চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) নির্বাচন করতে চায় সরকার। তবে বর্তমান পরিবেশে এ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সরকারের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র জানায়, রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে সরকার এখন ডিসিসি নির্বাচন করার বিষয়ে আন্তরিক। কারণ হিসেবে সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান অবস্থায় বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনে আসার মতো অবস্থায় নেই। তাই এখন নির্বাচন করে সিটি করপোরেশনের নেতৃত্ব নেওয়া অন্য সময়ের তুলনায় সহজ হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রিসভার একজন সদস্য জানান, সিটি নির্বাচনের হাওয়ায় আন্দোলন কর্মসূচি আরও স্তিমিত হয়ে যাবে।
গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের তাগিদ দেন। চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি।
বৈঠক সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী এ সময় বলেন, শুধু চট্টগ্রাম কেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন দিলে কেমন হয়? বৈঠকে উপস্থিত স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে বলেন তিনি।
চলমান সংকটের মধ্যে এই নির্বাচন করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ মনে করেন, দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখা হলেও এই নির্বাচন খুবই প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এখন নির্বাচনের পরিবেশ নেই। নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। আগে এই আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। ড. তোফায়েল গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, চলমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান না করে এই নির্বাচন করাটা হবে হঠকারী সিদ্ধান্ত।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপিরও এই নির্বাচনে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ মুহূর্তে সবার আগে প্রয়োজন জাতীয় নির্বাচন এবং সেই লক্ষ্যে সংলাপ আয়োজন করা। আমরা নীতিগতভাবে মনে করি, সেই কাজটি আগে করতে হবে।’
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সুলতানগঞ্জ এলাকা নিয়ে সীমানা জটিলতার কারণে দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন করা যাচ্ছিল না। সম্প্রতি সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতার নিরসন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রণালয়।
জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব অশোক মাধব রায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশন পরবর্তী উদ্যোগ নেবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, গত ২৫ জানুয়ারি কমিশন সচিবালয় থেকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য টাকা চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন পরিচালনার জন্য আরও ৪৫ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। সরকারের চলতি বাজেটে এই নির্বাচনের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা আছে।
২০০৭ সালে মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও নির্বাচন কমিশন ঢাকা সিটিতে নির্বাচন করতে পারেনি। ২০১১ সালের ৩০ নভেম্বর সরকার ঢাকা সিটিকে দুই ভাগে ভাগ করে। এরপর সীমানা জটিলতার কারণ দেখিয়ে ইসি এত দিন নির্বাচন করেনি।
২০১১ সালের ১ ডিসেম্বর দায়িত্ব হস্তান্তর করেন ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত মেয়র সাদেক হোসেন খোকা। এর পর থেকে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। একজন প্রশাসক দায়িত্ব পালন করে আসছেন ছয় মাস করে। এভাবেই কেটে গেছে প্রায় সাড়ে তিন বছর। এর মধ্যে বারবার আওয়াজ তোলা হলেও নির্বাচন হয়নি।
জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মনজুর আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনার কথা তিনি শুনেছেন। মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন