default-image

সিরাজগঞ্জ জেলার নগরবাড়ী-বগুড়া মহাসড়কের ছয়টি এলাকায় রাস্তা সম্প্রসারণের নামে সড়কের দুই পাশ থেকে মাটি কেটে গর্ত ও খোয়া তুলে ফেলায় সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ গোলচত্বরের খোয়া উঠে ও দেবে গিয়ে এবড়োখেবড়ো দশা হয়েছে। দুই মাস ধরে মহাসড়কটির এই অবস্থা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদারও এলাকায় আসছেন না, কাজও আর আগাচ্ছে না। কর্তৃপক্ষও সব দেখে নিশ্চুপ বলে অভিযোগ করছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গত বৃহস্পতিবার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যস্ততম এই সড়কের দুই পাশ থেকে তোলা হয়েছে বালু। সেই বালু আবার রাখা হয়েছে মহাসড়কের ওপরই। এতে একটি বাস থামলে অপরটি যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। গোলচত্বরে খোয়া উঠে রাস্তা এত এবড়োখেবড়ো হয়েছে যে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ ঝুঁকি এড়াতে অনেক বাস রং সাইড দিয়ে চলাচল করছে।
বোয়ালিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার দুলাল হোসেন বলেন, প্রায় দুই মাস ধরে মহাসড়কের দুই পাশ থেকে বালু তোলা হয়েছে। গাড়িগুলো থামার জায়গা পর্যন্ত নেই। একটি গাড়ি থামলে রাস্তা অতিক্রম করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে অভিযোগ করা হলেও কর্তৃপক্ষ তা আমলেই নিচ্ছে না।

default-image


গোলচত্বর এলাকায় আকস্মিকভাবে বাস বিকল হয়ে আটকে থাকা বাসচালক আলমগীর হোসেন বলেন, গোলচত্বরটির এমন অবস্থা যে, গর্তে পড়ে বাস-ট্রাকের এক্সেল ভাঙছে। গর্ত ঢাকতে আগলা ইট-খোয়া দেওয়ায় আরও খারাপ অবস্থা হয়েছে। দুই মাস ধরে এই অবস্থা। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এসব গর্ত স্থায়ী মেরামতের কোনো উদ্যোগই নিচ্ছে না।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল কাদের জিলানী বলেন, গোলচত্বর এলাকাটি স্থায়ীভাবে দ্রুত মেরামতের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের জানানো হলেও তাঁরা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। গোলচত্বরসহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সংস্কারের নামে গর্ত করে ফেলে রাখায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এসব বিষয় উল্লেখ করে পুলিশ সুপারের কাছে একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। দ্রুত মেরামত না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
সিরাজগঞ্জের সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে জানা গেছে, দুই মাস আগে মহাসড়কের হাটিকুমরুল, ঘুরকা, বোয়ালিয়া, উল্লাপাড়ার শ্যামলীপাড়া, গাড়াদহ বাসস্ট্যান্ড এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিন্থিত করে এসব অংশে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়। কাজ শুরুর পর সড়কের দুই পাশে এসব এলাকায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ গর্ত করা হয়। সড়ক থেকে গর্তের দূরত্ব তিন ফুট। তবে এসব গর্ত থেকে তোলা খোয়া-মাটি-বালু সড়কের ওপরই স্তূপ করে রাখা হয়। এতে সংকুচিত হয়ে পড়েছে রাস্তাটি।
সার্বিক বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার দুই মাস আগে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজে হাত দিলেও ইদানীং তিনি এলাকায় আসছেন না। কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য তাঁকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গোলচত্বরে তৈরি হওয়া গর্তগুলোতে ইট-খোয়া দিয়ে অস্থায়ীভাবে যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা হচ্ছে। স্থায়ীভাবে মেরামতের জন্য অচিরেই দরপত্র আহ্বান করা হবে।
এদিকে রাস্তার কাজের ঠিকাদারির দায়িত্বে থাকা মীর শরিফুল আলম কনস্ট্রাকশনের ঠিকাদার মো. বখতিয়ার গতকাল শুক্রবার মুঠোফোনে বলেন, কিছু এলাকায় স্থানীয় লোকজন বাধা দেওয়ায় কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। আর কিছু এলাকায় কাজ কিছুটা করা হয়েছে। এসব অংশে যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করা হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন