দুপুর ১২টা। গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে তেমন ভিড় নেই। রাজশাহীগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাসে উঠে পড়লাম। উদ্দেশ্য, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল চৌরাস্তা পর্যন্ত যাওয়া। ৪০ সিটের গাড়িতে মোট যাত্রী হলেন ২১ জন।
এই পথে সাধারণত সাভার, নবীনগর ও চন্দ্রা মোড়ে যানজট পড়ে। গতকাল তেমন একটা যানজট ছিল না। তবে সড়কের দুই পাশ দিয়েই প্রচুর গাড়ি চলতে দেখা গেছে। গাড়ির সহকারী মোমিনুল বললেন, হরতাল-অবরোধের শুরুর দিকে এই পথে তাঁরা গাড়ি চালাননি। এরপর মাঝে মাঝে চলেছে। তবে ফেব্রুয়ারিতে গাড়ি চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে।
বেলা পৌনে তিনটার দিকে গাড়ি যখন টাঙ্গাইল বাইপাস ক্রস করল, তখন সুপারভাইজার জামিলকে কেউ একজন ফোন করলেন। ফোন রেখে সুপারভাইজার জানালেন, তাঁদের অফিস থেকে বলা হয়েছে, খালেদাকে (বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া) গ্রেপ্তার করা হতে পারে। তাহলে ভাঙচুর হবে। পরিস্থিতি খারাপ হলে গাড়ি বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত যাবে।
জামিল আরও জানালেন, মূলত সিরাজগঞ্জ থেকেই সমস্যা শুরু হয়। আর এটা রাজশাহী পর্যন্ত চলতে থাকে। কোন সময় কোথা থেকে যে বোমা মারবে, বলা মুশকিল। যমুনা সেতুতে এসে চালক সিরাজগঞ্জের দিক থেকে আসা কয়েকজন গাড়িচালকের সঙ্গে কথা বললেন। তাঁরা জানালেন, রাস্তায় পুলিশ আছে। কোনো সমস্যা নেই। বাসচালক বললেন, সিরাজগঞ্জে কড্ডা মোড়টা ভালো না। এই জায়গার আশপাশে মাঝে মাঝে গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
যমুনা সেতু পার হতে টোল পয়েন্টের কাছে দাঁড়িয়ে ছিল আড়ং দুধের দুটি গাড়ি। চালক রবিউল বললেন, মিল্ক ভিটার গাড়িও এখন যাচ্ছে। আগে পুলিশের সহায়তায় যেতে হতো, এখন আর লাগছে না। কোনো অঘটন ছাড়াই বিকেল সোয়া চারটার দিকে হানিফ পরিবহনের গাড়িটি এসে থামল হাটিকুমরুল চৌরাস্তায়। এই চৌরাস্তা থেকে ডান দিকে গেলে বগুড়া আর সোজা গেলে নাটোর-রাজশাহী। দুটি সড়কই ঝুঁকিপূর্ণ।
হাটিকুমরুলে হানিফ হাইওয়ে রেস্টুরেন্টে ২০ মিনিটের যাত্রাবিরতি। সেখানে কথা হলো কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে। এঁদের একজন সাইফুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করেন। তিনি বলেন, ওপর থেকে মনে হয় পরিস্থিতি স্বাভাবিক, কিন্তু যাঁরা বাইরে বের হন, তাঁদের পরিবারগুলো সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় ভোগে। তিনি জানালেন, বিশ্ববিদ্যালয় খোলা আছে। কিন্তু মূল কাজ ক্লাস হচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন