default-image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বর্তমান সংকট নিরসনে বিদেশিদের সহায়তার প্রয়োজন নেই। আমরা নিজেরাই এর সমাধানের জন্য যথেষ্ট।’ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনায় গতকাল শনিবার তিনি এ কথা বলেন বলে বাসস জানায়।
বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক ভিত্তিতে ফেরার জন্য রাজনৈতিক সমাধান খোঁজায় সহায়তা করতে তাঁর দেশ প্রস্তুত বলে জানানোর এক দিন পর প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করলেন। ওয়াশিংটনে ওই একই দিনে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীর সঙ্গে এক বৈঠকে চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেদের সংকট নিজেরা সমাধানে সক্ষম বলে মন্তব্য করলেও সরকার আন্দোলনরত বিরোধী দলের সঙ্গে কোনো আলোচনার উদ্যোগ নেবে কি না, সে বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেননি। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষায় ‘তথাকথিত রাজনৈতিক সংকট’-এর সমাধানে বিদেশিদের মধ্যস্থতার জন্য আমন্ত্রণ জানানোর মাধ্যমে দেশের সম্মান নষ্ট করার জন্য বিএনপি ও জামায়াতের ওপর দোষারোপ করেন। দেশ এখন এক মানবসৃষ্ট দুর্যোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বিএনপি-জামায়াতের বর্তমান সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রত্যেক মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।   সহিংস সন্ত্রাসবাদের বিস্তার মোকাবিলায় ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক বৈশ্বিক সম্মেলনের সময়ে বৃহস্পতিবার মাহমুদ আলীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করেন জন কেরি। তিনি শান্তিপূর্ণভাবে সাম্প্রতিক সহিংসতার অবসান ঘটানোর কথা উল্লেখ করে সব দলের জন্য শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক মতপ্রকাশের ব্যবস্থা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করায় সরকারের ভূমিকার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে তিনি অবিলম্বে বিরোধী দলের সহিংসতা বন্ধ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করে বেসামরিক নাগরিকদের হামলার লক্ষ্যবস্তু করার নিন্দা জানান।

ওই একই সম্মেলনের সময়ে আলাদা আরেকটি বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বাস্তবসম্মত উপায় খুঁজে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বান কি মুন মাহমুদ আলীকে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিরোধী দলের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার কথা বলেছেন। এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার কাছে চিঠি পাঠিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। কোনো পক্ষই অবশ্য চিঠির বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করেনি। প্রধানমন্ত্রী বান কি মুনের চিঠির জবাব দেবেন বলে জানানো হলেও বিরোধীদের সঙ্গে সংলাপের বিষয়ে তিনি ইতিবাচক সাড়া দেবেন কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। কেননা, দলীয় নেতারা বিভিন্ন পরিসরে যেসব বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়েছেন, তাতে তাঁরা সংলাপের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেছেন যে সহিংসতা বন্ধ না হলে কোনো আলোচনা হবে না।

তবে, গত বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সাংসদদের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী বলেছেন, নির্বাচনের আগে নির্বাচন বিষয়ে আলোচনা হবে, তার আগে নয়। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে বলা হয়েছে, দশম সংসদের মেয়াদ শেষে নির্বাচন হবে ২০১৯ সালে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন