দাউদকান্দির আলী আহমেদ মিয়াজী তখন মাত্র এসএসসি পাস করেছেন। বড় ভাই ডিগ্রি কলেজে স্নাতকে পড়েন। মিয়াজী ভাবতেন, তিনিও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পৌঁছাবেন। কিন্তু বিধি বাম। হঠাৎ মন্দা দেখা দেয় বাবার ব্যবসায়। পরিবারের লোকজন ভাবেন, বড় ছেলেটি তো কদিন বাদেই স্নাতক পাস করে চাকরি পাবেন, তখন তিনিই ধরতে পারবেন পরিবারের হাল। কিন্তু কাউকে তো এখন এই ঝড়ের ঝাপটা পোহাতে হবে। হাল ধরলেন মিয়াজী।

ভাবলেন লেখাপড়ার পাশাপাশি মাছ চাষ করার। পরামর্শ করলেন মা নিলুফা বেগমের সঙ্গে। তিনিও সায় দিলেন। সেই থেকে মাছ চাষ শুরু। ২০০০ সালে মায়ের জমানো দেড় লাখ টাকায় পারিবারিক তিনটি পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ শুরু করলেন। পরিবারের অনেকেই তাচ্ছিল্য করলেন। কতই-বা বয়স? কীই-বা করবে? তবে করে দেখালেন ছেলেটি।

২০০৭ সাল পর্যন্ত মাছের চাষ করেন মিয়াজী। প্রতিবছরই বাড়ে লাভ। মধ্যে দুই বছর কাটিয়ে আসেন মালয়েশিয়ায়। এরপর আবার ২০০৯-এ লেগে যান মাছ চাষে।

২০১৮ পর্যন্ত মিয়াজীর মাছের প্রকল্প এসে দাঁড়ায় ১ হাজার ১০০ বিঘা জমিতে। এখন প্রতিবছর ৫০ হাজার মেট্রিক টন মাছ চাষ হয় তাঁর খামারে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩২ কোটি টাকা। মিয়াজীর মাছের খামারে এখন কাজ করেন এলাকার অনেক যুবক।

স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে মিয়াজী এখন মাছ পাঠান ঢাকার যাত্রাবাড়ী, চিটাগাং রোড, মুগদা, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, লাকসাম, মিয়ারবাজার, সুয়াগঞ্জ, ফেনী, নোয়াখালী, বসুরহাট, চট্টগ্রামের বারইয়ারহাট, পাহাড়তলী ও ফিশারি ঘাটে। ১৯ বছরের টানা শ্রম বদলে ফেলেছে মিয়াজীর জীবন। পরিশ্রমী এই মাছচাষি ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় মত্স্য উত্পাদন পুরস্কার পেয়েছেন।

default-image

স্বপ্ন দেখেন দাউদকান্দিসহ আশপাশের উপজেলাগুলোর পতিত জমিগুলোতে মাছ চাষের। বলেন, একটি হিমাগার যদি তাঁর এলাকায় হতো, তাহলে মাছ চাষ আরও কত সহজ হতো!

মিয়াজীর এই সাফল্য দেখে এগিয়ে এসেছেন এলাকার অন্যরাও। এমনকি যাঁরা ভাবতেন ছেলেটি হয়তো পারবেন না, তাঁরাও আসেন মিয়াজীর কাছে সাহায্য চাইতে। মিয়াজী বলেন, যদি সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া যায়, এই এলাকার মাছ চাষ আরও অনেক বাড়বে।

সম্প্রতি সেরা খামারি (মৎস্য) ক্যাটাগরিতে তীর-প্রথম আলো কৃষি পুরস্কার ২০১৮ পেয়েছেন এই উদ্যমী মৎস্যচাষি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0