বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাসাভাড়ার বাড়তি টাকা কোথায় পান, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জীবন চলছে না বাজান। কাজ শেষে বোতল টোকাই। ৫০ থেকে ৬০ টাকা পাই।’ শুধু একবেলা ভাত জুটে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যে বাসায় কাজ করি, তারা এক দিন করে খাওন দেয়। আর রাতে চিড়া-মুড়ি খেয়ে শুয়ে থাকি।’

গতকাল সকালে শিয়া মসজিদ ঢাল এলাকায় সালেহা খাতুনের মতো আরও অন্তত ৫০ জন নারী-পুরুষ ফুটপাতে বসে ছিলেন। তাঁরা সবাই টিসিবির ট্রাকের জন্য অপেক্ষা করছেন বলে জানালেন। যাতে পণ্য কেনার সুযোগ পান, এ জন্যই সকাল থেকে ট্রাক আসার নির্ধারিত স্থানে এসে তাঁদের এই অপেক্ষা। তাঁদের কেউ কেউ সকাল ৬টা বা এরও আগে সেখানে যান।

টিসিবির ভ্রাম্যমাণ ট্রাক সেল কার্যক্রমে সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১০০ টাকা, চিনি ও ডাল প্রতিকেজি ৫৫ এবং পেঁয়াজ প্রতিকেজি ৩০ টাকায় কেনা যায়।

সরেজমিন দেখা যায়, ট্রাকের জন্য অপেক্ষাকারীরা নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করতে রাস্তায় ইট দিয়ে বৃত্তাকার চিহ্ন এঁকেছেন। বৃত্তাকার চিহ্নের ভেতর নিজেদের স্যান্ডেল, ইট অথবা কংক্রিটের টুকরাও রেখেছেন কেউ কেউ। কারও কারও আবার বাজারের ব্যাগ রেখে দেওয়া। দুপুরের দিকে আসে অপেক্ষার সেই টিসিবির ট্রাক।

সেখানে ট্রাক সেলের দায়িত্বে থাকা টিসিবির পরিবেশক আফজাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, গুদাম থেকে পণ্য নিয়েছেন বেলা ১১টায়। এ জন্য নির্ধারিত স্থানে যেতে দেরি হয়েছে। পর্যাপ্ত পণ্য না থাকায় বেশির ভাগ মানুষকে খালি হাতে ফিরে যেতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

গতকাল বেলা একটার দিকে গুলশানের নর্দা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, টিসিবির ট্রাকের পেছনে তখনো কয়েক শ মানুষ পণ্য কেনার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে। পরিবেশকের প্রতিনিধিরা বলেন, সকাল ১০টা থেকে পণ্য বিক্রি শুরু করেছেন। আর ততক্ষণে ট্রাকপ্রতি বরাদ্দ করা পণ্যের অর্ধেকের বেশি বিক্রি হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন