জঙ্গিবাদ-সাম্প্রদায়িকতা নির্মূল করতে এবং সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচারের জন্য বিশেষ আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইনগুলোকে সংস্কারের দাবি জানিয়েছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।
‘ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে মৌলবাদী রাষ্ট্রগঠনের চক্রান্ত’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীতে গতকাল রোববার নির্মূল কমিটির নেতারা এ দাবি জানান। রাজধানীর ধানমন্ডিতে ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সাম্প্রদায়িকতার আবর্জনা দেশ থেকে পরিষ্কার হয়নি উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, জঙ্গিবাদ ও স্বাধীনতাবিরোধীদের তাণ্ডব বর্তমান সরকার প্রাথমিকভাবে মোকাবিলা করেছে। এখন দেখতে হবে, দেশে যেন জঙ্গি ও রাজাকার-সমর্থকেরা সরকার গঠন করতে না পারে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জঙ্গিবাদ ও যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থন করছেন। তাঁর (খালেদা জিয়া) সমর্থন না থাকলে জঙ্গিবাদী শক্তিকে দমন করতে এত সময় লাগত না।
জঙ্গিবাদ ও যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়ে বুদ্ধিজীবীরা চুপ আছেন—এমন অভিযোগ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় সবাইকে নিয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কথা বলছেন। অবশ্যই সবাইকে নিয়ে নির্বাচন হবে, কিন্তু জঙ্গিবাদ-রাজাকারদের নিয়ে কোনো নির্বাচন হবে না।’
আলোচনার শুরুতে আয়োজক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র কোন পথে বাংলাদেশ দেখানো হয়। ৪৩ মিনিটের এই প্রামাণ্যচিত্রে দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রভৃতি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। পরে আলোচনায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আদালত যেসব যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন, সরকার অবশ্যই তাদের ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলাবে। যাদের যে শাস্তি হয়েছে, তাদের সেই শাস্তি কার্যকর করা হবে। ইসলামী ব্যাংক কোথায় কোথায় অর্থায়ন করছে, তা দেখা হচ্ছে।
সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচারের জন্য বিশেষ আইন করার ওপর জোর দেন শাহরিয়ার কবির। তিনি বলেন, দেশে সাক্ষী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য আইন নেই। এ জন্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যেসব মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাঁরা মামলা করেন না, বিচার পান না। স্থপতি রবিউল হুসাইন বলেন, ‘আমাদের সমাজে ধর্মান্ধতা কীভাবে বাসা বেঁধেছে, শাহরিয়ার কবিরের প্রামাণ্যচিত্র তা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।’
সংখ্যালঘু নির্যাতন প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকাকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে মনে করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম। তিনি বলেন, ‘দিনাজপুরে ও যশোরে সংখ্যালঘু নির্যাতনের সময় আমরা সেখানে গিয়েছি, মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। এসব জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা ন্যায়বিচার পাননি।’ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মী কামাল লোহানী। তিনি বলেন, শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না, সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন নির্মূল কমিটির সহসভাপতি শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী। সভা সঞ্চালনা করেন আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন