বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শুরুতে আদালত বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছিল। এ বিষয়ের কী হলো? তখন শিশুদের বাবার আইনজীবীদের সঙ্গে দুবার বসেছিলেন জানিয়ে শিশুদের মায়ের আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘প্রস্তাব নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। শিশুদের মা চান, বাচ্চা, ইমরান শরীফসহ তিনি যেমন ছিলেন, তেমন হতে। বিবাহবিচ্ছেদ প্রক্রিয়া তুলে নেওয়া, অর্থনৈতিক জটিলতার সমাধান ও ফৌজদারি কার্যধারা তুলে নিয়ে সমাধান করা হবে। এ পর্যন্ত কথা হয়েছে। স্যারও (রোকন উদ্দিন মাহমুদ) বলছেন, এর চেয়ে ভালো প্রস্তাব হতে পারে না। কিছুটা সময় লাগবে বলে স্যার (রোকন উদ্দিন মাহমুদ) বলেছেন।’

শিশুদের বাবার আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান বলেন, ‘উনি (মায়ের আইনজীবী) অফিসে আসেন ও বিস্তারিত কথা হয়। জানানো হয়, শিশুদের মা সমাধানে আগ্রহী। তবে আস্থা ফেরাতে কিছুটা সময় দরকার।’

আইনজীবীদের উদ্দেশে একপর্যায়ে আদালত বলেন, ‘সমাধানের সুযোগ থাকলে সময় নিতে পারেন। সময় নিয়ে চেষ্টা করলে একরকম। আপনারা সম্মত থাকলে একভাবে চিন্তা করা হবে, না হলে অন্যভাবে চিন্তা করতে হবে।’

তখন এক মাস সময়ের আরজি জানিয়ে আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান বলেন, এই সময়ের মধ্যে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে দুই পক্ষকে সামনাসামনি নিয়ে কথা বলা যেতে পারে।

তখন শিশুদের মায়ের আইনজীবী শিশির মনির বলেন, এভাবে সময় নেওয়া সমীচীন হবে? বিষয়টি সহানুভূতির দৃষ্টিতে দেখে সমাধান করা যায়? শুনানির একপর্যায়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘যতটুকু দেখেছি, কথা বলেছি—সমাধান হবে। আরেকটু সময় দিলে বিষয়টি সমাধানের দিকে এগোবে।’

এ সময় শিশির মনির বলেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় দিয়ে সমাধান করা যেতে পারে। তখন শিশুদের বাবার আইনজীবী মোস্তফিজুর রহমান খান বলেন, মিটমাটের প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে চান। বুধবার বিকেলে বা সন্ধ্যায় ক্লায়েন্টকে (বাবা) অফিসে আসতে বলা হবে। শিশির মনির তাঁর ক্লায়েন্ট (মা) নিয়ে আসতে পারেন। শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা ও প্রচেষ্টা থাকবে।

উভয় পক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশে আদালত বলেন, ‘বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি রাখা হলো। বুধবার বসতে পারেন কিনা দেখেন। শিশুরা আগের মতো এক দিন বাবার সঙ্গে পরদিন মায়ের সঙ্গে থাকবে।’

২০০৮ সালের ১১ জুলাই জাপানি নাগরিক নাকানো এরিকো ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ইমরান শরীফের বিয়ে হয়। তাঁদের তিন মেয়েসন্তান। গত ১৮ জানুয়ারি এরিকোর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন ইমরান। গত ২১ ফেব্রুয়ারি দুই মেয়েকে নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন ইমরান। পরে ছোট মেয়েকে তার নানির কাছে রেখে গত ১৮ জুলাই বাংলাদেশে আসেন এরিকো। ইমরানের কাছ থেকে ১০ ও ১১ বছর বয়সী দুই মেয়েশিশুকে ফিরে পেতে ঢাকায় এসে গত ১৯ আগস্ট আদালতে রিট করেন এরিকো।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন