বাংলাদেশ হিন্দু–বৌদ্ধ–খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট দাবি করেছে, অপহরণ, ধর্ষণ, জমি দখলের বেশির ভাগ ঘটনার সঙ্গে সরকারি দলের স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সরাসরি যুক্ত। এ সময় সংগঠনটি সারা দেশে গত চার মাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাতজনকে হত্যাসহ অপহরণ, ধর্ষণ, জমি দখল, হামলা এবং মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুরের ২৯টি ঘটনার উল্লেখ করে। 

আজ শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ফ্রন্টের আহ্বায়ক ও বিএনপির নেতা গৌতম চক্রবর্তী এ দাবি করেন।

গৌতম চক্রবর্তী বলেন, ‘অতীতে সংখ্যালঘু নিপীড়নে সরকার ও বিরোধী দল পরস্পর দোষ চাপিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করেছে। এতে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। আমাদের দাবি, দোষী যে–ই হোক এবং তার রাজনৈতিক পরিচয় যা–ই থাকুক, তাদের বিচারের আওতায় আনা হোক।’
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চাঁদার দাবিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শালখালী গ্রামের শ্যামসুন্দর ইসকন মন্দিরের পুরোহিত পঙ্কজ সরকারকে কুপিয়ে জখম করা হয়। ২ মে চুয়াডাঙ্গার বাঘাডাঙ্গা গির্জাপাড়ায় খ্রিষ্টান বাড়িতে বোমা হামলা করে দুর্বৃত্তরা। এতে আলম মণ্ডল নামের একজন আহত হন।

এ ছাড়া গত কয়েক মাসে সাতজন সংখ্যালঘু নির্মমভাবে হত্যার শিকার হয়েছেন। হত্যার শিকার ব্যক্তিরা হলেন টাঙ্গাইলের গোপালপুরে নিখিল চন্দ্র জোয়ারদার, টুঙ্গিপাড়ায় হিন্দু সাধু পরমানন্দ রায়, নারায়ণগঞ্জে মনিন্দচন্দ্র, সিলেটের মিরাবাজারে বিপ্লব রায়, নওগাঁর মহাদেবপুরে আদিবাসী দুপু, নরসিংদীর রায়পুরে তাপস ভৌমিক ও পঞ্চগড়ের দেবিগঞ্জে সন্তগোড়ীয় মঠের অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বর রায়।

পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের এক হিন্দু ছাত্রীকে অস্ত্রের মুখে গণধর্ষণ, হবিগঞ্জের মন্দরী ইউনিয়নে এক গৃহবধূকে ধর্ষণ, লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে দুই সংখ্যালঘু বোনকে অপহরণ করে ধর্ষণ করা হয়। এসব ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। অভিযোগ করা হয়, যশোরের চৌগাচার পাশাপোল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নেতা শাহীনুর রহমান ৩০ হিন্দু পরিবারকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করে এবং এক সংখ্যালঘুকে জমি লিখে দিতে বাধ্য করেন। পিরোজপুরের এক আওয়ামী লীগ নেতা নাজিরপুর উপজেলার শাঁখারী কাঠি গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় সাত একর জমি দখলে নিয়েছেন।

গৌতম চক্রবর্তী বলেন, ‘সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ফরিদপুরে জমিদার বাড়ি দখলের ঘটনা, ঠাকুরগাঁওয়ে সাংসদ দবির উদ্দিনের হিন্দুদের জমি দখলের ঘটনা দেশবাসী জেনেছে। আমরা বেদনাহত হই, যখন দেখি অনেক ক্ষেত্রে রক্ষক ভক্ষক হয়।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা জয়ন্ত কুমার কণ্ডু, জন গোমেজ, অমলেন্দু দাস, নকুল সাহা প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন