বিজ্ঞাপন

তবে এমন ঘটনায় বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই বলে জানালেন সখীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুল জলিল। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, হরমোনের কারণে এমনটা হয়। ঘটনাটি ভিন্ন রকম মনে হলেও ওই দুধ পুরোপুরি স্বাস্থ্যসম্মত। এ ধরনের ঘটনা দেশে আগেও ঘটেছে। অতএব আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।
খোরশেদের স্ত্রী মর্জিনা আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি গাভি পালন করছেন। ১০ মাস আগে তাঁর পালিত বিদেশি জাতের গাভিটির বাছুর হয়। আনুমানিক ২০ দিন আগে তিনি ১০ মাস বয়সী বাছুরকে গোসল করাতে গেলে গরুটির ওলান ফোলা দেখে ধারণা করেন, এর ওলানে দুধ জমেছে। তিনি তাৎক্ষণিক গরুটির ওলান থেকে দুধ সংগ্রহ করেন। প্রথম কয়েক দিন আধা লিটার দুধ পান তিনি।

এখন দুধের পরিমাণ বেড়েছে। এখন দিনে তিন লিটার দুধ সংগ্রহ করেন তিনি। খবরটি প্রথমে প্রথম আলোতে আসার পর বাড়িতে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক ও বিভিন্ন গ্রাম থেকে লোকজন ছুটে আসছেন। কেউ কেউ ওই দুধ কিনে নিতে চাইছেন। তবে তিনি অল্প অল্প করে খাওয়ার জন্য বিনা মূল্যেই দুধ দিচ্ছেন। প্রথম প্রথম ভালো লাগলেও এত লোকজন বাড়িতে ভিড় করায় এখন বিরক্ত বোধ করছেন তাঁরা।

খোরশেদ আলম বলেন, ঝিনাইদহ থেকে একজন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক মুঠোফোনে ওই গরুটি কেনার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে খোরশেদ গরুটি বিক্রি করতে নারাজ।

বৃহস্পতিবার সকালে খোরশেদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ওই বাছুরটি দেখতে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে কেউ মোটরসাইকেল বা কেউ অটোভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে হাজির হয়েছেন। দর্শনার্থীদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী, শিশু ও বৃদ্ধ বয়সের। ঘাটাইলের ধলাপাড়া গ্রামের আবদুস সবুর তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে এসেছেন। কেন এত দূর থেকে এত সকালে এ বাড়িতে এসেছেন জানতে চাইলে সবুর প্রথম আলোকে বলেন, ‘২২ বছর ধরে বিয়ে করেছি। আমাদের সন্তান হচ্ছে না। কেউ একজন বলেছেন এ গরুর দুধ খেলে সন্তান হবে। আমার বিশ্বাস না থাকলেও আমার স্ত্রীর আত্মবিশ্বাস বেশি। স্ত্রীর কারণেই এসেছি।’

উপজেলার হলুদিয়া চালা গ্রামের আলম মিয়া বলেন, ‘বাছুর গরুটি বাচ্চা দেয়নি, তবু দুধ দিচ্ছে, এমন খবর শুনে গরুটি দেখতে এ বাড়িতে এসেছি।’ একই গ্রামের সাজেদা খাতুন একই কথা জানালেন।

উপজেলার প্রতিমাবংকী গ্রামের জুলেমন নেছা অটোভ্যান ভাড়া করে ওই বাছুর দেখতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘মাত্র ১০ মাস বয়স। বাচ্চা প্রসব ছাড়াই দুধ দেওয়ার ঘটনা, এটা আশ্চর্যজনক। তাই দেখতে এসেছি।’

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুল জলিল প্রথম আলোকে বলেন, ওই বাছুর গরুর পাশে এত লোকের ভিড় জমানো ঠিক নয়। বেশি লোকের সংস্পর্শে এলে গরুটির অসুখ হতে পারে। কেউ দেখতে চাইলে দূর থেকে দেখে চলে যাওয়া ভালো। ভিড় থাকলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণও বৃদ্ধি পেতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন