default-image

অনেক উন্নত দেশের সংবাদপত্রও বাংলাদেশের সংবাদপত্রের মতো স্বাধীনতা পায় না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।
শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন। দৈনিক আজাদীর প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ারের ৫৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্বাধীন সংবাদপত্র পাঠক সমিতি এ সেমিনারের আয়োজন করে। ‘মোহাম্মদ আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ার, দৈনিক আজাদী এবং গণতন্ত্র’ শীর্ষক সেমিনারে তথ্যমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবাদপত্র যে ধরনের স্বাধীনতা ভোগ করে, অনেক উন্নত দেশেও সংবাদপত্রের এমন স্বাধীনতা নেই। সিঙ্গাপুরে মাত্র কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল, সব কটি সরকারনিয়ন্ত্রিত। থাইল্যান্ডে সব টেলিভিশন চ্যানেলও সরকারনিয়ন্ত্রিত। আমাদের দেশে তা হয় না। কারণ, আমরা মনে করি স্বাধীন মতপ্রকাশ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সেটি বহুমাত্রিক সমাজব্যবস্থাকে সমৃদ্ধ করে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যখন ২০০৯ সালে সরকার গঠন করি, তখন বাংলাদেশে সংবাদপত্রের সংখ্যা ছিল সাড়ে চার শ। এখন বাংলাদেশের দৈনিক সংবাদপত্র সাড়ে বারো শ। তখন অনলাইন পত্রিকা ছিল হাতে গোনা কয়েকটি। এখন কয়েক হাজার অনলাইন পত্রিকা নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে।’

বিজ্ঞাপন

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বেসরকারি টেলিভিশনের যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে ১৯৯৬ সালে। ২০০৯ সালে আমরা যখন সরকার গঠন করি তখন বেসরকারি টেলিভিশন ছিল ১০টি। এখন ৪৫টি বেসরকারি টেলিভিশনকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি সম্প্রচারে আছে। এর বাইরে চারটি সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল চালু আছে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ৬০ বছর ধরে দৈনিক আজাদী পত্রিকা নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রকাশিত হয়ে আসছে। সে জন্য দৈনিক আজাদী পত্রিকা নিশ্চয়ই সমাজ এবং রাষ্ট্রের ধন্যবাদ পাওয়ার অধিকার রাখে।

সেমিনার শেষে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের সঙ্গে বিএনপির দহরম-মহরম বহু পুরোনো। বিএনপি অতীতে ষড়যন্ত্রের পথ অবলম্বন করে এগোতে পারেনি। তাদের বলব ষড়যন্ত্রের পথ পরিহার করে মানুষের পাশে দাঁড়ান।’ তিনি বলেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে বিএনপিকে ৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। এটি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধান আদালতে জবানবন্দিতে বলেছেন। সুতরাং তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য নানা ষড়যন্ত্র করছে।

স্বাধীন সংবাদপত্র পাঠক সমিতির সভাপতি এস এম জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে সেমিনারে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সাবেক সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম, দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দার ও মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলম।

মন্তব্য পড়ুন 0