দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল মনে করেন, বাংলাদেশের চলতি সংকট বাংলাদেশকেই সমাধান করতে হবে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। তবে যুক্তরাষ্ট্র আশা করে, বাংলাদেশ সরকার যথাযথ আইনানুগ পথ অনুসরণ করবে।
গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে ফরেন প্রেস সেন্টারে বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে নিশা দেশাই এ মন্তব্য করেন। নিউইয়র্কের ফরেন প্রেস সেন্টারে প্রথম আলোসহ নিউইয়র্কের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এতে অংশ নেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে গত সপ্তাহে তাঁর প্রদত্ত মন্তব্য উল্লেখ করে নিশা দেশাই মনে করিয়ে দেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলোর ধ্বংসাত্মক কৌশল গ্রহণযোগ্য নয়। তবে জন কেরি এ কথাও মনে করেন, রাজনৈতিক দল, তথ্যমাধ্যম ও সুশীল সমাজ যাতে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে এবং তাদের মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। তিনি মনে করেন, এই রাজনৈতিক প্রক্রিয়াটি সবার অংশগ্রহণের ভিত্তিতে পরিচালিত হতে হবে।
খালেদা জিয়ার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে নিশা দেশাই বলেন, ‘যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে আমি কোনো জল্পনায় যাব না। তবে আমরা আশা করি, যেকোনো আইনি ব্যবস্থায় যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।’ তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, চলতি সংকট মূলত অভ্যন্তরীণ প্রকৃতির এবং বাংলাদেশের জনগণ ও তার রাজনৈতিক নেতৃত্বকেই তার সমাধান করতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করতে প্রস্তুত আছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, চলতি রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও হানাহানি রোধে সরকার ও বিরোধী দলগুলো নিজেরাই সমাধান খুঁজে পাবে। নিশা দেশাই পুনরুক্তি করে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আশা করে, সব পক্ষ সংঘর্ষের পথ পরিহার করবে।
মাহমুদুর রহমান মান্নার গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে নিশা দেশাই জানান, এ বিষয়ে তাঁর কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই, সে কারণে কোনো মন্তব্য করা থেকে তিনি বিরত থাকেন।
প্রতিনিধিদল পাঠানোর পরিকল্পনা জাতিসংঘের নেই: বাংলাদেশের চলতি রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিবের অবস্থান জানতে চাওয়া হলে তাঁর একজন মুখপাত্র প্রথম আলোকে ইতিপূর্বে প্রচারিত একটি বিবৃতির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এতে একজন মুখপাত্রের বরাতে মহাসচিব জানান, বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়ে তিনি অবগত আছেন। বাংলাদেশে ক্রমবর্ধিত উত্তেজনা ও অব্যাহত হানাহানিতে তিনি উদ্বিগ্ন।
বাংলাদেশে জাতিসংঘের কোনো প্রতিনিধিদল পাঠানোর সম্ভাবনা আছে কি না—জানতে চাওয়া হলে জাতিসংঘের রাজনৈতিক বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, এমন কোনো পরিকল্পনার কথা তাঁর জানা নেই।
একই প্রশ্ন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আবদুল মোমেনের কাছে রাখা হলে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এমন কোনো প্রতিনিধিদল পাঠানোর ব্যাপারে মহাসচিব বা সহকারী উপমহাসচিব তারানকোর অফিস থেকে তিনি মৌখিক বা লিখিত কোনো অনুরোধ পাননি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশে রাজনৈতিক সংঘর্ষের মাত্রা বাংলাদেশের চেয়ে অনেক গুণে বেশি। বাংলাদেশের ঘটনায় জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের ব্যাপারটি শুধু একদল তথ্যমাধ্যম ও সুশীল সমাজভুক্ত ব্যক্তির মাথাব্যথা বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন