চলমান রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণ এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনকালীন সরকার ও নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে টেকসই সমাধানের জন্য জাতীয় সনদ প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে তাঁরা রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে সহিংসতা-নাশকতা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন।
শান্তি-সম্প্রীতি ও সমঝোতার দাবিতে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত মানববন্ধনে গতকাল শনিবার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এ আহ্বান জানান। রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বর্তমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে সংলাপ ছাড়া বিকল্প সমাধান নেই উল্লেখ করে সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার সংলাপ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এক দল মানুষ হত্যার রাজনীতি করছে, আরেক দল লাশ নিয়ে রাজনীতি করছে। বার্ন ইউনিটকে তারা রাজনীতির তীর্থভূমিতে পরিণত করেছে।
রাজনৈতিক সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য জাতীয় সনদের গুরুত্ব তুলে ধরে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বর্তমান সংকটের একটি বড় কারণ হচ্ছে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন। তাই নির্বাচনকালীন সরকার এবং নির্বাচনী ব্যবস্থা কেমন হবে, তা নিয়ে সবগুলো দলের ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে। ভবিষ্যতে যেন আর এ ধরনের সংকট তৈরি না হয়, এ জন্য একটি জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা জরুরি। এ ছাড়া নির্বাচনের পরেও সরকারের করণীয় বিষয়ে জাতীয় সনদে দিকনির্দেশনা থাকতে হবে। যেমন, যুদ্ধাপরাধের বিচার চলমান রাখা, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধসহ রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করা প্রভৃতি।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন মন্তব্য করেন, রাজনীতি ক্রমেই রাজনীতিবিদদের হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। এটা ভালো লক্ষণ নয়। তিনি আশা করেন, রাজনীতিবিদদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।
দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে নাগরিক সমাজের নেওয়া সংলাপের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তাদের উদ্যোগ ব্যর্থ হলে দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে, কারণ তখন বহির্বিশ্বের চাপ বাড়তে থাকবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘসহ অন্যান্য দেশের উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের দেশ ও রাজনীতিবিদদের জন্য ভালো নয়। এ জন্য বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের কোনো বিকল্প নেই।’
পেট্রলবোমা ছুড়ে মানুষ হত্যাসহ সব ধরনের সহিংসতা বন্ধের জন্য কঠোরভাবে আইন প্রয়োগের দাবি জানান মানবাধিকারকর্মী হামিদা হোসেন। তিনি বলেন, পেট্রলবোমা ছোড়া কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক চর্চা হতে পারে না।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সুজনের সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান। তিনিও রাজনৈতিক সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য জাতীয় সনদের ওপর গুরুত্ব দেন।
মানববন্ধনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণসাক্ষরতা অভিযান, নাগরিক উদ্যোগ, ব্রতী প্রভৃতি সংগঠন অংশ নেয়। আরও বক্তব্য দেন গণমাধ্যমব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, সিপিবির নেতা রুহিন হোসেন প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন