default-image

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী মুজিব বর্ষ উপলক্ষে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন শুরু হয়েছে। সংসদের ইতিহাসে এটিই প্রথম বিশেষ অধিবেশন। আজ রোববার সন্ধ্যায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই অধিবেশন শুরু হয়।


তবে আজকের অধিবেশনে সংসদের নিয়মিত কার্যক্রম চলেছে। মূলত কাল সোমবার থেকে বিশেষ অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হবে।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আজ জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও কর্মময় জীবন নিয়ে স্মারক বক্তব্য দেবেন। এরপর রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের ওপর আলোচনার জন্য সংসদে প্রস্তাব আনা হবে। সাংসদেরা বঙ্গবন্ধুর জীবন নিয়ে আলোচনা শেষে প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই আলোচনা চলবে। এরপর প্রস্তাব পাস করা হবে। আজ বৈঠকের শুরুতে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদকে এসব তথ্য জানান। তিনি সবাইকে বিশেষ অধিবেশনে স্বাগত জানান।
উচ্চ আদালতের নির্দেশে সম্প্রতি অধিবেশন কক্ষে জাতির জনকের প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়। এই প্রতিকৃতি স্থাপন দেশের সংসদের ইতিহাসে অন্যতম মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন স্পিকার।

বিজ্ঞাপন

বৈঠকের শুরুতে চলতি অধিবেশনের জন্য সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনয়ন দেওয়া হয়। এই তালিকায় আছেন আবুল কালাম আজাদ, বীরেন শিকদার, শামসুল হক, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও উম্মে কুলসুম। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য স্পিকারের দায়িত্বে থাকবেন।
গত মার্চে এই বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছিল। তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত অধিবেশন স্থগিত করা হয়। গতকাল থেকে শুরু হওয়া বিশেষ অধিবেশনে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগেই সব সাংসদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোভিড-১৯ শনাক্তের পরীক্ষা করা হয়। করোনায় আক্রান্ত সাংসদদের অধিবেশনে যোগ দিতে দেওয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকারসহ যাঁরা গতকালের অধিবেশনে অংশ নিয়েছেন, তাঁদের সবার মুখে ছিল মাস্ক। সাংসদদের বসার ক্ষেত্রেও দূরত্ব নিশ্চিত করা হয়।
সংসদ সচিবালয়ের সব কর্মকর্তা–কর্মচারী সংসদ ভবনে প্রবেশের অনুমতি পাননি। যাঁরা অধিবেশনের কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শুধু তাঁদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছে। অধিবেশনের সংবাদ সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকদেরও প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে আজ এক দিনের জন্য সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যাঁরা অধিবেশনের সংবাদ সংগ্রহ করতে যাবেন, তাঁদেরও কোভিড-১৯ শনাক্তের পরীক্ষা করা হয়েছে।

শোক:
বিশিষ্টজনদের মৃত্যুতে সংসদের বিশেষ অধিবেশনে শোক প্রকাশ করা হয়। স্পিকার যাঁদের নাম একে একে পড়ে শোনান, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, গণপরিষদের সদস্য সৈয়দ এ কে এম এমদাদুল বারী, সাবেক সাংসদ মমতাজ বেগম, নুরুল ইসলাম, খন্দকার গোলাম মোস্তফা, শামছুল হক তালুকদার। এ ছাড়া অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, হেফাজতে ইসলামের আমীর শাহ আহমদ শফী, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাহিত্যিক রশীদ হায়দার, সাংবাদিক ও কবি আবুল হাসনাত, সাংসদ কানিজ সুলতানার স্বামী জাহিদ হোসেন, ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমানের মা শিরিয়া খানম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের মা কাজী নুরজাহান বেগম, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি জিয়াউদ্দিন তারিক আলী, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের বোন মরিয়ম হেলাল ও সেন্ট যোসেফ স্কুলের অধ্যক্ষ ব্রাদার রবি থিওডোর পিউরিফিকশন। তাঁদের মৃত্যুতে সংসদে এক মিনিট নীরবতা পালন ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0