বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সমতল জাতিগোষ্ঠীগুলোর জন্য পৃথক ভূমি কমিশনের দাবি জানানো হলেও সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। শুধু জমির একটি কাগজ না থাকার কারণে একজন নৃগোষ্ঠীকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এই কাগজটি দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কিন্তু রাষ্ট্র তার দায়িত্ব পালন করেনি।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, সারা দেশে বিভিন্ন জায়গায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত করা করা হচ্ছে। ‘ভূমিদস্যু’রা বিভিন্নভাবে প্রশ্রয় পাচ্ছে। সরকারকে তার নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লিখিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোর জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে।

পাহাড় ও সমতলের ভূমির সমস্যার মধ্যে পার্থক্য আছে, তাই সমাধানও সেভাবে করতে হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষণা সংস্থা আরডিসির চেয়ারপারসন অধ্যাপক মেজবাহ কামাল। তিনি বলেন, সিলেটের চা–বাগানের টিলাগুলো দখল হয়ে যাচ্ছে। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে ভূমি থেকে উচ্ছেদ করায় তাঁরা অমানবিক জীবন যাপন করছেন। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী মানুষের জমি-জলাভূমি-বনভূমির অধিকার নিশ্চিতকরণে স্থানীয় সরকার, স্থানীয় শাসন ও ঐতিহ্যগত শাসনকাঠামোর সর্বোচ্চ সমন্বিত পদক্ষেপ নিশ্চিত করা জরুরি।

ওয়েবিনারে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে বলেন, গত ১২ বছরে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোর জন্য ভূমি কমিশন গঠনের কোনো কাজই শুরু হয়নি। দ্রুত তাদের জন্য পৃথক কমিশন গঠন করতে হবে।

ওয়েবিনারে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যমকে সঙ্গে নিয়ে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোর একতাবদ্ধ হয়ে সমতল নৃগোষ্ঠীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশনের দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে আরও বক্তব্য দেন মৌলভীবাজারের খাসিয়া জাতিগোষ্ঠী নেত্রী ফ্লোরা বাবলী তালাং, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক রীনা রায়, এএলআরডির রফিক আহমেদ সিরাজী, নৃগোষ্ঠী নেতা অজয় প্রমুখ।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন