default-image

বিশাল একটি ‘ক’ দাঁড়িয়ে আছে মাঠের মাঝখানে। নাম মস্ত বর্ণ। সকালের সাদা ‘ক’ বিকেল হতেই হয়ে ওঠে রঙিন। শিশু-কিশোরেরা নানা রঙে নানা বর্ণে ভরিয়ে তোলে ‘ক’-কে। লেখার পাশাপাশি চলে বর্ণের সঙ্গে সেলফি তোলাও।
চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে গতকাল শনিবার দিনভর বর্ণ নিয়ে মেতেছিল শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের কারও কপালে বর্ণ, কারও বা পোশাকে ছিল বর্ণ। মঞ্চে অতিথিদের কথা, শিল্পীদের গানেও ছিল বর্ণমালার জয়গান।
মূল আয়োজনে ছিল বর্ণ প্রদর্শনী, বর্ণ নিয়ে নানা প্রতিযোগিতা, গান, নাচ, জাদু, নাটক। আরও ছিল হাতের লেখা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা।
বাংলা বর্ণ, ভাষা ও ভাষা আন্দোলনের মহিমা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে বর্ণমেলা নিয়ে চট্টগ্রামে এটি ছিল প্রথম আলোর চতুর্থ আয়োজন। এবার এ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয় সার্ফ এক্সেল।
শিশুদের রং-তুলিতে উঠে আসে শহীদ মিনার, জাতীয় পতাকা, ভাষা আন্দোলনের চিত্র। কেউ ডাল দিয়ে, কেউবা চাল দিয়ে, কেউবা প্রদীপ দিয়ে বর্ণ তৈরি করেও প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
সকালে মেলা মাঠে প্রতীকী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে বর্ণমেলার উদ্বোধন করেন শহীদজায়া বেগম মুশতারী শফী। এ সময় রক্তকরবীর শিল্পীরা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। ওড়ানো হয় বর্ণখচিত বেলুন। উদ্বোধনী আয়োজন চ্যানেল নাইনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। উদ্বোধনী বক্তব্যে মুশতারী শফী বলেন, ‘জীবন দিয়ে আমরা মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করেছি। পেয়েছি বর্ণমালা। একুশের চেতনা ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। রক্ষা করতে হবে বর্ণমালা, মা ও দেশের মান। শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায়।’

default-image

প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, ‘একুশের চেতনা এবং বাংলা ভাষার চর্চা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে প্রথম আলো প্রতিবার এই বর্ণমেলার আয়োজন করে। আমাদের ভাষা আরও সমৃদ্ধ হোক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
উদ্বোধনের পর রক্তকরবীর শিল্পীরা ‘মোদের গরব মোদের আশা আ-মরি বাংলা ভাষা’সহ কয়েকটি দেশের গান গেয়ে শোনান।
মেলায় ছিল বর্ণ ভোজ, বর্ণে পোশাক, বর্ণ পণ্ডিত, বই বর্ণালি, বর্ণে ডাকটিকিট ইত্যাদি স্টল। নাগরদোলার নাম পাল্টে হয়ে যায় বর্ণদোলা। লম্বা লাইন দেখা যায়, বর্ণে হাসির ঝিলিক নামের স্টল ও টি-শার্টে আঁকাআঁকির স্টলে। হাতেখড়ির স্টলে অনেক শিশু জীবনের প্রথম বর্ণ লিখেছে।
স্টলের লাইনে দাঁড়ানো প্রীতম নামে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্র বলে, ‘মেলায় এসে মন ভরে উঠেছে। এত বর্ণিল বর্ণ এখানে। খুব ভালো লাগছে।’
অনুষ্ঠানে শিল্পীদের গানেও ছিল বর্ণের কথা। মানস পাল চৌধুরী ‘অ আ আঙ্গুল বাড়াইয়া’ গান দিয়ে তাঁর পরিবেশনা শুরু করেন। গানে গানে মঞ্চ মাতিয়ে রাখেন ক্লোজআপ শিল্পী লিজা, নির্ঝর, পুলক ও ইমরান। পুলকের ‘একতারা বাজাইও না’, ‘চুমকি চলেছে একা পথে’ ইত্যাদি গানের সঙ্গে নেচেছেন দর্শকেরা। ইমরান ‘বলতে যেয়ে মনে হয়’সহ চারটি গান শোনান।
বৃন্দ পরিবেশনায় অংশ নেয় অভ্যুদয় সংগীত অঙ্গন, খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগর ও প্রথম আলো বন্ধুসভার শিল্পীরা। নাটুয়ার ‘চেতনার বাতিঘর’ শীর্ষক দৃশ্যকাব্যটি মুগ্ধ করেছে দর্শকদের। বৃন্দ আবৃত্তি করে বোধন আবৃত্তি পরিষদ। একক আবৃত্তি করেন রাশেদ হাসান ও আয়েশা হক। পাপেট শো উপভোগ করেছে শিশুরা। রাজীব বসাকের জাদুও মন কেড়েছে।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রথম আলোর সহকারী বার্তা সম্পাদক ওমর কায়সার। পুরস্কার তুলে দেন শিল্পী আহমেদ নেওয়াজ, ডিজাইনার রওশন আরা, সুলতানা নূরজাহান ও নাজমা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পূজা। পুরো আয়োজনে সহায়তা দেয় প্রথম আলো বন্ধুসভা।

default-image

যারা পুরস্কার পেয়েছে: বর্ণ প্রদর্শনী প্রতিযোগিতায় ক বিভাগে শ্রেয়ন্তী শ্রেষ্ঠা নন্দী প্রথম, তাহিয়া জেবুন দ্বিতীয় ও মাহির আশহাব তৃতীয় হয়েছে। খ বিভাগে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে ফাইরুজ। রাইসা তাফান্নুম দ্বিতীয়, তৃতীয় হয়েছে ওশিন। গ বিভাগে প্রথম মো. তাওহীদুল ইসলাম ভূঁইয়া, দ্বিতীয় শারিবা তাসনিম ও তৃতীয় হয় মনন মাহফুজ।
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় ক বিভাগে প্রথম হয়েছে কৃতিদীপা দাশ। মুরাদ পারভেজ দ্বিতীয় ও তাহিয়া আনজুম তৃতীয় হয়েছে। খ বিভাগে প্রথম হয় সাজ্জাদুল ইসলাম। সারাহ তারান্নুম দ্বিতীয় ও সৌমিলি বড়ুয়া তৃতীয় হয়েছে। গ বিভাগের তিন সেরা হলো যথাক্রমে আহমেদ নাফিস, মোহাম্মদ মুফরাত হোসেন ও নাহিয়ান ফাইরোজ।
সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতায় ক বিভাগে মাইশা নাহিয়ান প্রথম, ফাইরুজ সালওয়া দ্বিতীয় ও তাসনিয়া হাবিব তৃতীয় হয়েছে। খ বিভাগে প্রথম হয়েছে নাফিজা জরিন নিশিতা প্রথম, আদিবা বিনতে আনোয়ার দ্বিতীয় ও তাসনুভা তাসনিম তৃতীয় সেরার পুরস্কার পেয়েছে। গ বিভাগে ঋতঙ্কর বিশ্বাংগারি প্রথম, তাসফিয়া আলম দ্বিতীয় এবং তৃতীয় হয়েছে ইশরাত জাহান।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন