সকল প্রসূতির জন্য মানসম্মত সেবা আমাদের অঙ্গীকার

বিজ্ঞাপন
default-image
৩০ মে ২০১৬, প্রথম আলোর আয়োজনে ‘সকল প্রসূতির জন্য মানসম্মত সেবা আমাদের অঙ্গীকার’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলোচকদের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত আকারে এই ক্রোড়পত্রে প্রকাশিত হলো।

আলোচনায় সুপারিশ

* জাতীয় বাজেটের মাত্র ৪ শতাংশ আর জিডিপির মাত্র ​১ শতাংশেরও কম ব্যয় হচ্ছে স্বাস্থ্য খাতে। মা ও শিশুস্বাস্থ্যের উন্নয়নে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ আরও বাড়ানো জরুরি

* পিছিয়ে পড়া ও দুর্গম এলাকার স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে

* দক্ষ প্রসব–সহায়তাকারীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে প্রসবের হার বাড়াতে হবে

* মাতৃমৃত্যুর পরোক্ষ কারণগুলোর দিকে নজর বাড়াতে হবে

* স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি শিক্ষা, সমাজকল্যাণসহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়কেও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

* জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতি বিশেষজ্ঞ এবং অবেদনবিদের (্অ্যানেসথেশিয়া) জোড়া বাড়াতে হবে

* মা ও নবজাতকের মৃত্যু পর্যালোচনা (এমপিডিআর) কর্মসূচি সারা দেশে সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন

আলোচনা

আব্দুল কাইয়ুম: সকল প্রসূতির জন্য মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে প্রসূতির মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

একই সঙ্গে সেবার গুণগত মান বৃদ্ধি, ২৪ ঘণ্টা প্রসূতিসেবার জন্য দক্ষ জনবলের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি। এখন উপস্থিত আলোচকেরা এসব বিষয়ে আলোচনা ক​রবেন।

মোহাম্মদ নাসিম

default-image

মানসম্মত প্রসূতিসেবা আমাদের অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় আমরা বর্তমানে মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার কমানোর ব্যাপারে অত্যন্ত সফল হয়েছি। স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন​ ক্ষেত্রে আমরা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশংসিত হচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক পুরস্কারও পেয়েছেন। সরকারি, বেসরকারি উদ্যোক্তা এবং দাতা সংস্থার সহায়তা ও সম্মিলনের ফলেই এটা সম্ভব হয়েছে। মায়ের প্রতি দায়বদ্ধতা সবারই আছে। আমরা এখন মন্ত্রণালয় ও সরকার থেকে দক্ষ ধাত্রীর মাধ্যমে প্রসূতি মাকে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। একসময় বাড়িতে প্রসব হতো। এখন প্রসূতি মায়েদের হাসপাতাল বা ক্লিনিকে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা আছে। আজও কেবিনেট মিটিংয়ে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর কথা বলেছি।

বেনোইত পিয়েরে লারমি

default-image

বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। অর্থনৈতিক অগ্রগতি ইতিবাচক। নারী ও শিশুর জন্য অনেক কর্মসূচি আছে। আমাদের মূল ফোকাস মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্যের উন্নয়ন। কিশোর-কিশোরীদের উন্নয়ন। অন্যান্য দাতাগোষ্ঠীর সঙ্গে আমরা দুর্গম এলাকার স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নেও কাজ করছি।
নিরাপদ প্রসবের জন্য মিডওয়াইফদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আমরা আইসিডিডিআরবির সঙ্গে গবেষণার কাজ করছি। মায়ের অপুষ্টি প্রতিরোধে কাজ হচ্ছে। গ্রামের মানুষকে সচেতন করতে হবে। গ্রামের একজন মা বলছিলেন, তিনি তাঁর মেয়েকে ১৮ বছর বয়সের আগে বিয়ে দেবেন না। তাই বাংলাদেশের সামনে অনেক আশা আছে। প্রধানমন্ত্রীরও অঙ্গীকার আছে। দরিদ্র জনগণকে পরিবার পরিকল্পনা সেবার আওতায় আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। এটি একটি বৈশ্বিক সাফল্যগাথা, গ্লোবাল সাকসেস স্টোরি। বাংলাদেশে নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করার জন্য ছেলে ও পুরুষদের সম্পৃক্ত করা জরুরি। নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কানাডা সহযোগিতার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।

জো হাউউন গুই

default-image

কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার (ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ) বিষয়ে বাংলাদেশে কাজ করছে। ইউনিসেফের সহায়তায় টাঙ্গাইল ও খুলনা জেলায় সবার জন্য মানসম্মত মাতৃস্বাস্থ্যসেবার কাজ চলছে। প্রকল্প এলাকায় প্রসব-পূর্ব এবং প্রসব-পরবর্তী সেবা নেওয়ার হার বেড়েছে। দক্ষ প্রসব–সহায়তাকারীর সহায়তায় প্রসবের সংখ্যা বাড়ছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য। সম্প্রতি নার্সিংয়ের জন্য জাতীয় ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। সেবা পরিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নার্সদের জন্য বিশেষ কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে।

মাস্টার সায়েন্স অব নার্সিং প্রোগ্রাম নারীস্বাস্থ্যসহ ছয়টি বিষয়ে গুরুত্ব দেবে। মানসম্মত সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে এ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আগামী বছর থেকে এ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লিয়েন কুপেন্স

default-image

২০৩০ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে হলে বড় প্রশ্নটি হলো দক্ষ প্রসব–সহায়তাকারীর সহায়তা ছাড়া মাতৃমৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব কি না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং সরকারকে ধন্যবাদ দিতেই হয়। এমডিজি-৫ আমরা পুরোপুরি অর্জন করতে না পারলেও এক লাখ জীবিত জন্মে মাতৃমৃত্যুর হার ১৭৬-এ নামিয়ে আনা গেছে। দক্ষ ধাত্রীর মাধ্যমে প্রসব হচ্ছে ৪২ শতাংশ। ২০৩০ সালের মধ্যে মাতৃমৃত্যুর হার ৭০-এর নিচে নামিয়ে আনতে হবে। আমরা আরও অঙ্গীকার করেছি, কমপক্ষে চারবার প্রসব-পূর্ব সেবা নেওয়ার হার হতে হবে ৯৮ শতাংশ। ২০০১ ও ২০১০ সালের জরিপে দেখতে পাই, প্রত্যক্ষ কারণে মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে। তবে পরোক্ষ কারণে যে মাতৃমৃত্যু ঘটছে, সেদিকে আমরা তেমন একটা নজর দিইনি। জাতিসংঘের হিসাবে মাতৃমৃত্যুর হারও কিছুটা বেড়েছে।

২৪টি জেলার একটি জরিপে দেখা গেছে, ১৩ শতাংশ জেলা হাসপাতালে এক জোড়া প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ও অবেদনবিদ নেই। তিন-চতুর্থাংশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ জোড়া নেই। এখনো ৬৩ শতাংশ প্রসব বাড়িতে হচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যে ২২ হাজার দক্ষ মিডওয়াইফ প্রয়োজন। মিডওয়াইফের দক্ষতার দিকে নজর দিতে হবে। সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা জরুরি প্রসূতিসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

সিলভিয়া ইসলাম

default-image

বাল্যবিবাহ মাতৃমৃত্যুর অন্যতম একটি কারণ। আমার মনে হয়, এটি মাতৃমৃত্যুর পেছনে একটি প্রত্যক্ষ কারণ। আমি চাইব না আমার মেয়ের ১৮ বছর বয়সের আগে বিয়ে হয়ে যাক। কতগুলো পরিসংখ্যান দিই—দেশের ৬৫ শতাংশ মেয়েরই বিয়ে হয়ে যাচ্ছে ১৮ বছর বয়সের আগে। এই বিবাহিত কিশোরীরা নিজের শরীর সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। বিবাহিত কিশোরীদের অর্ধেকই ১৮ বছর বয়সের আগেই মা হয়ে যাচ্ছে।
কম বয়সে মা হতে গেলে অনেক শারীরিক সমস্যা এবং সন্তান প্রসবের সময় জটিলতা দেখা দেয়। মা ও শিশুর মৃত্যুহার বেশি হয়। অনেকের ফিস্টুলা হয়। তবে বর্তমানে বাংলাদেশে ফিস্টুলার চিকিৎসা হচ্ছে। গ্রামে গিয়েও দেখেছি ফিস্টুলার চিকিৎসা বিনা মূল্যে হচ্ছে।
বাল্যবিবাহ বন্ধ করার জন্য একটি আইন হতে যাচ্ছে। ১৮ বছর বয়সের আগে মেয়ের বিয়ে দেওয়া যাবে না। তবে শুনেছি, অভিভাবকদের সম্মতিতে ১৮ বছর বয়সের আগেও বাবা-মা চাইলে মেয়েকে বিয়ে দিতে পারবেন, সে কথাও আইনে থাকবে। এটা হওয়া উচিত নয়।

অনেকেই এর সুযোগ নেবে। ১৪ বছর বয়সেও বিয়ে দিয়ে দেবে। সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এটি একটি ইতিবাচক দিক।

এ ই মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ওসমানী

default-image

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তৃতীয় সেক্টর প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করছে। এ প্রোগ্রামের মাধ্যমে সরকার মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার কমানোর জন্য বিভিন্ন অপারেশনাল প্ল্যান বাস্তবায়ন করছে। ২০১৬ সালে এই সেক্টর প্রোগ্রাম শেষ হওয়ার কথা। চতুর্থ সেক্টর প্রোগ্রাম শুরু করার জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছে। এখানে তিনটি জিনিসকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—মানসম্মত সেবা, সমতা ও দক্ষতা।
আলোচনায় আসেনি মায়েদের মরবিডিটি বা বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতা এবং নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়টি গোলটেবিল বৈঠকে বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত ছিল। আগামী সেক্টর প্রোগ্রামে এই বিষয়ও গুরুত্ব পাবে।

শামস এল আরিফিন

default-image

বর্তমানে মাতৃমৃত্যুর হার ১৭৬, এর ৩৫ শতাংশ ঘটে পরোক্ষ কারণে। মাতৃমৃত্যুর হার ৭০-এ নামাতে হলে মাতৃমৃত্যুর পরোক্ষ কারণগুলো দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে গবেষণা করতে হবে। গত মাতৃমৃত্যু জরিপে দেখেছি, ২২ শতাংশ মারা যায় জন্ডিসের কারণে। এই জন্ডিস হচ্ছে কেন? একটা ধারণা, বড় কারণ হেপাটাইটিস ই। সহজ সমাধান হতে পারে টিকা। কিন্তু বিশ্বব্যাপী এই​ টিকার অভাব রয়েছে। চিন্তা করা শুরু করলে পথ বের হবে।

প্রসব–পূর্ব সেবার সময় থেকেই চিন্তা করতে হবে। সরকারের অ্যাম্বুলেন্স–ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। দরিদ্র পরিবারের মায়েদের সহজে দূরের হাসপাতালে যাওয়া-আসা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার বাড়বে।

ইশতিয়াক মান্নান

default-image

সরকার বিনিয়োগ করে সারা দেশে চার হাজারের বেশি ইউনিয়ন ফ্যাসিলিটি তৈরি করেছে। এখন সেখানে স্বাভাবিক প্রসব হচ্ছে। সেখানে সরকারি কোয়ার্টারে থেকে পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকাকে দিনে একটির বেশি প্রসব করাতে হবে না। তিনি প্রসব করাচ্ছেন কি না, তা সরকারকেই দেখতে হবে। বাংলাদেশ সাফল্য নিয়ে গর্ব করে। বিল গেটসের একটি কথা আছে—সাফল্য চমক দেয়, আবার সাফল্য মানুষকে ঘুম পাড়িয়ে দেয়। সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা আছে, কিন্তু কারিগরি বাস্তবতা ও সম্পদের জোগানের মধ্যে সমন্বয় দেখতে পাচ্ছি না। ৯৮ শতাংশ সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বলা হচ্ছে, তার জন্য সম্পদের জোগান লাগবে।
বাজেটের ৪ শতাংশ এবং জিডিপির ১ শতাংশের কম দেওয়া হচ্ছে স্বাস্থ্য খাতে। এই বিনিয়োগ দিয়ে যতই রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকুক না কেন, লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে না। মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে হলে জবাবদিহি তৈরি করতে হবে।

আন উনইয়াং

default-image

অসমতা কোথায় আছে, তা চিন্তা করতে হবে। ভৌগোলিকভাবে সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল এ ধরনের পিছিয়ে পড়া এলাকা। শহর এলাকার চেয়ে গ্রামের মায়েরা বেশি মারা যাচ্ছেন। ধনীদের চেয়ে দরিদ্র নারীরা বেশি মারা যাচ্ছেন। আমাদের সম্পদ কম। তাই বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। দরিদ্র নারীদের মাত্র ১৫ শতাংশ হাসপাতালে প্রসব করাচ্ছেন। কেন দরিদ্র নারীদের সবাই হাসপাতালে যেতে পারছেন না, তা চিন্তা করতে হবে। সরকারি হাসপাতাল কাছাকাছি আছে এবং স্বল্প মূল্যে চিকিৎসা পেলেও কেন মানুষ সেখানে যেতে চাচ্ছে না, তা দেখতে হবে।
হাসপাতালের সংখ্যা বাড়াতে হবে। নার্স মিডওয়াইফদের প্রশিক্ষণ দিলেও তিন থেকে চার মাস পর তাঁরা অন্য হাসপাতালে চলে যাচ্ছেন। এ সমস্যা অবশ্যই সমাধান করতে হবে। কমিউনিটি ক্লিনিকের পরিবেশ আরও ভালো করতে হবে।

আজিজুল আলিম

default-image

আমরা জরুরি প্রসূতিসেবা এবং মাতৃমৃত্যুর হার কমানোর জন্য চারটি বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি। বেসিক এবং কমপ্রিহেনসিভ ইমার্জেন্সি সার্ভিসকে শক্তিশালী করার জন্য বর্তমানে প্রশিক্ষণ ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হচ্ছে। আরেকটি হচ্ছে কমিউনিটি-ভিত্তিক দক্ষ প্রসব–সহায়তাকারীর সংখ্যা বাড়ানো। টার্গেট হচ্ছে ১৫ হাজার, আমরা ১১ হাজার জনকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। ১৭টি জেলায় কাজ চলছে। যার কাজ খারাপ হচ্ছে, তাকে জেলা হাসপাতালে এনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। দরিদ্র মায়েদের জন্য মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার স্কিম নিয়েছি। এই মুহূর্তে ৫৩টি উপজেলায় তা বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রতিবছর গড়ে ৮০ হাজার মা এ থেকে সেবা নিয়ে থাকেন।

স্থানীয় সরকার পরিকল্পনাকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে জোর দেওয়া এবং চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ চলছে। ছয় মাসের প্রশিক্ষণকে রিভিশন করা হচ্ছে।

ফারহানা দেওয়ান

default-image

আমাদের গাইনি সোসাইটি এখন একটি শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে সরকার ও এনজিওর সঙ্গে কাজ করছে। এ মুহূর্তে দেখছি একলাম্পশিয়া এবং প্রসব-পরবর্তী রক্তক্ষরণ মাতৃমৃত্যুর বড় কারণ। এ দুটি বিষয়ে কাজ করছি। প্রসবের পর দ্রুত মায়েদের কপারটি দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের সোসাইটিতে কতগুলো স্ট্যান্ডার্ড ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট প্রটোকল তৈরি করেছি। একলাম্পশিয়া রোগীকে কীভাবে ম্যানেজ করা হবে, কীভাবে কেসগুলো ম্যানেজ করতে হবে, কখন রেফার করতে হবে, আমাদের সদস্যরা তা জানেন। এ ধরনের ২২টি প্রটোকল আছে।

উম্মে সালমা জাহান

default-image

ইউএসএআইডি সরকারের পাশাপাশি এনজিওর সঙ্গেও মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়নে কাজ করছে। মাতৃ ও শিশুমৃত্যু কমানো ইউএসএআইডির শুধু বৈশ্বিক অগ্রাধিকার নয়, বাংলাদেশেও অগ্রাধিকার পাচ্ছে। এনডিং প্রিভেনটেবল মেটারনাল অ্যান্ড চাইল্ড ডেথস নামের বৈশ্বিক লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে ইউএসএআইডি। এনজিও ক্লিনিকগুলোর মাধ্যমে আমরা চেষ্টা করছি পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে নিয়ে কাজ করার। গত আট মাসে এই ক্লিনিকগুলো থেকে ১৩ লাখ প্রসব-পূর্ব সেবা দেওয়া হয়েছে। গত আট মাসে ২৮ হাজার প্রসব করানো হয়েছে ক্লিনিকগুলোতে, এর মধ্যে ১৪ হাজার প্রসব করানো হয়েছে, যাঁরা কোনো টাকা দিতে পারেননি। তা ছাড়া গর্ভকালীন সময়ে প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন তথ্য জানানো হচ্ছে মুঠোফোনের মাধ্যমে। মামণি প্রজেক্টের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জেলাগুলোতে যে সার্ভিস দেওয়া হয়, তার মান উন্নয়নের জন্য চেষ্টা করছি। এনজিও সেক্টরে ২ শতাংশ প্রসব হচ্ছে। এনজিও সেক্টরও কাজ করে চলেছে মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়নে। ক্লিনিকগুলো কমিউনিটিতে সচেতনতাও তৈরি করছে।

শামিনা শারমীন

default-image

নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে হলে দক্ষ মানবসম্পদ বড় বিষয়। এ ক্ষেত্রে মিডওয়াইফ বড় শক্তি। প্রধানমন্ত্রী অঙ্গীকার করেছেন তিন হাজার পদ তৈরির। মিডওয়াইফ শুধু তৈরি করলে হবে না, তাঁদের মানসম্মত শিক্ষা দিতে হবে। কাজ করার পরিবেশ দিতে হবে। নার্স মিডওয়াইফ ৬০০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কতজন কর্মক্ষেত্রে আছেন? ২৫০ থেকে ৩০০ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আছেন, বাকিরা আগের কর্মস্থলে ফেরত গেছেন। কারণ, ইউনিয়ন সাব-সেন্টারে হয়তো প্রসবের কোনো ব্যবস্থাই ছিল না। কিছু কিছু জায়গায় অবকাঠামোও ছিল না। প্র্যাকটিসের মধ্যে না থাকলে দক্ষতা কমতে থাকে।

মিডওয়াইফদের সরকারের কোন প্রশাসন দেখবে, তা আগে থেকে ঠিক করতে হবে। অক্সিটোসিন স্বাভাবিক প্রসবের জন্য জীবনরক্ষাকারী ওষুধ। কিন্তু কয়েকটি জেলায় এটি পাওয়া যাচ্ছে না। এগুলো নিশ্চিত না করলে মানসম্মত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে না।

রিয়াদ মাহমুদ

default-image

মেটারনাল অ্যান্ড পেরিনেটাল ডেথ রিভিউ (এমপিডিআর) বাংলাদেশ সরকারের একটি নতুন উদ্যোগ। ২০১০ সাল থেকে ইউনিসেফ সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ করছে। প্রথমে একটি জেলায় শুরু হয়েছিল। এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মালদ্বীপে একটি আঞ্চলিক সম্মেলন হলো, সেখানে বাংলাদেশের এমপিডিআর অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করা হলে অন্যরা প্রশংসা করে। ইউনিসেফ, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরসহ আমরা সবাই মিলে কাজ করছি। সরকার যে কমিউনিটি গ্রুপ করে দিয়েছে, তারাই ডেথ রিভিউ করছে। তার জন্য বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই। কাজটি করার জন্য বিনিয়োগ লাগবে শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রে।
এ পর্যন্ত ১০টি জেলায় ইউনিসেফ এই কাজ করছে। সেভ দ্য চিলড্রেন চারটি জেলায় কাজ শুরু করেছে। আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হেলথ ইকোনমিকস ইউনিটের সঙ্গে একটি জাতীয় গাইডলাইন করেছি। এ কাজের মাধ্যমে আমরা মা ও নবজাতকের মৃত্যুর কারণ ও সংখ্যা জানতে পারছি।
মাতৃমৃত্যু জরিপ করা অনেক ব্যয়বহুল। এ কাজের মাধ্যমে খুব সহজে জানা যাবে এই মুহূর্তে কজন মা মারা গেছেন, কজন নবজাতক মারা গেছে। হাসপাতালে বা কমিউনিটিতে মাতৃমৃত্যু কমাতে কী করতে হবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপকদের।

রোশনি বাসু

default-image

নারী-পুরুষের মধ্যে সামাজিকভাবে যে পার্থক্য তৈরি করা হয়েছে, সেখানে সামঞ্জস্য থাকে না। বিডিএইচএস ২০১৪–এর হিসাব অনুযায়ী, একজন মা, যিনি কখনো স্কুলে যাননি, তাঁর সন্তানের পাঁচ বছর বয়সের আগে মারা যাওয়ার হার, স্কুলে শিক্ষালাভকারী মায়ের সন্তানের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি। শিক্ষিত নারীদের ক্ষেত্রে তা কমে ২৭ শতাংশে নেমে এসেছে। সমাজ নারীকে কীভাবে দেখছে, তা একটি বড় সমস্যা। সমাজে তাঁর জায়গা কোথায়? বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ হচ্ছে, কিশোরী মাতৃত্ব আছে। আমাদের মানসম্মত শিক্ষা ও, বিশেষভাবে কিশোর-কিশোরীদের প্রজননস্বাস্থ্যের জন্য বিনিয়োগ করতে হবে।

আসাদুল ইসলাম

default-image

পরবর্তী সেক্টর প্রোগ্রামে এসেনশিয়াল হেলথ সার্ভিস প্যাকেজ নেওয়া হচ্ছে। মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের সব সেবা যাতে এর মধ্যে থাকে, তার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমরা এর আগে সেবার ক্ষেত্রে প্রবেশগম্যতার দিকে বেশি সফল হলেও দক্ষতা বাড়ানোর দিকে ততটা সফল হতে পারিনি। আমরা কোয়ালিটি স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান করেছি। জাতিসংঘের উদ্যোগ ‘এভরি মাদার, এভরি নিওনেটস’-এর জন্য যে নীতিমালা আছে, তার আলোকে পাইলট করছি। আগামী সেক্টর প্রোগ্রামে দক্ষতা কার্যক্রমের জন্য মনোযোগ দিতে হবে। এতে জনবলের প্রয়োজন হবে। আমাদের নীতি, কর্মসূচি সব ঠিক আছে। সমগ্র স্বাস্থ্য-ব্যবস্থাপনায় গভর্ন্যান্সকে গুরুত্ব দিতে হবে। লোক থাকে না, কাজ করে না—এসব সমস্যার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং কার্যক্রম আলাদা উইং হিসেবে পরিচালিত হোক।

মোহাম্মদ শরীফ

default-image

ইউনিয়ন হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার সেন্টারে সপ্তাহে ২৪ ঘণ্টা প্রসূতিসেবা চালু করেছি। এসব কেন্দ্রে ২০১৪ সালে ৫৭ হাজার প্রসব হয়েছে। ২০১৫ সালে ১ লাখ ১৭ হাজার প্রসব হয়েছে। পরিস্থিতি উন্নত হচ্ছে। সেখানে ডেলিভারি কিটস দিচ্ছি। সরকারি খাত থেকে স্যানিটারি প্যাডসহ ১৫টি আইটেম বিনা মূল্যে দিচ্ছি।
ইউএনএফপিএ প্রথমে সহায়তা করেছিল, পরে এখন সরকার দিচ্ছে। আমাদের ৪ হাজার ৮০০ পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা আছেন। এঁদের মধ্যে ৩ হাজারের মতো গ্র্যাজুয়েট বা মাস্টার্স অথবা কমপক্ষে এইচএসসি পাস। তাঁদের ১৮ মাসের প্রশিক্ষণ আছে, ছয় মাসের মিডওয়াইফারি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এক বছর মিডওয়াইফারি প্রশিক্ষণ দিয়ে একটি ক্যাডারে আনা গেলে মানসম্মত প্রয়োজনীয় সংখ্যক মিডওয়াইফ তৈরির জন্য ৬০ বছর অপেক্ষা করতে হবে না।
ছয় মাসের প্রশিক্ষণে অবেদনবিদ, প্রসূতি বিশেষজ্ঞরা দক্ষ হতে পারেন না। গ্রামগঞ্জে গিয়ে কেউ অস্ত্রোপচার করতে পারেন না। কেউ অ্যানেসথেশিয়া দিতে পারেন না।
শুধু মায়েদের জন্য নির্ধারিত আলাদা অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া প্রয়োজন। লোক কোথায় আছে বা নেই, আমি তার প্রতিবেদন দেব, কিন্তু প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে হবে না।

স্টেফানো সাভি

default-image

আমাদের টার্গেট করে কাজ করতে হবে। টার্গেট করতে হবে পিছিয়ে পড়া এলাকা ও জনগোষ্ঠীর দিকে। সিলেট, বরিশাল, চট্টগ্রাম পিছিয়ে আছে। তাই এই তিন জেলার দিকে কেন নজর বাড়ানো হবে না? আর ঢাকায় বসে সব কাজ করলে হবে না। বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে দায়িত্বের বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। এই তিন জেলায় বাজেট বাড়ানো প্রয়োজন। কর্মসূচি নিতে হবে। তাহলেই আমরা লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একা সব দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। মাতৃমৃত্যুর পেছনে প্রত্যক্ষ কারণের পাশাপাশি পরোক্ষ কারণও কাজ করছে। বাল্যবিবাহ, স্কুল থেকে ঝরে পড়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবসহ নানা কারণে মাতৃমৃত্যু ঘটছে। এসব ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি অন্যান্য মন্ত্রণালয়েরও ভূমিকা আছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের একসঙ্গে সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।

মোহাম্মদ নাসিম: বাল্যবিবাহ একটি সমস্যা। এর পেছনে নারীর নিরাপত্তার অভাববোধ ও দারিদ্র্য জড়িত। গণমাধ্যমকে এ নিয়ে কাজ করতে হবে। ১৮ বছর বয়সের আগে বিয়ে–বিষয়ক কোনো আইন আমরা করতে যাচ্ছি না। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নারীর ক্ষমতায়নকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আমরা চেষ্টা করছি। পরিবারে নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা থাকলে বাল্যবিবাহ বন্ধ হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আছে। নিরাপদ প্রসবের ব্যবস্থা করব। এনজিও, দাতাগোষ্ঠী কাজ করছে, সমন্বিতভাবেই কাজ হচ্ছে। দেশ উন্নতি করছে, কারণ আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করছি।

মিডওয়াইফদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসক, মিডওয়াইফসহ যিনি কাজ করবেন না, দায়িত্ব পালন করবেন না, তাঁকে বদলি করে দেওয়া হবে। জুনে আড়াই শ তরুণ চিকিৎসক নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন। এই চিকিৎসকদের অবেদন (অ্যানেসথেশিয়া) করার বিষয়ে এক বছরের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদের অবেদনবিদ হিসেবে গ্রামে নিয়োগ দেওয়া হবে।

৫৩টি জেলায় মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার স্কিম চালু করেছি। জুনে অ্যাম্বুলেন্স দিতে যাচ্ছি, চেষ্টা করব একটি অ্যাম্বুলেন্স যেন শুধু প্রসূতি মায়েদের জন্য দিতে পারি। অামি চাই প্রসূতি মায়েরা নিরাপদে প্রসব করতে পারুক। এক হাতে হবে না, সবার হাতকে এক করতে হবে।

আব্দুল কাইয়ুম: গ্রামাঞ্চলে প্রসূতির মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব বাড়াতে হবে। দেশের কমিউনিটি ক্লিনিকসহ স্থানীয় সেবাকেন্দ্রের অবকাঠামো ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট সবাই এ বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন বলে আশা করি। প্রথম আলোর পক্ষ থেকে সবাইকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

যাঁরা অংশ নিলেন

মোহাম্মদ নাসিম                  :  এমপি, মন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়

বেনোইত পিয়েরে লারমি      :  হাইকমিশনার, কানাডা

আসাদুল ইসলাম                 :  মহাপরিচালক, হেলথ ইকোনমিকস ইউনিট, স্বাস্থ্য ও প​রিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়

মোহাম্মদ শরীফ                  :  পরিচালক (মা ও শিশু), লাইন ডিরেক্টর (এমসিআরএইচ), পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর

এ ই মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ওসমানী:যুগ্ম প্রধান (পরিকল্পনা), স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়

জো হাউউন গুই                  :  ক​ান্ট্রি ডিরেক্টর, কোরিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা)

স্টেফানো সাভি                   :  ডেপুটি রিপ্রেজেনটেটিভ (ভারপ্রাপ্ত), ইউনিসেফ

লিয়েন কুপেন্স                    :  স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান, ইউনিসেফ

সিলভিয়া ইসলাম                :  জ্যেষ্ঠ উন্নয়ন উপদেষ্টা, হাইকমিশন, কানাডা

শামস এল আরিফিন            :  জ্যেষ্ঠ পরিচালক, মা ও শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ (আইসিডিডিআরবি)

আজিজুল আলিম                 :  স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার

ইশতিয়াক মান্নান                :  পরিচালক (স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং এইচআইভি এইডস), সেভ দ্য চিলড্রেন

আন উনইয়াং                      :  স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল            কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা)

ফারহানা দেওয়ান               :  মহাসচিব, স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞদের সংগঠন

উম্মে সালমা জাহান             :  টিম লিডার (হেলথ সিস্টেম স্ট্রেনদেনিং), ইউএসএআইডি

শামিনা শারমীন                  :  মাতৃস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, ইউএনএফপিএ

রোশনি বাসু                       :  জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট,ইউনিসেফ

রিয়াদ মাহমুদ                     :  স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, ইউনিসেফ

সঞ্চালক

​লিয়েন কুপেন্স            : স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান, ইউনিসেফ

আব্দুল কাইয়ুম           : সহযোগী সম্পাদক, প্রথম আলো

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন