠকেরা। কোভিড–১৯ অতিমারির শঙ্কা ও অনিশ্চয়তার দিনে প্রথম আলোয় প্রকাশিত কোনো খবর থেকে স্বস্তি, আনন্দ, সাহস বা প্রেরণা পেয়ে থাকলে লিখে জানাচ্ছেন সে কথা। লেখা পাঠানোর ঠিকানা: dp@prothomalo.com
default-image

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সংবাদমাধ্যমের সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে পরিসরও। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমের সংখ্যা আদৌ বাড়ছে কি? বছর কয়েক আগে প্রথম আলো যখন সদ্য কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে পা রাখে, সে সময় ফেসবুকে এক আড্ডায় প্রথম আলো পত্রিকার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সাহিত্যিক আনিসুল হক বলেছিলেন, এখন অনেক মিডিয়া হাউস হয়েছে। কতশত নিউজপেপার, অনলাইন পোর্টাল আর টেলিভিশন। তবু দিন শেষে মানুষ খবর যাচাইয়ের জন্য হলেও প্রথম আলোতেই আস্থা রাখে। একজন পাঠক হিসেবে আমারও সেই অভিজ্ঞতা। এমনটা মনে হয় বাংলা ভাষাভাষী আরও লক্ষ কোটি মানুষেরও।

করোনার এই অতিমারিতে জারি করা লকডাউনে অন্য সব প্রতিষ্ঠানের মতো দেশের গণমাধ্যমগুলোও নিদারুণ সংকটে পড়ে। পত্রিকা বিক্রি তলানিতে এসে ঠেকে, বিজ্ঞাপন বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি সংবাদকর্মীদেরও ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে কাজ করতে হয়। এ সময়েও প্রথম আলো যেভাবে রোজকার খবর পরিবেশন করেছে, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। এই সময়ে শিশির মোড়লসহ অন্যান্য সাংবাদিকের করোনাবিষয়ক খবরগুলো শুধু খবর ছিল না, ছিল আরও অনেক বেশি কিছু। মনে পড়ছে জনস্বাস্থ্যবিদ ও আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেনের কথাগুলো। সেসব তথ্য ভয় পেরিয়ে যাওয়ার অফুরন্ত সাহস দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শুরুর দিকে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যু নিয়ে বেশ লুকোচুরি চলছিল। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, আইইডিসিআর ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্যে সমন্বয়হীনতার অভাব ছিল প্রকট। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের মধ্যে তা আতঙ্ক বাড়িয়েছিল বহুগুণে। এ ক্ষেত্রে প্রথম আলো দারুণ কাজ করেছে। সরেজমিন হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরে প্রকৃত বাস্তবতা তুলে ধরেছে মানুষের সামনে। ওই সময়ে ঘরবন্দী মানুষকে সঠিক তথ্য দিতে এর কোনো তুলনা ছিল না।

বস্তুনিষ্ঠ খবর পরিবেশন ছাড়াও জনসচেতনতা বাড়াতেও দারুণ কাজ করেছে প্রথম আলোর দলটি। লকডাউনের শুরুর দিক থেকেই প্রথম আলো অনলাইন সংস্করণে কিছু লেখা সব সময় দেওয়া থাকত। যেমন করোনা হলে কী করবেন, কোথায় যাবেন, কী করে বুঝবেন আপনি আক্রান্ত কি না—জীবনযাপন এখন খানিকটা স্বাভাবিক হয়ে এলেও ওই সময়ে এ প্রশ্নগুলোই ছিল বহুল উচ্চারিত।

আমার নিজেরই একটা অভিজ্ঞতার কথা বলি। লকডাউনের শুরুর দিকে আমাদের পরিবারের একজনের করোনার কিছু কিছু লক্ষণ দেখা দেয়। সে সময় আমার মা একদিন বললেন, ‘প্রথম আলোটা একটু বের কর তো। ওইহানে নাকি কী সব বলে দেওয়া আছে, কখন কী করতে হবে।’ শুনে আমি পুরো থ বনে গেলাম। প্রশ্নটা করেই ফেললাম, ‘তুমি তো কাগজ ছাড়া অনলাইনে খবর পড়ো না। এ খবর তুমি কোথায় পেলে।’ শুনলাম, সুদূর আমেরিকা থেকে খালামণি মাকে ফোন দিয়ে এ তথ্য দিয়েছেন।

কথায় আছে, কারও ঘর পোড়ে, কেউ সে আগুনে আলু পুড়িয়ে খায়। প্রতিটি সংকটকেই কিছু মানুষ তাদের লালসা পূরণের কাজে ব্যবহার করে। করোনাকালেও এটি এসেছে অতিমাত্রায়। দেশের অসাধু কিছু মানুষ করোনাকে টাকার পাহাড় বানানোর মোক্ষম সুযোগ হিসেবে তার সদ্ব্যবহার করেছে। অতিমারির এ সময়ে নতুন করে অনেক চালচোর, তেলচোর, গমচোর ও টাকাচোরকে চিনেছে বাংলাদেশ। আর এর বেশির ভাগই সম্ভব হয়েছে প্রথম আলোর বদৌলতে। এখনো চোখের সামনে ভাসে খাটের নিচে মজুত করা তেলের ভান্ডারের ছবি। প্রথম আলোর মাধ্যমে সেটি দেখা সম্ভব হয়েছিল।

কথাসাহিত্যিক ও নৃবিজ্ঞানী শাহাদুজ্জামান, লেখক সুমন রহমানসহ আরও কয়েকজনের করোনা নিয়ে দুটি গবেষণামূলক নিবন্ধ প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় ছাপা হয়েছিল। সেখানে দেখানো হয়, কীভাবে তথ্য-বিশ্লেষণহীন ভুয়া খবর প্রকাশের মাধ্যমে কিছু মিডিয়া জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রথম আলোয় প্রকাশিত এ ধরনের লেখা সংকটকালে জনমানসে দুদণ্ড স্বস্তি দিয়েছে, সত্যকে দেখিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0