রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া নাগরিকদের সমালোচনা করেছেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক বক্তা। তাঁরা বলেছেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, তাদের সঙ্গে সংলাপ নয়।
সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ ’৭১ গতকাল রোববার ‘সন্ত্রাস, সহিংসতা ও জাতীয় নিরাপত্তা’ শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এ গোলটেবিল বৈঠক হয়।
গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘যাঁরা সংলাপের কথা বলেন, তাঁরা দেশের শত্রু, জাতির শত্রু, গণশত্রু। স্বাধীনতাবিরোধী কয়েকজন মানুষ যাঁরা কখনো কখনো রাষ্ট্রের উচ্চ পদে গিয়েছিলেন, তাঁরাই এখন সংলাপের কথা বলছেন। স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠী জঙ্গি হামলা ও সন্ত্রাস-নাশকতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গিলে খেতে চায়। তাদের সঙ্গে কখনো স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির সংলাপ হতে পারে না।’
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান প্রশ্ন করেন, সব সময় একটি বিরাজনীতিকরণের প্রক্রিয়া কেন? যাঁরা সংলাপের উদ্যোগ নিয়েছেন, তাঁরা বলছেন তাঁরা রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। রাজনীতিবিদ মানে খারাপ, এমন একটি ধারণা তৈরি করা হয়েছে। রাজনীতিকে খারাপভাবে তুলে ধরার চেষ্টা একটি ষড়যন্ত্র।
দি ইকোনমিস্ট সাময়িকীর সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের প্রতিবাদ করার দাবি জানিয়ে মিজানুর রহমান বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্প্রচার অনুবিভাগ নামে কি কোনো শাখা এখনো কাজ করে? পররাষ্ট্রমন্ত্রী কি এ বিষয়ে খোঁজ রাখেন? তথ্যমন্ত্রীর কাজ কি শুধু বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে বেড়ানো? একটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি উসকানিমূলক খবরের যে প্রতিবাদ জানাতে হয়, তা কি তাঁরা ভুলে গেছেন?
সুশীল সমাজের নাগরিকদের ‘অজ্ঞ’ ও ‘অন্ধ’ উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমান সংকট শান্তিপূর্ণভাবে কাটানোর সবচেয়ে বড় বাধা হলো খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও জামায়াতে ইসলামী।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার পক্ষের পেশাজীবী, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সংলাপ করতে পারেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সঙ্গে নয়।
সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের চেয়ারম্যান কে এম সফিউল্লাহ বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার যে প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত ছিল, সে প্রক্রিয়ায় এগোয়নি। এখন এ বিচার আদৌ শেষ হবে কি না, এ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
যারা পেট্রলবোমা ছুড়ে মানুষ হত্যা করছে, তাদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ বাস্তবায়নের দাবি করেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের ভাইস চেয়ারম্যান আবু ওসমান চৌধুরী।
স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, সরকারের মধ্যে আরেকটা সরকার আছে। এরা ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের মতো আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে চায়।
সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের যুগ্ম মহাসচিব ম হামিদের সঞ্চালনায় গোলটেবিলে আরও বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির, মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি তুরিন আফরোজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আবদুল মান্নান, অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, সাবেক কূটনীতিক মহিউদ্দীন আহমেদ, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজল দেবনাথ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানিয়া আমীর প্রমুখ।
গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ পড়ে শোনান আয়োজক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হারুন হাবীব। এতে বলা হয়, বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের অব্যাহত সন্ত্রাস ও সহিংসতা জননিরাপত্তার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন