বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আজ বিকেলে বা সন্ধ্যার কোনো এক সময়ে দুই পক্ষের আলোচনায় বসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশি মার্কিন নাগরিক ইমরান শরীফের সঙ্গে জাপানি নাগরিক এরিকো নাকানোর বিয়ে হয় ২০০৮ সালে। তাঁদের তিন সন্তান রয়েছে। একাধারে এই সন্তানদের বাংলাদেশ, জাপান ও আমেরিকার নাগরিকত্ব আছে বলে জানিয়েছেন সন্তানদের বাবা ইমরান শরীফ।
মা–বাবা দুজনই সন্তানদের জিম্মা চেয়ে আদালতে গেছেন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে এরিকো নাকানো বিয়ে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু করেন। তবে এখনো তাঁদের আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ হয়নি।
সন্তানদের অবস্থা নিয়ে দ্বিমুখী বক্তব্য
উইমেন সাপোর্ট সেন্টার কেমন? এমন প্রশ্নের জবাবে পাল্টা প্রশ্ন করেন এরিকো। তিনি জানতে চান, ‘আপনাদের কী মনে হয়?’
এরপর তিনি বলেন, পাঁচ তারকা হোটেলের মতো ব্যবস্থাপনা নেই। তবে জায়গাটি পরিষ্কার ও নিরাপদ। তারা ভাল আছে। তিনি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান।

default-image

এর আগে আইনজীবী শিশির মনির জানান, আজই প্রথম সন্তানেরা উইমেন সাপোর্ট সেন্টারে গোসল করেছে। এরিকো বলেন, তিনি এ বিষয়ে জানতেন না।
এদিকে ইমরান শরীফ বলেছেন, তাঁর সন্তানেরা ভালো নেই। তারা শৌচাগারে যাওয়ার ভয়ে পানি খায় না। গোসলও করে না। খুবই বিষণ্ন হয়ে আছে।
এরিকো নাকানোর আইনজীবীর বক্তব্য
শিশির মনির এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন, গত কয়েক দিনের আলোচনায় কিছু বিষয় উঠে এসেছে।
এর মধ্যে জাপানে ফ্ল্যাট কেনা, বিবাহবিচ্ছেদ ও পারিবারিক সংস্কৃতি উল্লেখযোগ্য। তাঁর মক্কেল ব্যক্তিগত অভিযোগ জনসম্মুখে প্রকাশ না করতে চেষ্টা করেছেন।
কিন্তু উত্থাপিত বিষয়ের ভদ্রোচিত জবাব দিতে চান। তা না হলে এ নিয়ে ধূম্রজাল তৈরি হতে পারে।
ফ্ল্যাট কেনা প্রসঙ্গে নাকানো বলেন, ২০১২ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত টোকিওতেই একটি অ্যাপার্টমেন্টে ছিলেন। ওই অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ছিল চার হাজার ডলার।
ইমরানের প্রতিষ্ঠান ইউনিকা ওই অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া দিত।
জাপানি সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে ফ্ল্যাটটি তাঁদের ছেড়ে দিতে হয়। ক্ষতিপূরণ হিসেবে সরকার দুই লাখ ইউএস মার্কিন ডলার দেয়। এর ৫০ শতাংশ আয়কর হিসেবে কেটে রাখা হয়। বাকি টাকা নাকানোর ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা ছিল। এর অর্ধেক নতুন বাসার সংস্কারে ব্যয় হয়।

নাকানো বলেছেন, পরে তাঁরা যে অ্যাপার্টমেন্টে ওঠেন, সেটি তিনি ও ইমরান দুজনে মিলে কেনেন। এর দাম ছিল ২৩ লাখ মার্কিন ডলার।
ইমরান ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।‌ ‌‌‌‌তিনি ঋণ পাননি। সে কারণে নাকানো এরিকো তাঁর বাবা কাজোয়ার সহযোগিতা নেন। কাজোয়া ফ্ল্যাটের ৬০ শতাংশ টাকা শোধ করেন। বাকিটা ব্যাংকঋণ নিয়ে দেন।
ফ্ল্যাটটি কাজোয়ার নামে। তাঁর সঙ্গে ইমরান মাসিক সাত হাজার ডলার পরিশোধের চুক্তি করেন। ইমরান পাঁচ হাজার ও নাকানো দুই হাজার ইউএস ডলার দিতেন। কাজোয়ার বয়স ৭৫ বছর। তাঁর মৃত্যুর পর ইমরানের পরিবার উত্তরাধিকার সূত্রে ফ্ল্যাটটি পেতেন।
২০২০ সালের মে পর্যন্ত ইমরান ঋণ শোধ করেন। এরপর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টাকা দেননি। অক্টোবরে তিনি ২ হাজার ৬০০ ডলার শোধ‌ করেন। এরপর আর টাকাপয়সা দেননি। এ নিয়ে কাজোয়া আদালতে মামলা করেছেন।
এখন পর্যন্ত তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। ইমরান ও নাকানো দুজন দুই ধর্মমতেই বিয়ে করেছেন।

ইমরান যা বললেন
আইনজীবীর পাঠানো বিবৃতি সম্পর্কে বলেন, কিছু তথ্য সত্য, কিছু আংশিক মিথ্যা ও কিছু ডাহা মিথ্যা।
বিলাসবহুল‌ ফ্ল্যাট তাঁর সম্মতিতে কেনা হয়নি। ওই ফ্ল্যাটে তাঁর কোনো মালিকানা নেই। এক কাপড়ে বাসা থেকে তাঁকে বের করে দেন নাকানো এরিকো।
সন্তানদের পাসপোর্ট শুধু তিনিই নতুন করে তৈরি করাননি, নাকানো এরিকোও করেছিলেন।
নাকানো এরিকোর অভিযোগ স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ইমরান তাঁর দুই সন্তানকে তুলে নিয়ে যান এবং নতুন পাসপোর্ট করিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে যান। জাপানি আদালত সন্তানেরা মায়ের জিম্মায় থাকবে বলে রায় দেন। এক সন্তানকে জাপানে রেখে তিনি শ্রীলঙ্কা হয়ে বাংলাদেশে আসেন।
৩১ আগস্ট সন্তানসহ উচ্চ আদালতে হাজির করার কথা ছিল। এর আগেই ২২ আগস্ট পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বারিধারায় ইমরানের বাসা থেকে সন্তানদের নিয়ে আসেন। সে রাত থেকেই দুই সন্তান উইমেন সাপোর্ট সেন্টারে আছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন