বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ওই মামলায় ২০১৭ সালের ২০ আগস্ট বিচারিক আদালত রায় দেন। রায়ে ১০ জনকে ‘ফায়ারিং স্কোয়াডে’ (গুলি করে) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে বলা হয়। এ ছাড়া ১ জনকে যাবজ্জীবন ও ৩ জনকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বিচারিক আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টে আসে। অন্যদিকে, রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা তিনটি আপিল ও সাতটি জেল আপিল করেন। এসবের ওপর শুনানি শেষে রায় দেন হাইকোর্ট।

বাংলায় পূর্ণাঙ্গ রায়টি লিখেছেন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম। তাঁর সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন বেঞ্চের অপর বিচারপতি মো. বদরুজ্জামান।

মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামিরা হলেন ওয়াসিম আখতার ওরফে তারেক হোসেন ওরফে মারফত আলী, রাশেদ ড্রাইভার ওরফে আবুল কালাম ওরফে রাশেদুজ্জামান খান ওরফে শিমন খান, ইউসুফ ওরফে মোসহাব মোড়ল ওরফে আবু মুসা হারুন, শেখ ফরিদ ওরফে মাওলানা শওকত ওসমান, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই ও মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে মুফতি রউফ ওরফে আবদুর রাজ্জাক ওরফে আবু ওমর।

হাইকোর্ট যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামি ও ১৪ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত দুই আসামির সাজাও বহাল রেখেছেন। ১৪ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত অপর এক আসামিকে খালাস দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

রায়ে বলা হয়, আসামিরা তাঁদের দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন যে একটি নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীসহ তাঁর সফরসঙ্গীদের হত্যা করবেন মর্মে ষড়যন্ত্র করেছিলেন। সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বিস্ফোরকদ্রব্যের সরঞ্জামাদি সংগ্রহ করে দুটি বোমা তৈরি করে ঘটনাস্থালে স্থাপন করেছিলেন তাঁরা। ষড়যন্ত্র অনুযায়ী কাজ সম্পাদনের জন্য আসামিরা বড় ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন দুটি বোমা তৈরি ও তা মাটির নিচে পুঁতে রাখার মধ্য দিয়ে, যাতে ধ্বংসাত্মক ঘটনা সংঘটিত হয়।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, এ ধরনের সংঘটিত অপরাধকে শুধু চেষ্টার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে গণ্য করা হলে তা অযৌক্তিক বলে বিবেচিত হবে। কারণ, মূল উদ্দেশ্য সফল করার জন্য আসামিরা তাঁদের লক্ষ্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, যে ব্যক্তি অপরাধ সংগঠনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে এবং পরবর্তী সময়ে ওই ষড়যন্ত্র অনুযায়ী কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে সেই ব্যক্তি প্রমাণসাপেক্ষ উভয় অপরাধের জন্য দায়ী থাকে।

রায়ে বলা হয়, ‘সাক্ষীদের সাক্ষ্য, জব্দ করা আলামতের প্রমাণাদি, আসামিদের দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, উচ্চ আদালতের নজির ও সার্বিক পর্যালোচনায় আমরা মনে করি যে ট্রাইব্যুনালের কর্তৃক প্রদত্ত রায়ের মাধ্যমে আসামিদের (আসামি সারোয়ার হোসেন ছাড়া) বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডসহ অন্যান্য দণ্ড প্রদানে কোনো আইনগত ভুল করেননি। কাজেই ডেথ রেফারেন্স অনুমোদিত হলো। আসামিদের দায়ের করা জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল খারিজ করা হলো।’

হাইকোর্ট যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মেহেদী হাসান ওরফে আবদুল ওয়াদুদের সাজা বহাল রেখেছেন। ১৪ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড পাওয়া তিনজনের মধ্যে সারওয়ার হোসেনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। ১৪ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আনিসুল ইসলাম ওরফে আনিস ও মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমানের সাজা বহাল রাখা হয়েছে। সারওয়ার হোসেন অন্য কোনো মামলায় আটক না থাকলে তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির উল্লাহ শুনানি করেন। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও মোহাম্মদ আহসান। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত হিসেবে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী অমূল্য কুমার সরকার।

রায়ের পর মো. বশির উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেছিলেন, মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা চার আসামি পলাতক।

রাষ্ট্রপক্ষের তথ্যমতে, পলাতক চার আসামি হলেন ইউসুফ ওরফে মোসহাব মোড়ল ওরফে আবু মুসা হারুন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মুফতি শফিকুর রহমান ও মুফতি আবদুল হাই।

২০০০ সালের ২২ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান সরকারি আদর্শ কলেজমাঠ প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভার প্যান্ডেল তৈরির সময় শক্তিশালী একটি বোমা দেখা যায়। সেনাবাহিনীর একটি দল ৭৬ কেজি ওজনের বোমাটি উদ্ধার করে। পরদিন ২৩ জুলাই ৪০ কেজি ওজনের আরেকটি বোমা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই দিনই কোটালীপাড়া থানার পুলিশ হত্যাচেষ্টা এবং বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে। ২০১০ সালে গোপালগঞ্জ আদালত থেকে মামলা ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ২০১৭ সালে রায় দেন ট্রাইব্যুনাল।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন