প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে এ আদর্শ সামনে রেখে এগিয়ে যেতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার সকালে মিরপুর ক্যান্টনমেন্টে সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজের ২০১৪-১৫ কোর্সে স্নাতক ডিগ্রি প্রদান অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তৃতায় এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজের কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল সাজ্জাদুল হক স্বাগত বক্তব্য দেন। খবর বাসসের।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। বিশ্বশান্তি রক্ষা এবং সব ধরনের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত সুস্পষ্ট। এ আদর্শকে সামনে রেখে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে এগিয়ে যেতে হবে। সশস্ত্র বাহিনীকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের মূর্ত প্রতীক হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়ন ও কল্যাণের জন্য যা যা করার দরকার, আমরা সবই করব, ইনশা আল্লাহ।
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর গত সরকারের মেয়াদে ফোর্সেস গোল ২০৩০-এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে বহু উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে। এবারও সরকার গঠনের পর উন্নয়নের এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের সম্পদ সীমিত। আর এ সীমিত সম্পদ দিয়েই আমরা একটি যুগোপযোগী, দক্ষ ও শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্য অর্জনে উন্নত প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, শুধু দেশেই নয়, বহির্বিশ্বেও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে প্রশংসা ও সুনাম অর্জন করেছেন। তাঁরা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা, গণতন্ত্রে উত্তরণ, সামাজিক উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনাসহ পুনর্গঠন কার্যক্রমে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাঁদের সাফল্যে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হয়েছে।
শেখ হাসিনা সফলভাবে কোর্স শেষ করার জন্য স্নাতক ডিগ্রি অর্জনকারী কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, পিএসসি ডিগ্রি সশস্ত্র বাহিনীর যেকোনো অফিসারের জন্যই গৌরবের বিষয়।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী ২০১৪-১৫ কোর্সের স্নাতক ডিগ্রিপ্রাপ্তদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন।
এই কোর্সে মোট ২১৪ কর্মকর্তা স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১২০, নৌবাহিনীর ২৩ ও বিমানবাহিনীর ১৯ জন সদস্য আছেন। বাকি ৫২ জন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ সদস্যরা, তিন বাহিনীর প্রধানেরা, কূটনীতিক, পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন